Published : 10 Jul 2026, 08:27 PM
কারও হাতে জাতীয় পতাকা, কারো হাতে ব্যানার। চারপাশ মুখরিত দেশাত্মবোধক গানে। বিশ্বকাপ অভিযান শেষে দেশে ফেরা মিশর দলকে বরণ করে নিতেই এমন উৎসবমুখর আয়োজন। হাজারো উল্লসিত সমর্থকের ভালোবাসায় সিক্ত হয়েছেন মোহামেদ সালাহ, জিকোরা। শেষ ষোলো থেকে বিদায় নিলেও, তাদের এই বীরোচিত প্রত্যাবর্তন প্রমাণ করে, তারা জয় করে নিয়েছেন কোটি ভক্তের হৃদয়।
দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে সফল বিশ্বকাপ অধ্যায় শেষে শুক্রবার মিশরে ফেরেন সালাহরা। চারটি বিশ্ব আসরে অংশগ্রহণ করা আফ্রিকার দলটি এবারই প্রথম জয়ের স্বাদ পায়। গ্রুপ পর্বের বৈতরনী পেরিয়ে, নকআউট পর্বের প্রথম ধাপ জিতে জায়গা করে নেয় শেষ ষোলোয়।
জাতীয় দলকে স্বাগত জানাতে মিশরের ভূমধ্যসাগরীয় উপকূলে অবস্থিত আলামেইন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বাইরে জড়ো হন অসংখ্য সমর্থক। যাদের হাতে থাকা ব্যানারে লেখা, “মিশরের ছেলেরা আমাদের গর্বিত করেছে।”
অনেকের হাতে দেখা যায় দেশের ফুটবলের ‘পোস্টার বয়’, সবচেয়ে বড় তারকা সালাহর ছবি। সেখানে লেখা, “তোমাকে ধন্যবাদ।”
ফিলিস্তিনের পতাকায় জড়ানো কোচ হোসাম হাসানের বড় পোস্টারও দেখা যায় কারো কারো হাতে। যা মূলত টুর্নামেন্ট জুড়ে ফিলিস্তিনিদের প্রতি তার সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতার বহিঃপ্রকাশ। মিশরের ইতিহাসের যৌথভাবে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ এই গোলদাতা টুর্নামেন্টে বেশ কয়েকবার মাঠে ফিলিস্তিনের পতাকা নিয়ে যান। শুধু তাই নয়, সংবাদ সম্মেলনগুলোতেও ফিলিস্তিনিদের অধিকারের পক্ষে কথা বলেন হাসান।
উদযাপন স্রেফ বিমানবন্দর ঘিরেই ছিল না। খেলোয়াড়েরা ছাদ খোলা বাসে চড়ে নিউ আলামেইন শহরে শোভাযাত্রা করেন। রাস্তার দুই পাশে দাঁড়িয়ে থাকা উচ্ছ্বসিত সমর্থকদের উদ্দেশে হাত নেড়ে তাদের অভিবাদনের জবাব দেন তারা। শনিবার প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসির মিশর দলের ফুটবলার থেকে শুরু করে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সংবর্ধনা দেওয়ার কথা রয়েছে।
উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপের শুরুটা দুর্দান্ত ছিল মিশরের জন্য। শক্তিতে অনেক এগিয়ে থাকা বেলজিয়ামকে প্রথম ম্যাচেই রুখে দেয় তারা। ইউরোপের দলটির বিপক্ষে শুরুতে এগিয়ে যাওয়া সালাহরা ১-১ সমতায় শেষ করে।
গ্রুপ পর্বের দ্বিতীয় ম্যাচে নিউ জিল্যান্ডকে ৩-১ গোলে উড়িয়ে বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম জয়ের কীর্তি গড়ে মিশর। শেষ গ্রুপ ম্যাচে ইরানের সঙ্গে ১-১ ড্র করে দলটি। বেলজিয়ামের সমান ৫ পয়েন্ট হলেও, গোল ব্যবধানে পিছিয়ে থেকে গ্রুপ রানার্স আপ হয় তারা।
শেষ বত্রিশে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময়ে ১-১ ড্র করে মিশর। পরে টাইব্রেকারে ৪-২ ব্যবধানে এশিয়ার দলটিকে হারিয়ে শেষ ষোলোয় জায়গা করে নেন সালাহরা।
আর শেষ ষোলোয় তো আর্জেন্টিনাকে প্রায় হারিয়েই দিয়েছিল তারা। ৭৮ মিনিট পর্যন্ত এগিয়ে ছিল ২-০ গোলে। কিন্তু শেষ দিকে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনে ৩-২ গোলের পরাজয়ের তেতো স্বাদ পায় মিশর।
লিওনেল মেসির দলের বিপক্ষে হৃদয় ভাঙা হারের পরও দেশে ফিরে বীরের মতো সংবর্ধনা পেলেন সালাহরা। তাদের নিয়ে গর্বের যেন শেষ নেই মিশরীয়দের।
দল দেশে ফেরার আগেই কোচ হোসাম হাসান ও তার যমজ ভাই ইব্রাহিম হাসানের সঙ্গে চুক্তি নবায়ন করে মিশর ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন। নতুন চুক্তির মেয়াদ অবশ্য প্রকাশ করা হয়নি। তবে স্থানীয় গণমাধ্যমের খবর, ২০৩০ সাল পর্যন্ত কার্যকর থাকবে সেটি।
২০২৪ সালে দায়িত্ব নেওয়ার পর জাতীয় দলকে যেন পুনর্জীবিত করেন ৫৯ বছর বয়সী হোসাম হাসান। তার কোচিংয়ে ২০২৫ আফ্রিকা কাপ অব নেশন্সের সেমি-ফাইনালে ওঠে মিশর। ২০২২ সালের বিশ্বকাপে খেলতে না পারা দল এবার ফেরে বিশ্ব মঞ্চে। তার সময়ে মিশর ২০টি ম্যাচ জিতেছে, ড্র করেছে ৯টিতে, আর হেরেছে কেবল ৬টি ম্যাচে।