Published : 26 Aug 2025, 07:40 PM
‘বির্তকিত’ মন্তব্য করা নিয়ে আলোচনায় থাকা বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ফজলুর রহমান কারণ দর্শানোর নোটিসের জবাব দিয়েছেন; যাতে তিনি দলের ক্ষতি হয় এমন কোনো কথা বলেননি বা কাজ করেননি বলে দাবি করেছেন।
মঙ্গলবার বিকালে তার স্ত্রী আইনজীবী উম্মে কুলসুম রেখা বলেন, তিনি (ফজলুর রহমান) এই সংক্রান্ত চিঠির জবাব লিখিতভাবে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জমা দিয়েছেন। বিকালে বার্তা বাহকের মাধ্যমে সেটা পাঠানো হয়েছে। এখন তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলবেন না।
আইনজীবী ফজলুর রহমানের নিজস্ব প্যাডে চার পৃষ্ঠার এ জবাব দেওয়া হয়েছে। এতে দলের তরফ থেকে যেসব বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়েছে সেগুলোর বিস্তারিত ব্যাখ্যা করেছেন বলে তুলে ধরেন তার স্ত্রী।
বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বরাবরে জবাবটি পাঠানো হয়েছে।
দলের কেন্দ্রীয় দফরত বলেছে, তারা ফজলুর রহমানের কারণ দর্শানো নোটিসের জবাবের একটি খাম পেয়েছেন।
জবাবটি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জমা দেওয়ার কথা থাকলেও রোববার ফজলুরের অনুরোধে আরও ২৪ ঘণ্টা বাড়ানো হয়, যা শেষ হবে রাত ৯টায়।
লিখিত জবাবে তিনি বলেছেন, “আমার প্রিয় দল বিএনপির ক্ষতি হয় এমন কোনো কথা বা কাজ আমি করিনি এবং করবও না।জাতীয়তাবাদী দলের নেতৃত্বে বিচার বিবেচনার প্রতি আমার সর্বোচ্চ আস্থা আছে। আমি আশা করি, সুবিচার পাব এবং দলের বৃহত্তর স্বার্থে যেকোনো সিদ্ধান্তের প্রতি সর্বদা অনুগত থাকব।”
জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থান নিয়ে অনবরত ‘বিতর্কিত’ বক্তব্য দেওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৪ আগস্ট দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ফজলুরকে কারণ দর্শানোর নোটিস দেয় বিএনপি। তার ঢাকার বাসার ঠিকানায় এ নোটিস পাঠানো হয় বার্তা বাহকের মাধ্যমে।
কারণ দর্শানোর নোটিসে বলা হয়, ‘‘উদ্ভট ও শৃঙ্খলা পরিপন্থি বক্তব্যের কারণে কেন আপনার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, তার যথাযথ কারণ দেখিয়ে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে একটি লিখিত জবাব দলের নয়া পল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জমা দেওয়ার জন্য আপনাকে নির্দেশ প্রদান করা হল।”
এতে বলা হয়, “আপনি জুলাই-আগস্ট ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থান নিয়ে ক্রমাগত কুরুচিপূর্ণ ও বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দিয়ে আসছেন এবং আত্মদানকারী শহীদদের নিয়ে যে বক্তব্য দিচ্ছেন তা সম্পূর্ণরূপে দলীয় আদর্শ ও গণ অভ্যুত্থানের চেতনার পরিপন্থি। এই গণ অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলন নিয়ে আপনার বক্তব্য জনমনে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। আপনার বক্তব্য দলের সুনাম ক্ষুণ্ণ করার সুপরিকল্পিত চক্রান্তের প্রয়াস বলে অনেকেই মনে করে।
‘‘এমনকি আপনি জনগণের ধর্মীয় অনুভূতিতেও আঘাত দিয়ে কথা বলছেন। জুলাই-আগস্ট গণ অভ্যুত্থানে বিএনপির সাড়ে চারশোর অধিক নেতাকর্মীসহ ছাত্র-জনতার প্রায় দেড় হাজারের অধিক মানুষ শহীদ হয়েছেন এবং ৩০ হাজারেরও অধিক মানুষ গুরুতর আহত হয়েছেন। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার এ ধরণের বীরোচিত ভূমিকাকে আপনি প্রতিনিয়ত অপমান ও অমর্যাদা করছেন।”
বিএনপি চেয়ারপারসনের এই উপদেষ্টা ২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট ছাত্র-জনতার তুমুল আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনা সরকারের পতন নিয়ে গত কয়েকদিন থেকে ভিন্ন বক্তব্য দেন। আওয়ামী লীগ সরকার পতনের জন্য তিনি জামায়াতে ইসলামী ও তাদের সহযোগী সংগঠনগুলোকে দায়ী করে বিভিন্ন জায়গায় বক্তব্য দিচ্ছেন।
তার ভাষ্য, এটি কোনো সাধারণ রাজনৈতিক ঘটনা নয়, বরং একটি সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র, যার মূল পরিকল্পনাকারী ‘কালো শক্তি’ জামায়াত।
কিশোরগঞ্জ থেকে ১৯৮৬ সালে নির্বাচিত সাবেক সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমানের বেশ কিছুদিন ধরে এমন বিভিন্ন বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা তৈরি করেছে। অভ্যুত্থান নিয়ে তার বক্তব্য ফেইসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। এ নিয়ে বিএনপির উচ্চ পর্যায় ও কর্মী-সমর্থকদের মধ্যেও আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হয়।
এরপর রোববার তাকে কারণ দর্শানোর নোটিস দেয় বিএনপি।
রাজনৈতিক অঙ্গনে এ নিয়ে আলোচনার মধ্যে রোববার বেলা ১১টার পর সেগুনবাগিচায় ফজলুরের বাসার সামনে অবস্থান নেন একদল ব্যক্তি।
অপরদিকে রোববার সংবাদ সম্মেলন করে দেশ-বিদেশ থেকে ‘স্বাধীনতাবিরোধী একটি চক্রের’ কাছ থেকে প্রাণনাশের হুমকি পাওয়ার অভিযোগ তোলেন বিএনপি নেতা মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান।
সোমবার দুপুরে সুপ্রিম কোর্ট এনেক্স ভবনে ল’ রিপোর্টার্স ফোরামের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসে তিনি এ অভিযোগ তোলেন।
তিনি বলেন, ‘‘আমাকে মব সৃষ্টিকারীরা হত্যার হুমকি দিচ্ছে। আমার সেগুনবাগিচার ভাড়া বাসার সামনে ওরা অবস্থান নিয়েছে। আজ আপনাদের মাধ্যমে আমি সারা জাতিকে জানাতে চাই, বাংলাদেশের মানুষ আপনারা জেনে রাখুন, আমার জীবন বড় শঙ্কায় আছে।”
'স্বাধীনতাবিরোধী চক্র' প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে: ফজলুর রহমান
অভ্যুত্থান নিয়ে 'বিতর্কিত' মন্তব্য: ফজলুর রহমানকে বিএনপির নোটিস
মুক্তিযুদ্ধ করে এখন আমি 'পাগলের' ভূমিকায়: ফজলুর রহমান