Published : 21 Oct 2022, 05:04 PM
মাগুরা থেকে সবখানে বাস চলাচল করলেও শুধু খুলনার পথে বন্ধ রেখেছেন পরিবহন মালিক ও শ্রমিকরা। এতে খুলনায় শনিবারের বিভাগীয় গণসমাবেশে যোগ দেওয়ার জন্য বিএনপির নেতাকর্মীরা ট্রেন ও ট্রলারকে বেছে নিয়েছেন।
গণসমাবেশে যোগ দিতে মাগুরার অধিকাংশ নেতাকর্মী এরই মধ্যে খুলনা পৌঁছে গেছেন বলে বিএনপি নেতারা জানিয়েছেন। নেতাকর্মীরা যশোর পর্যন্ত বাসে গিয়ে, সেখান থেকে ট্রেনে করে খুলনা গেছেন। বাকিরা যাচ্ছেন ছোট যানবাহনে ভেঙে ভেঙে; অনেকে আবার ট্রলারে করে।
কথিত আন্তঃজেলা বাস ধর্মঘটের কথা উল্লেখ করে মাগুরা বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ইসহাক মল্লিক এবং মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি ইমদাদুর রহমান জানান, তাদের জেলায় এর কোনো প্রভাব পড়েনি। সরাসরি খুলনা বাদে সব জেলার সঙ্গে বাস চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
বিভিন্ন দাবিতে বিভাগীয় পর্যায়ে গণসমাবেশের ধারাবাহিকতায় শনিবার খুলনা মহানগরীর সোনালী ব্যাংক চত্বরে সমাবেশের আয়োজন করেছে বিএনপি। এরই মধ্যে অনুমতি পেয়েছেন তারা; সমাবেশ ঘিরে চলছে প্রচারণা।
জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আক্তার হোসেন জানান, বৃহস্পতিবার রাতেই অনেক নেতাকর্মী বাসে করে খুলনা চলে গেছেন। অনেকে শুক্রবার যশোর পর্যন্ত বাসে গিয়ে, সেখান থেকে ট্রেনে করে খুলনা গেছেন। বাকিরা শুক্রবার ও শনিবার বাসে করে যশোর যাবেন। পরে সেখান থেকে ছোট যানবাহন ও মোটর সাইকেলে করে খুলনা যাবেন।
তিনি বলেন,“দুর্ভোগ ও কষ্ট করে করে হলেও মাগুরা বিএনপির নেতাকর্মীরা খুলনার সমাবেশে যোগদান করবেন। সরকার শুধু শুধু খুলনার সঙ্গে বাস যোগাযোগ বন্ধ করে তামাশা করেছে।”
এদিকে শুক্রবার ভোরে খুলনার সোনাডাঙ্গা থানা পুলিশ মাগুরার শ্রীপুর উপজেলা বিএনপির ১০ নেতা কর্মীকে আটক করেছে বলে আক্তার হোসেন দাবি করেছেন।
বিএনপির এ নেতা বলেন, “ওই নেতাকর্মীরা বাস থেকে খুলনায় পৌঁছানোর পরপরই পুলিশ তাদের আটক করে। এছাড়া হোটেলে থাকা মাগুরা থেকে যাওয়া নেতা-কর্মীদের পুলিশ নানাভাবে হয়রানি করছে।”
এদিকে মহম্মদপুর উপজেলা বিএনপির আহবায়ক অধ্যক্ষ মৈমুর আলী মৃধা ও সদস্য সচিব আক্তারুজ্জামান সমাবেশ সফল করতে এবং কর্মীদের উৎসাহ দিতে শুক্রবার সকালে উপজেলা সদরে নেতা-কর্মীদের নিয়ে লিফলেট বিতরণ করেছেন।
শ্রীপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি বদরুল আলম হিরো জানান, তিনি নেতাকর্মীদের নিয়ে খুলনা যাওয়ার জন্য আটটি বাস ও পাঁচটি মাইক্রোবাস ভাড়া করেছিলেন। কিন্তু সরকার দলের ‘চাপে’ বৃহস্পতিবার বাস ও মাইক্রোবাস মালিকরা ভাড়া বাতিল করেছে। যে কারণে শুক্রবার রাতেই অনেক নেতাকর্মী বাসে করে খুলনা পৌঁছেছেন।
তিনি বলেন, “২০০ নেতাকর্মীকে পাংশা দিয়ে ট্রেনে করে পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া নদী পথে দুইটি ট্রলারে করে দুই শতাধিক নেতা-কর্মীকে খুলনা পাঠানো হয়েছে।”