Published : 13 Apr 2026, 05:48 PM
পহেলা বৈশাখে কৃষক কার্ডের উদ্বোধনসহ নানা কর্মসূচিতে যোগ দিতে টাঙ্গাইলে আসছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তার আগমন ঘিরে উচ্ছ্বসিত জেলার সর্বস্তরের মানুষ।
সরকারের দায়িত্ব নেয়ার পর জেলা পর্যায়ে তারেক রহমানের এটি দ্বিতীয় সফর। তাকে বরণ করতে প্রস্তুত করা হচ্ছে টাঙ্গাইলের দুটি হেলিপ্যাড, শহীদ মারুফ স্টেডিয়াম, কৃষি মেলা, মজলুম জননেতা মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর মাজারসহ শহরের প্রধান প্রধান সড়ক।
এছাড়াও কয়েক স্তরের নিরাপত্তা জোরদার করতে বিভিন্ন গোয়েন্দা ইউনিটসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা তৎপরতা চালাচ্ছেন।
সোমবার টাঙ্গাইল শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে সমাবেশস্থল পরিদর্শন ও কাজের অগ্রগতি দেখতে যান কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, টাঙ্গাইল সদর আসনের সংসদ সদস্য ও মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এবং যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক।
কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেন, দেশের ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকদের জন্য সরকার চালু করতে যাচ্ছে ‘কৃষক কার্ড’। এর আওতায় কৃষকরা বছরে আড়াই হাজার টাকাসহ বিভিন্ন সুবিধা পাবেন।

তিনি বলেন, পহেলা বৈশাখে টাঙ্গাইল থেকে সারা দেশের ২৭ হাজার কৃষক কার্ড বিতরণের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক জিয়া।
তিন ধাপে পর্যায়ক্রমে সারা দেশের কৃষকদের হাতে এ কার্ড তুলে দেওয়া হবে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, প্রাথমিকভাবে টাঙ্গাইলসহ দেশের ১১টি স্থানে ‘প্রি-পাইলটিং’ হিসাবে কার্যক্রম শুরু হবে। পরে পাইলটিং ও পর্যায়ক্রমে সারা দেশে বিস্তৃত করা হবে।
পুরো প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রায় চার বছর সময় লাগতে পারে বলে জানান মন্ত্রী।
কৃষিমন্ত্রী আরও বলেন, “পহেলা বৈশাখে এ কর্মসূচির উদ্বোধন হওয়ায় দিনটি দ্বিগুণ তাৎপর্যপূর্ণ। একদিকে বাংলা নববর্ষের প্রথম দিন, অন্যদিকে দেশের প্রথম কৃষক কার্ড কর্মসূচির যাত্রা, যা টাঙ্গাইলসহ সারা দেশের জন্য একটি ঐতিহাসিক দিন।”
এসময় মৎস্য ও প্রাণীসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, “আগামীকালের (মঙ্গলবারের) কর্মসূচিকে ঘিরে টাঙ্গাইলের জনগণ অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত। এই জেলাতেই প্রধানমন্ত্রী কৃষক কার্ড কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন, যা একটি ঐতিহাসিক ঘটনা।
টাঙ্গাইলবাসীকে ‘অনেক ভাগ্যবান’ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “মজলুম জননেতা আবদুল হামিদ খান ভাসানী কৃষকদের দাবি আদায়ের জন্য জমিদার প্রথার বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছেন। তার স্মৃতিবিজড়িত টাঙ্গাইলে কৃষক কার্ড উদ্বোধন হওয়া গর্বের বিষয়।

“এ কর্মসূচিতে দল-মত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই অংশগ্রহণ করবেন। আশা করি এটি একটি স্মরণীয় অনুষ্ঠান হবে এবং সর্বোচ্চ উপস্থিতি থাকবে।”
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইল-২ আসনের সংসদ সদস্য ও সাবেক উপমন্ত্রী এবং বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম পিন্টু, কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব রফিকুল ই মোহামেদ, জেলা প্রশাসক শরীফা হক, টাঙ্গাইল জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট এসএম ওবায়দুল হক নাসির, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শামসুল আলম সরকার।
সিটি করপোরেশন গঠন, বিমানবন্দর চালুর দাবি
এদিকে, প্রধানমন্ত্রীর আগমনের খবরে বিএনপি নেতাকর্মীদের মাঝে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। প্রিয় নেতাকে দেখার জন্য উন্মুখ হয়ে আছেন তারা। শহরজুড়ে চলছে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও শোভাবর্ধনের কাজ। স্টেডিয়ামে মঞ্চ ও প্যান্ডেল তৈরির কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে।
প্রধানমন্ত্রীর কাছে টাঙ্গাইলে সিটি করপোরেশন, পরিত্যক্ত বিমানবন্দর চালু, যমুনা নদীতে স্থায়ী বেড়িবাঁধসহ নানা দাবি তুলে ধরা হবে বলে জানিয়েছে দলের নেতাকর্মীরা।
জেলা যুবদলের আহ্বায়ক খন্দকার রাশেদুল আলম রাশেদ ও জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুর রহমান খান শফিক বলেন, টাঙ্গাইলকে সিটি করপোরেশনে রূপান্তরের জন্য আমরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে দাবি জানাব।
“শহরের পরিত্যক্ত এয়ারপোর্টটি ফের চালু করা, যমুনা নদীতে স্থায়ী বেড়িবাঁধ তৈরি, ভাসানী হল পুনর্নির্মাণ ও সরকারি সা’দত কলেজকে পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় করার দাবিও জেলাবাসীর পক্ষ থেকে তুলে ধরা হবে।”
এছাড়াও বেকার সমস্য দূর করতে শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলার জন্য দাবি জানানো হবে বলে জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের এই সফর জেলার সার্বিক উন্নয়নের পাশাপাশি দলীয় কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করবে, এমনটি প্রত্যাশা নেতাকর্মীদের।
কয়েক স্তরের নিরাপত্তা
এ দিকে প্রধানমন্ত্রীকে নিরাপত্তা দিতে কয়েক স্তরের ব্যবস্থা নিয়েছে প্রশাসন। পুলিশ সুপার শামসুল আলম সরকার বলেন, প্রধানমন্ত্রীর অনুষ্ঠানস্থল ও আশপাশের এলাকায় চার স্তরের কঠোর নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থান নেওয়া হয়েছে।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সঞ্জয় কুমার মহন্ত জানান, সফর সফল করতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।
সফরসূচি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী মঙ্গলবার সকাল ১০টায় টাঙ্গাইলে পৌঁছে মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর মাজার জিয়ারত করবেন।
এরপর সাড়ে ১০টায় জেলা স্টেডিয়ামে কৃষকদের মাঝে ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণের মাধ্যমে দেশব্যাপী এ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন।
পরে সেখানে কৃষক সমাবেশে প্রধান অতিথির ভাষণ দেবেন। ভাষণ শেষে পৌর উদ্যানে কৃষিমেলার উদ্বোধন করবেন।