১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪ আশ্বিন ১৪৩৩

বিএনপির সমাবেশের আগে খুলনায় ৪৮ ঘণ্টার লঞ্চ ধর্মঘট শুরু

এর আগে বাস ধর্মঘটের ঘোষণা দেন পরিবহন মালিক ও শ্রমিকরা। 

বিএনপির সমাবেশের আগে খুলনায় ৪৮ ঘণ্টার লঞ্চ ধর্মঘট শুরু

শুক্রবার দুপুরে খুলনা বিআইডব্লিউটিএ ঘাটে গিয়ে দেখা যায়, সারিবদ্ধভাবে পাঁচটি লঞ্চ দাঁড়িয়ে রয়েছে।

খুলনা প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 21 Oct 2022, 03:34 PM

Updated : 21 Oct 2022, 03:34 PM

খুলনায় বিএনপির বিভাগীয় গণসমাবেশকে সামনে রেখে বাস ধর্মঘটের পর এবার ৪৮ ঘণ্টার লঞ্চ ধর্মঘট শুরু করেছেন শ্রমিকরা; যাতে চরম ভোগান্তির মধ্যে পড়েছেন নৌ-পথের যাত্রীরা। 

শনিবারের ওই সমাবেশকে ‘বাধাগ্রস্ত করতে ক্ষমতাসীন দলের চাপে গাড়ি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে’ এমন অভিযোগ বিএনপির কাছ থেকে এলেও; পরিবহন মালিকরা বলছেন, তারা তাদের নির্দিষ্ট কিছু দাবিতে ধর্মঘটে গিয়েছেন।  

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর থেকে খুলনায় যাত্রীবাহী লঞ্চ চলাচল বন্ধ রয়েছে জানিয়ে বাংলাদেশ লঞ্চ শ্রমিক ইউনিয়ন খুলনা জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, “লঞ্চ শ্রমিকদের বেতন বাড়ানো, ভৈরব থেকে নওয়াপাড়া পর্যন্ত নদের খনন, ভারতগামী জাহাজের ল্যান্ডিং পাস দেওয়ার দাবিসহ ১০ দফা দাবিতে ধর্মঘট শুরু করেছেন শ্রমিকরা।“ 

এই ধর্মঘটের সঙ্গে বিএনপির গণসমাবেশের কোনো সম্পর্ক নেই দাবি করে দেলোয়ার বলেন, “অনেক আগেই ওই দাবিগুলো মেনে নেওয়ার জন্য মালিক ও নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষকে আলটিমেটাম দেওয়া হয়েছিল। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তা বাস্তবায়ন না করায় ৪৮ ঘণ্টার ধর্মঘটে গিয়েছেন শ্রমিকরা। 

লঞ্চ শ্রমিকরা জানান, প্রতিদিন খুলনা থেকে পাঁচটি লঞ্চ দাকোপ, কয়রা, সাতক্ষীরা দিকে যায়। যাত্রীবাহী লঞ্চ বন্ধ থাকলেও মালবাহী নৌযান চলাচল করছে। 

বিভিন্ন দাবিতে বিভাগীয় পর্যায়ে গণসমাবেশের ধারাবাহিকতায় শনিবার খুলনা মহানগরীর সোনালী ব্যাংক চত্বরে সমাবেশের আয়োজন করেছে বিএনপি। এ সমাবেশকে ঘিরে দুইদিন বাস চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে বাস মালিক সমিতি বলছে, সড়ক-মহাসড়কে নসিমন-করিমন, মাহেন্দ্র, ইজিবাইক চলাচল করছে। এগুলো বন্ধের দাবিতে ধর্মঘট ডাকা হয়েছে। 

বাসের পাশাপাশি লঞ্চ চলাচল বন্ধ থাকায় বিপাকে পড়েছেন নৌ-পথের সাধারণ যাত্রীরা। শুক্রবার দুপুরে খুলনা বিআইডব্লিউটিএ ঘাটে গিয়ে দেখা যায়, সারিবদ্ধভাবে পাঁচটি লঞ্চ দাঁড়িয়ে রয়েছে। অনেকে লঞ্চঘাটে এসে লঞ্চ চলবে না দেখে ফিরে যাচ্ছেন। 

আশপাশের জেলা থেকেও খুলনাগামী বাস ও ছোট ছোট যানবাহনকে বাধা দেওয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে। এতে সাধারণ যাত্রীরা ভোগান্তির অভিযোগ করছেন। তবে ছোট ছোট দলে অনেককে ভাগ হয়ে খুলনা শহরে ঢুকতে দেখা যাচ্ছে।  

খুলনা মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট শফিকুল আলম মনা বলেন, “কোনো প্রতিবন্ধকতাই নেতাকর্মীদের আটকাতে পারবে না। প্রয়োজনে হেঁটে মানুষ সমাবেশে যোগ দেবে। এরই মধ্যে খুলনায় নেতাকর্মীরা আসতে শুরু করেছেন।“ 

পুলিশি ঝামেলা এড়াতে নেতাকর্মীরা আত্মীয়-স্বজনের বাড়ি, আবার কেউ কেউ হোটেলে অবস্থান করছেন বলেও জানান বিএনপির এই নেতা। 

খুলনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কুদরত-ই-আমির এজাজ খান অভিযোগ করে বলেন, খুলনার বিভিন্ন উপজেলা এবং বিভাগের অন্যান্য নয়টি জেলা থেকে গণসমাবেশে নেতাকর্মীদের আসা বাধাগ্রস্ত করতেই পরিকল্পিতভাবে বাস-লঞ্চ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। 

তবে বিএনপির অভিযোগ অস্বীকার করে খুলনা নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এম ডি এ বাবুল রানা বলেন, “বিএনপির সমাবেশ পূর্বনির্ধারিত। এটা প্রতিহত করতে হবে বা বাধা দিতে হবে- এটা আমরা বিশ্বাস করি না। বাস-লঞ্চ বন্ধ করেছে মালিক সমিতি। এটা তাদের নিজস্ব ব্যাপার।” 

“বাস ও লঞ্চ বন্ধ করার জন্য আওয়ামী লীগ কাউকে চাপ দেয়নি।” 

আরও পড়ুন:

পুরানো খবর:

বাগেরহাটে বাস বন্ধ: দুর্ভোগে জনসাধারণ, পরীক্ষার্থী

পুরানো খবর:

বিএনপির সমাবেশের আগে খুলনায় পরিবহন ধর্মঘটে ভোগান্তি

পুরানো খবর:

খুলনার সমাবেশে যেতে বাস-মাইক্রো ভাড়া পাচ্ছে না মাগুরা বিএনপি

পুরানো খবর:

খুলনায় বিএনপির পরে সমাবেশ করবে আওয়ামী লীগও

পুরানো খবর:

পরিবহন মালিকরা ধর্মঘট ডাকলে সরকারের দায় কোথায়: কাদের

পুরানো খবর:

খুলনার গণপরিবহন বন্ধ করিয়েছে সরকার: ফখরুল

পুরানো খবর:

খুলনায় বিএনপির সমাবেশের আগে বাস বন্ধের ঘোষণা

পুরানো খবর:

গাড়ি বন্ধ করলে হেঁটে লাখো মানুষ সমাবেশে আসবে: খুলনা বিএনপি