Published : 21 Oct 2022, 12:10 AM
খুলনায় বিভাগীয় গণসমাবেশে যোগ দেওয়ার জন্য বাস ও মাইক্রোবাস ভাড়া পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেছেন মাগুরা বিএনপি নেতারা। তারা বলছেন, অনেক বাস মালিক অগ্রিম নেওয়া টাকা ফিরিয়ে দিচ্ছেন।
জেলা বিএনপির নেতারা জানান, সদর, শ্রীপুর, শালিখা, মহম্মদপুর উপজেলা, দক্ষিণ মাগুরা ও মাগুরা পৌরসভা থেকে বাস ভাড়া করা হয়েছিল। প্রতিটি ইউনিট থেকে সাত থেকে আটটি বাস ভাড়া করা হয়। ২০ থেকে ২৫টি মাইক্রোবাসের মালিকের সঙ্গেও কথা হয়েছিল। মাইক্রোবাসের জন্য অগ্রিম কোনো টাকা দেওয়া হয়নি। তবে বাসের জন্য দেওয়া হয়েছিল।
শ্রীপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান বদরুল আলম হিরো বলেন, শ্রীপুর থেকে খুলনার সমাবেশে যোগ দেওয়ার জন্য তিনি আটটি বাস এবং পাঁচটি মাইক্রোবাস ভাড়া করেছিলেন। এজন্য বাস মালিকদের ১৪ হাজার করে ভাড়ার অগ্রিম টাকা দিয়েছিলেন।
“এখন বাস মালিকরা বলছেন, তারা শনিবার খুলনায় যেতে পারবেন না। তারা বাস ভাড়ার অগ্রিম টাকা ফেরৎ দিচ্ছেন। খুলনার সমাবেশ বানচালের জন্য সরকারের চাপের কারণে এটা হচ্ছে।”
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে মাগুরা বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ইসহাক মল্লিক বলেন, বিএনপি নেতারা তার কাছে বাস ভাড়ার জন্য এসেছিলেন। কিন্তু তিনি অপারগতা প্রকাশ করেছেন।
বিএনপির সমাবেশে যাওয়ার জন্য বাস ভাড়া না দিতে তার ওপর কোনো মহলের চাপ বা নিষেধাজ্ঞা নেই দাবি করে ইসহাক মল্লিক বলেন, “এর আগে কয়েকবার বিএনপিকে বাস ভাড়া দিয়েছি। পুলিশ রাস্তা থেকে বাস ঘুরিয়ে দিয়েছে। বাসের নামে মামলা দিয়েছে। এ ছাড়া ভাড়ার টাকাও পাইনি।”
ঝামেলা এড়াতে বাস ভাড়া দেননি উল্লেখ করে মাগুরা বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক বলেন, তবে কোনো মালিক বাস ভাড়া দিয়ে অগ্রিম টাকা নিয়েছেন এবং এখন তা ফেরৎ দিয়েছেন এমনটা তার জানা নেই।
খুলনা শহরের ডাকবাংলো ও ফেরিঘাট মোড়ের মাঝামাঝি সোনালী ব্যাংক চত্বরে আগামী শনিবার বিএনপির বিভাগীয় গণসমাবেশ হওয়ার কথা। ইতোমধ্যে সমাবেশের অনুমতিও পেয়েছে তারা।
এর মধ্যেই জেলা বাস-মিনিবাস মালিক সমিতি শুক্র ও শনিবার খুলনায় চলাচলকারী সব ধরনের বাস চলাচল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানানো হয়। যে সিদ্ধান্তের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছে খুলনা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নও।
বিভাগীয় গণসমাবেশকে সামনে রেখে খুলনায় বাস চলাচল বন্ধ ঘোষণাকে ‘সরকারের ষড়যন্ত্র’ হিসাবে দেখছেন বিএনপির নেতারা।
মাগুরা জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি ও জেলা জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি মোল্লা ইমদাদুর রহমান বলেন, “জেলার অনেক বাস মালিক খুলনার সমাবেশের জন্য বিএনপিকে বাস ভাড়া দিয়েছিলেন। এখন শুনছি, মালিকরা ভাড়া বাতিল করে বায়নার (অগ্রিম) টাকা ফেরৎ দিয়েছেন।”
জেলা মাইক্রোবাস মালিক সমিতির যুগ্ম আহ্বায়ক শামীম হোসেন লিটন বলেন, তাদের অনেক মালিকের কাছে বিএনপি মাইক্রোবাস ভাড়ার জন্য এসেছিলেন। কিন্তু বর্তমানে বিশেষ অভিযান চলছে, পুলিশ মামলা দিতে পারে- এ ভয়ে তারা ভাড়ায় যেতে রাজি হচ্ছেন না। যে কারণে মালিকরা সব ভাড়া বাতিল করেছে।
জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আলী আহম্মেদ অভিযোগ করেন, “খুলনায় লাখো মানুষের সমাবেশ ঠেকাতে সরকারের নির্দেশে তাদেরকে বাস, মাইক্রোবাস ভাড়া দেওয়া হচ্ছে না। তবে এভাবে বাধা দিয়ে সমাবেশ বানচাল করা যাবে না “
“বৃহস্পতিবার থেকেই নেতাকর্মীরা খুলনা যাওয়া শুরু করেছেন। শনিবার নসিমন, করিমন, মোটরসাইকেল, প্রয়োজনে হেঁটে নেতাকর্মীরা খুলনায় যাবেন এবং সমাবেশ সফল করবেন।”
এ ব্যাপারে মাগুরা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পংকজ কুণ্ডু বলেন, মাগুরায় বিএনপি নির্বিঘ্নে তাদের সভা-সমাবেশ করছে। কোনো রাজনৈতিক দলের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে আওয়ামী লীগ কখনও কাউকে বাধা দেয়নি।
“বিএনপির খুলনা সমাবেশ উপলক্ষে সরকার বা আওয়ামী কোনো বাধা প্রদান করছে না। বাস বা মাইক্রোবাস ভাড়া দেওয়ার জন্য সরকার বা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে কোনো বাধা প্রদান করা হয়নি। কী কারণে তারা বাস বা মাইক্রোবাস ভাড়া পাচ্ছেন না সেটা আমি বলতে পারছি না।”