Published : 09 Apr 2026, 11:02 AM
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বগুড়া-৬ (সদর) আসনের উপনির্বাচনের ভোট গ্রহণ শুরু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকালেই নিজ নিজ কেন্দ্রে ভোট দিয়েছেন বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী। ভোট দেওয়া শেষে নিজেদের জয়ের ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন উভয় প্রার্থী।
সকাল সাড়ে ৭টার দিকে বিএনপির মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী রেজাউল করিম বাদশা শহরের হাসনা জাহান (ভান্ডারি) বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় শিববাটি কেন্দ্রে তার ভোট প্রদান করেন।
পরে তিনি বলেন, “বগুড়া-৬ জিয়া পরিবারের আসন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ছেড়ে দেওয়া আসন। জয়ের ব্যাপারে তাই আমরা শতভাগ আশাবাদী।”
তিনি আরও বলেন, “অবাধ সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন চলছে। এখন পযন্ত কোনো বাধা বিঘ্ন হয়নি। জনগণ স্বতঃস্ফুর্তভাবে কেন্দ্রে এসে তাদের ভোট দিবেন ইনশাল্লাহ। “
এদিকে সকাল সাড়ে ৭টায় শহরের সেউজগাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে নিজের ভোট প্রদান করেন জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী আবিদুর রহমান সোহেল।
ভোটদান শেষে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় আবিদুর রহমান বলেন, “আল্লাহ তাআলা চাইলে আমি বিপুল ভোটে বিজয়ী হবো। তবে দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের যে কালচার, বগুড়া তার ব্যতিক্রম নয়। বিগত ১০-১২ দিনের মাঠের অবস্থা সবার সামনে পরিষ্কার।”

তিনি অভিযোগ করেন, “বিভিন্ন জায়গায় মব সৃষ্টির চেষ্টা করা হচ্ছে এবং গত রাতে তাদের এক কর্মীকে মারপিট করে আহত করা হয়েছে।”
বগুড়া যেন নতুন কোনো মাগুরায় রূপান্তরিত না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক করে তিনি বলেন, “আমরা চাই বর্তমান সরকার সুন্দরভাবে দেশ পরিচালনা করুক। কিন্তু যদি কোনো ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের চিন্তা করা হয় বা পরিবেশ ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করা হয়, তবে আন্দোলন তৈরি হবে।”
বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে শুরু হওয়া এই ভোটগ্রহণ ঘিরে সদর জুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে।
কেন্দ্রগুলোর সামনে ভোটারদের উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে। তবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তুলনার উপনির্বাচনে ভোটারদের উপস্থিতি কিছুটা কম।
সকাল থেকে সাড়ে ১০টা পর্যন্ত শহরের সিটি বালিকা বিদ্যালয়, পিটিআই স্কুল, জিলা স্কুল, সেউজগাড়ী প্রাথমিক বিদ্যালয়, ইয়াকুবিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্র ঘুরে দেখা যায় ভোট কেন্দ্রে ভোটারের উপস্থিতি খুবই নগণ্য।
এই উপনির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মাঠে রয়েছে সেনাবাহিনী, বিজিবি, র্যাব ও পুলিশ।
জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, এই আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৫০ হাজার ৩০৯ জন। ১৫০টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণের জন্য ৮৩৫টি বুথ প্রস্তুত করা হয়েছে। স্বচ্ছতা নিশ্চিতে এবার প্রতিটি কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে।

১৫০টি কেন্দ্রের মধ্যে ৫৩টিকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে প্রশাসন। এর মধ্যে ৫টি কেন্দ্রকে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ বিবেচনা করে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
অধিক ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোর মধ্যে রয়েছে- বগুড়া সরকারি আজিজুল হক কলেজের পুরাতন ভবনের পুরুষ ও মহিলা কেন্দ্র, ভান্ডারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্র এবং বগুড়া করোনেশন ইনস্টিটিউশন স্কুল অ্যান্ড কলেজের কেন্দ্রসমূহ।
রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. ফজলুল করিম বলেন, নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। বিজিবি সদস্যরা ১১ এপ্রিল পর্যন্ত স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে কাজ করবেন। পাশাপাশি নির্বাহী ও জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটরা মাঠে দায়িত্ব পালন করছেন।
গত ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসনে নির্বাচিত হন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান, যিনি বর্তমান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী।
তিনি একইসঙ্গে ঢাকা-১৭ আসনেও নির্বাচিত হয়েছিলেন। সেই আসনটি রেখে বগুড়ার আসনটি ছেড়ে দেওয়ায় এটি শূন্য ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। পরে উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে।
এবারের উপনির্বাচনে বিএনপি থেকে রেজাউল করিম বাদশা (ধানের শীষ), জামায়াতে ইসলামীর আবিদুর রহমান সোহেল (দাঁড়িপাল্লা) এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির প্রার্থী আল আমিন তালুকদার (ফুলকপি) প্রতিদ্বন্দিতা করছেন।