Published : 23 Oct 2022, 11:42 PM
খুলনায় বিএনপির গণসমাবেশে বিএনপির নেতাকর্মীদের আসার পথে কোথাও বাধা দেওয়া হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন জেলা আওয়ামী লীগের নেতারা।
সমাবেশের পরদিন রোববার খুলনা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগ নেতারা আরও বলেন, বিএনপির এই গণসমাবেশ নিয়ে কয়েকটি গণমাধ্যম অসত্য ও অতিরঞ্জিত সংবাদ পরিবেশন করেছে।
বিভিন্ন দাবিতে সারাদেশে বিভাগীয় গণসমাবেশের ধারাবাহিকতায় শনিবার খুলনায় সমাবেশ করে বিএনপি। কিন্তু গণসমাবেশের আগের দিন থেকেই খুলনায় বাস, লঞ্চ, ফেরি, নৌকা-ট্রলার পর্যন্ত বন্ধ করে দেওয়া হয়।
বিএনপি নেতাদের অভিযোগ, আশপাশের জেলা থেকে সব জায়গায় গাড়ি চলাচল করলেও ‘ধর্মঘটের নামে’ শুক্রবার থেকে শুধু খুলনার পথের বাস বন্ধ ছিল। এতে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে চাকরি প্রার্থীদের ভোগান্তির শিকার হতে হয়। খুলনায় ঢোকার সড়কে ছোট ছোট যানবাহন চলাচল করলেও তাতে বাধা দেওয়া হয়েছে। খুলনাকে যোগাযোগবিচ্ছিন্ন করে ফেলা হয়।
এর মধ্যেই ট্রেনে, মোটরসাইকেলে, অটোরিকশায়, হেঁটে লোকজনকে সমাবেশে যোগ দিতে দেখা যায়। অনেক নেতাকর্মী আবার সমাবেশকে কেন্দ্র করে এক-দুদিন আগেই খুলনায় গিয়ে আত্মীয়-স্বজনের বাড়ি বা হোটেল-মেসে উঠেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শেখ হারুনুর রশীদ বলেন, “বিএনপি নেতাকর্মীরা এই সমাবেশে যোগ দিয়েছেন। তাদের পথে কোথাও কোনো বাধা দেওয়া হয়নি। তবে কয়েকটি বিচ্ছিন্ন ঘটনায় তারা নিজেরাই সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।
“এই সমাবেশের আগে এ অঞ্চলের মালিক-শ্রমিকরা নিরাপত্তার স্বার্থে এবং তাদের কিছু দাবি আদায়ের লক্ষ্যে বিভিন্ন পরিবহন বন্ধ রাখে। এর সঙ্গে সরকার বা আওয়ামী লীগের কোনো সম্পর্ক নেই।”
তিনি আরও বলেন, “গণসমাবেশ সুষ্ঠুভাবে শেষ করতে সোনালী ব্যাংক চত্বর ব্যবহার করার অনুমতি দিয়েছে সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ। মাইক ব্যবহারসহ আনুষঙ্গিক বিষয়ে অনুমতি দেওয়ায় খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞানিয়েছে খুলনা জেলা ও নগর বিএনপি। এতেই প্রমাণিত হয় গণসমাবেশে কোনো ধরনের বাধা দেওয়া হয়নি। তবে কেন এই মিথ্যাচার?”
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, বিএনপির শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করার কথা থাকলেও খুলনা আধুনিক রেলওয়ে স্টেশনে ভাঙচুর করেছে তারা। নগরীর দৌলতপুর এলাকার নতুন রাস্তা মোড়ে আওয়ামী লীগ অফিসে হামলা করে ভাঙচুর করা হয়েছে। এতে দুজন আহত হয়েছেন- যারা বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এ সময়ে একটি মোটরসাইকেলও ভাঙচুর করা হয়।
“বিএনপির নেতাকর্মীরা নগরীর শিববাড়ী মোড় টাইগার গার্ডেন হোটেলের সামনে চারটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করেন। এতে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের আট নেতাকর্মী আহত হয়।”
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন খুলনা নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এম ডি বাবুল রানা, জেলা সাধারণ সম্পাদক সুজিত কুমার অধিকারী, সংসদ সদস্য আখতারুজ্জামান বাবু, আওয়ামী লীগ নেতা কামরুজ্জামান জামাল, আশরাফুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট মো. সাইফুল ইসলাম, সৈয়দ আলী, সফিকুর রহমান পলাশ, আসাদুজ্জামান রাসেল।
আরও পড়ুন:
খুলনার সমাবেশে খালেদা জিয়ার সম্মানে ফাঁকা চেয়ার
খুলনা রেলস্টেশনে ভাঙচুরের অভিযোগ বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে
যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন খুলনায় হেঁটেই সমাবেশস্থলে বিএনপির নেতা-কর্মীরা
বাস, লঞ্চের পর বন্ধ করা হলো খুলনার রূপসা ও জেলখানা ঘাট
খুলনার পথে বিএনপিকর্মীরা, পথে পথে বাধার অভিযোগ
খুলনার বাস না পেয়ে যশোর রেল স্টেশনে ভিড়
ছোট ছোট দলে খুলনা যাচ্ছেন সাতক্ষীরা বিএনপির নেতাকর্মীরা
মাগুরা থেকে শুধু খুলনার বাস বন্ধ, বিএনপির ভরসা ট্রেন-ট্রলার