Published : 10 Jul 2026, 09:04 PM
জন্ম ইংল্যান্ডের লিডসে। চার বছর ধরে খেলছেন ম্যানচেস্টার সিটিতে। ইংল্যান্ডকে অনেকভাবেই আপন করে নিয়েছেন আর্লিং হলান্ড। তবে সেই অনুরাগের দুয়ার আপাতত বন্ধ। ইংলিশরাই যে এবার তাদের প্রতিপক্ষ। রোমাঞ্চ নিয়ে অপেক্ষায় থাকা নরওয়ের তারকা বলছেন, অনেক কারণেই ম্যাচটি তার কাছে বিশেষ কিছু।
বিশ্বকাপের সেমি-ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে মায়ামিতে মুখোমুখি হবে ইউরোপের এই দুই দল।
ইংল্যান্ডের জন্য এই পর্যায়ে উঠে আসা যতটা প্রত্যাশিত, নরওয়ের জন্য ততটাই চমক। এবারের আগে মাত্র তিনবার বিশ্বকাপে খেলতে পেরেছে হলান্ডের দেশ, সবশেষটি ছিল ২৮ বছর আগে। দীর্ঘ বিরতির পর ফিরেই এবার নিজেদের ফুটবল ইতিহাসের সেরা সাফল্য পেয়েছে তারা। ব্রাজিলকে বিদায় করে জায়গা করে নিয়েছে কোয়ার্টার-ফাইনালে।
সেই সাফল্যে বড় অবদান হলান্ডের। প্রথমবার বিশ্বকাপে এসে পাঁচ ম্যাচে সাত গোল করে গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে আছেন তিনি।
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে লড়াইয়ের আগে হলান্ডকে জিজ্ঞেস করা হলো, স্বপ্নযাত্রায় থাকা নরওয়ে ট্রফি জয়ের দাবিদার কি না। কিন্তু তার অকপট স্বীকারোক্তি, “এখনও সম্ভাবনা কম, খুবই কম…।”
ইংল্যান্ডকে পরিষ্কার ফেভারিট ঘোষণা করে তিনি একটু মজাও করলেন সংবাদকর্মীদের সঙ্গে।

“কিছু সুস্পষ্ট ফেভারিট দল আছে, ইংল্যান্ড তাদের মধ্যে একটি। আমার মনে হয়, আপনাদের (সাংবাদিকদের) সবার উচিত ইংলিশদের ওপর সবরকম চাপ সৃষ্টি করা।”
চ্যালেঞ্জ কঠিন হলেও হলান্ড দেখছেন মজার দিকটি। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচটি জন্য মুখিয়ে আছেন ২৫ বছর বয়সী স্ট্রাইকার।
“এটা নিঃসন্দেহে বিশেষ এক ম্যাচ। আমার জন্য এটা খুবই বিশেষ, কারণ আমি ইংল্যান্ডে খেলি এবং ইংল্যান্ডেই জন্মগ্রহণ করেছি, আমার অনেক (ক্লাব) সতীর্থের বিপক্ষে খেলবে… এবং আরও অনেক কিছু।
“মজার খেলা হবে, আশা করি বেশ উপভোগ্য হবে।”
হ্যারি কেইনদের ওপরই চাপ বেশি থাকবে কি না জানতে চাইলে তিনি ছোট্ট করে বলেন, “হ্যাঁ, অবশ্যই!”
ইংলিশদের বিপক্ষে লড়াইয়ে নরওয়ের জন্য বড় প্রেরণার রসদ ব্রাজিলে বিপক্ষে জয়টিই। পাঁচবারের চ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে স্মরণীয় জয়ে জোড়া গোল করেন হলান্ড।
পারফরম্যান্সের পাশাপাশি নরওয়ে ফুটবল বিশ্বজুড়ে আলোড়ন তুলেছে তাদের ‘ভাইকিংস’ উদযাপন দিয়েও। ফুটবল দলের সাফল্যে আবেগ ও উচ্ছ্বাসের জোয়ার বয়ে যাচ্ছে গোটা নরওয়ে। সব মিলিয়ে সময়টা স্বপ্নের মতো মনে হচ্ছে হলান্ডের।
“ব্রাজিলের বিপক্ষে খেলাটা আমাদের নরওয়েজিয়ানদের জন্য ছিল এক ধরনের পাগলাটে ব্যাপার! ব্রাজিলের বিপক্ষে জেতা এবং তারপর বিশ্বকাপের কোয়ার্টার-ফাইনালে আমেরিকার মাটিতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলতে যাওয়াটা সত্যিই বিশেষ কিছু।”
“নরওয়ের দৃশ্যগুলো দেখুন…নরওয়ের জন্য এসব ব্যাপার (আবেগের জোয়ার) খুব স্বাভাবিক কিছু নয়। এই বিশ্বকাপ তাই সত্যিই স্পেশাল।”