Published : 19 Jun 2026, 07:00 PM
ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলায় আট মাস বয়সী এক শিশুকে জীবিত অবস্থায় কবর দেওয়ার জন্য গর্ত খোঁড়ার অভিযোগ উঠেছে তার মায়ের বিরুদ্ধে।
শুক্রবার সকালে উপজেলার দুল্লা ইউনিয়নের কেশবপুর গ্রামে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
শিশুটি ওই এলাকার হারুন মিয়া ও শাহনাজ আক্তার দম্পতির ছেলে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পারিবারিক কলহের জেরে শিশুটিকে ‘কবর দেওয়ার উদ্দেশ্যে’ তার মা শাহনাজ আক্তার একটি মাটির ঢিবির পাশে গর্ত খুঁড়েছিলেন। খবর পেয়ে এলাকাবাসী ঘটনাস্থলে গিয়ে বাধা দিলে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
এদিকে সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে প্রথমে ঘটনাস্থল ত্যাগ করার চেষ্টা করেন শিশুটির মা শাহনাজ আক্তার। পরে স্থানীয়দের চাপের মুখে তিনি বলেন, “আমি ছেলেকে কবর দিতে চাইনি। সকালে রাগের মাথায় গর্ত খুঁড়েছিলাম।”
প্রতিবেশীদের ভাষ্য, জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার রাতভর স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ চলে। রাত প্রায় ১২টা পর্যন্ত স্থানীয়রা বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করেন।
তাদের দাবি, দাম্পত্য কলহের সময় প্রায়ই শিশুটি নির্যাতনের শিকার হতো।
প্রতিবেশী শাবনুর আক্তার বলেন, “ওই শিশু ছোটবেলা থেকেই মায়ের অবহেলার শিকার। অনেক সময় তাকে ঠিকমতো খাবার দেওয়া হতো না। বিভিন্ন সময় শিশুটিকে মারধর ও ক্ষতি করার চেষ্টাও হয়েছে।”
শিশুটির বাবা হারুন মিয়া বলেন, “আমার স্ত্রী প্রায়ই বলত সে সন্তান লালন-পালন করবে না। সামান্য বিষয়েও ছেলের ওপর নির্যাতন চালাত। আজকের ঘটনাও তারই ধারাবাহিকতা।”
দাদা আলাল উদ্দিন বলেছেন, “এর আগেও আমার নাতিকে গলা টিপে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছিল। তখন এলাকাবাসী গিয়ে বাধা দেয়।
“আজকের খবর শুনে ছুটে এসে দেখি, আমার নাতিকে জীবিত কবর দেওয়ার জন্য তার মা গর্ত খুঁড়েছে।”
উপজেলার দুল্লা ইউনিয়ন টরিষদের সদস্য জবেদা খাতুন বলেন, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই পারিবারিক বিরোধ চলছিল। শাহনাজ আক্তার পেশায় বিড়ি তৈরির কারিগর এবং বিয়ের পরও দীর্ঘ সময় বাবার বাড়িতেই বসবাস করেছেন।
এদিকে শাহনাজ আক্তারের মা শাহিদা আক্তার বলেছেন, তার মেয়ে সন্তান লালন-পালনে অনাগ্রহী ছিল এবং একপর্যায়ে শিশুটিকে দত্তক দেওয়ার কথাও বলেছিল।
যদিও অভিযোগের মুখে থাকা শাহনাজ আক্তার সন্তানের প্রতি তার অবহেলার অভিযোগ সত্য নয় বলে দাবি করেছেন।
এ প্রসঙ্গে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে মুক্তাগাছা থানার ওসি কামরুল ইসলাম বলেন, “ঘটনাটি দুঃখজনক। তবে এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”