Published : 07 Jul 2026, 01:02 AM
দুই বছর আগেও গ্রেপ্তার বা আটকের ভয় উপেক্ষা করেই নেতাকর্মীদের ভিড় জমতো রাজধানী ঢাকার নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে। এখন সেই ভিড় নেই।
কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের দেওয়াল নতুন রঙে যতখানি উজ্জ্বল, দলীয় কার্যক্রমের চিত্র ততটা নয়। পরিপাটি কার্যালয়ে দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের উপস্থিতি কমেছে; কমেছে নেতাকর্মীদের আসা-যাওয়াও।
তবে তৃণমূলে চিত্রটা ভিন্ন, দেশের বিভিন্ন এলাকায় ক্ষমতাসীন বিএনপির অনুসারীরা নতুন কার্যালয় খুলেছেন। এসব কার্যালয় খোলা হয়েছে বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, শ্রমিক দলসহ বিভিন্ন ব্যানারে। শনিবার বিভিন্ন জেলায় দলীয় কিছু কর্মসূচি পালনের ছবি দিয়েছে বিএনপির মিডিয়া সেল। যদিও বিপরীত চিত্র আছে কোথাও কোথাও।
ক্ষমতায় আসার পঞ্চম মাসে পা দিয়েছে বিএনপি সরকার। সংসদের বিরোধী দল যেখানে গণভোটের রায় বাস্তবায়নসহ বিভিন্ন দাবিতে মাঠে নেমেছে, সেখানে বিএনপি সরকার তার নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নে মনোয়োগ দিয়েছে।
তবে সাংগঠনিক কার্যক্রম বা কর্মসূচি দিয়ে মাঠে থাকার কাজটি বিএনপি এখনো গুছিয়ে করে উঠতে পারেনি।
দলের কেন্দ্রীয় ও মহানগরের কয়েকজন নেতা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেছেন, সরকার গঠনের পর বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান তার নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নে মনোযোগ দেওয়ায় সাংগঠনিক কার্যক্রম থেকে ‘দূরে’ আছেন। এ কারণেই সাংগঠনিক ও দলীয় রাজনীতিতে ‘অনুপস্থিত’ বিএনপি।
চলতি বছরের শুরুতে জাতীয় কাউন্সিলের আলাপ উঠলেও এ নিয়ে কোনো কার্যক্রম শুরু হয়নি। মূল দলসহ অঙ্গ-সংগঠনের অনেক জায়গার কমিটি ‘তামাদি’ হলেও সাংগঠনিক কোনো তৎপরতা নেই।

দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী, এমপিরা নির্বাচনি ইশতেহার ধরে উন্নয়নমূলক কার্যক্রমে যুক্ত থাকায় দলীয় ও সাংগঠনিক কার্যক্রমে ‘অনুপস্থিত’ রয়েছেন বলে ওই নেতারা বলেছেন।
প্রায় দুই দশক পর চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার গঠন করে বিএনপি।
৫৯ জন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপদেষ্টা নিয়ে সাজানো সরকারে জায়গা পেয়েছেন বিভিন্ন সহযোগী ও অঙ্গ সংগঠনের নেতারা। দীর্ঘদিন তারা নিয়মিত কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে গেলেও সরকার গঠনের পর অনিয়মিত হয়ে গেছেন।
বিএনপির বিভিন্নস্তরের কয়েকজন নেতার কথায় কয়েকটি বিষয় উঠে এসেছে। মোটাদাগে নেতারা মনে করেন, দীর্ঘদিন পর সরকার গঠনের কারণে রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কার্যক্রমে ‘জড়তা’ এসেছে। অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক রাজনীতির কৌশল বিবেচনায় নিয়ে দলের রাজনৈতিক কর্মসূচি না থাকায় কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত নেতাকর্মীরা বুঝে উঠতে পারছেন না তারা কী করবেন।
জাতীয় সম্মেলনের মধ্য দিয়ে দলীয় এই অবস্থা কাটিয়ে ওঠার সুযোগ হবে বলে মনে করছেন নেতারা।
কারো-কারো ভাষ্য, দলীয় প্রধান তারেক রহমান দলের প্রত্যেকের ‘ক্যারেক্টার প্রকাশের’ সুযোগ করে দিয়েছেন। ইতোমধ্যে দলের মধ্যে আলোচনা উঠেছে, সরকার গঠনের ছয় মাস পরই তারেক রহমানের ‘পরবর্তী অ্যাকশন’ সামনে আসবে। মন্ত্রিসভায় রদবদল, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী ঠিক করা দলের কমিটিতে জায়গা পাওয়া বা বাদ পড়ার মতো পদক্ষেপ আসতে পারে।
বিএনপির উচ্চ পর্যায়ের একাধিক নেতা ও মন্ত্রিসভার সদস্য বিডিনিউজ টায়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মন্ত্রিসভার জ্যেষ্ঠ সদস্যদের তিন মাসের একটি নির্দেশনা দিয়েছেন। রাষ্ট্রের বিদ্যমান সমস্যা-সংকট সমাধান, আগামী দিনের করণীয় নির্ধারণে বেশ কয়েকজন মন্ত্রিকে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
তবে ‘সাংগঠনিক ও রাজনৈতিকভাবে’ বিএনপির করণীয় সম্পর্কে তারেক রহমানের কোনো নির্দেশনা এখনো আসেনি, বলেছেন ওই নেতারা।

বৃহস্পতিবার বিকালে সরেজমিনে রাজধানীর নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে গিয়ে দেখা গেল পরিবর্তিত চিত্র। ছয়তলা ভবনে নতুন রঙ করা হয়েছে, কক্ষগুলোও সুসজ্জিত।
প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর গত ২৮ মার্চ নয়া পল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে যান বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সেদিন তার সঙ্গে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ ছিলেন।
এর আগে নির্বাচনের পর ২৩ ফেব্রুয়ারি নয়া পল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নীরবতা ভাঙেন মির্জা ফখরুল।
দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় রয়েছে।
যুবদলের বর্তমান সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না নিয়মিত কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আসেন। ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির নেতারা নিয়মিত যাতায়াত করেন।
স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি এস এম জিলানী এমপি এবং সাধারণ সম্পাদক রাজীব আহসান সংসদ সদস্য হওয়ার পাশাপাশি প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন। তারা দুজনেই সরকার গঠনের আগে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে নিয়মিত আসা-যাওয়া করতেন।
দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে থেকে বিগত ১৬ বছরের আন্দোলনে ভূমিকা রেখেছেন। অনেকটা ‘আবাসিক’ নেতা হিসেবে পরিচিতি পেয়েছিলেন তিনি। বর্তমানে তিনি সপ্তাহে অন্তত চার-পাঁচদিন যাতায়াত করেন এবং সাংবাদিকদের ব্রিফিং করেন।

সিনিয়র ও দলের অপেক্ষাকৃত কয়েকজন তরুণ নেতা এমপি, মন্ত্রী হওয়ায় তারাও নিয়মিত ব্যস্ততায় আটকা পড়েছেন। আর এর প্রভাব পড়েছে দলে। নেতাদের মধ্যে যারা মন্ত্রী-এমপি হতে পারেননি তাদের একটি অংশ সভা-সেমিনারে অংশ নিচ্ছেন। তারাও কার্যালয়মুখো হচ্ছেন না।
শ্রমিক দলের বর্তমান সভাপতি আনোয়ার হোসাইন ও সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম খান নাসিম-দুজনেই অসুস্থ থাকায় কার্যালয়ে আসেন না। তবে শ্রমিক দলের আরেক নেতা শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস নিয়মিত শ্রমিক দলের অফিস করেন।
স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের মাঝে-মাঝে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এসে নেতাকর্মীদের সময় দেন বলে জানান দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত একজন নেতা।
গেল ৩০ মে দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে একটি আলোচনা সভার পর আর কোনো কেন্দ্রীয় কর্মসূচি নেয়নি বিএনপি।
শুক্রবার সন্ধ্যায় বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ‘জুলাই ২৪ শহীদ পরিবার সোসাইটি’ ও ‘আমরা জুলাই যোদ্ধা’ কেন্দ্রীয় কমিটির উদ্যোগে শনিবার (৪ জুলাই) স্মরণ সভায় অংশ নেন দলীয় প্রধান তারেক রহমান।
দলের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর মধ্যে ছাত্রদল দুই মাসের কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ৩ অগাস্ট হবে ছাত্রসমাবেশ; এতে উপস্থিত থাকবেন ছাত্রদলের ‘সাংগঠনিক অভিভাবক’ বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

সরকারি দলের মন্ত্রী-এমপিদের কেউ-কেউ স্বীকার করেছেন, সরকারের উন্নয়নমূলক কাজে ব্যস্ত থাকায় দলের সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক কার্যক্রমে ‘অনুপস্থিতি’ তৈরি হয়েছে।
নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের অপর পাশেই ভাসানী ভবনে বিএনপির ঢাকা মহানগর দক্ষিণের কার্যালয়। ‘ভাসানী স্মৃতি সংসদ’ থেকে ভাড়া নেওয়া এই ভবনটিও জরাজীর্ণ। সিঁড়ি অনেকটাই স্যাঁতস্যাঁতে, রঙহীন। ভেতরের পরিবেশও অনেকটাই গুমট।
ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম মজনু এবং তানভীর আহমেদ রবিন, এমপি সদস্য সচিব। দুজনেই কার্যালয়ে আসা-যাওয়ার মধ্যে আছেন বলে একজন নেতা বলেছেন।
বৃহস্পতিবার বিকালে কার্যালয়ে বসেই কথা হয় ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সাইদুর রহমান মিন্টুর সঙ্গে।
তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “দীর্ঘ ১৬-১৭ বছর আন্দোলন সংগ্রাম করে নেতাকর্মীরা সবাই ক্লান্ত, শ্রান্ত। সরকারও গঠিত হয়েছে চার মাস চলছে। যুবদলের কমিটি পূর্ণাঙ্গ হয়েছে। ছাত্রদলের কমিটির কথা শোনা যাচ্ছে। আশা করি আবার চাঙ্গা হবে সবকিছু।”
সাইদুর রহমান মিন্টু বলেন, তিনি নিয়মিত অফিস করলেও দলের তরুণ নেতাকর্মীরা সেভাবে আসতে পারেন না।
মহানগর কার্যালয়ে ইন্টারনেট সংযোগ, ক্যারম খেলার ব্যবস্থা করা গেলে তরুণদের ভিড় আরো বাড়বে, এমন কথাও বলেছেন তিনি।
সরকার গঠনের পর রাজধানীতে বেশ কিছু এলাকায় বিএনপির কার্যালয় খোলা হয়েছে।
এরকমই একটি কার্যালয়ের দেখা মেলে কবি নজরুল কলেজের পাশে সিটি করপোরেশন মার্কেটের দোতলায়। সেখানে সূত্রাপুর থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের কার্যালয়।
স্থানীয় লোকজন বলছেন, চব্বিশের জুলাই আন্দোলনের আগে এটি স্থানীয় আওয়ামী লীগের কার্যালয় হিসেবে ব্যবহৃত হতো। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ঢাকা মহানগর দক্ষিণ স্বেচ্ছাসেবক দলের একজন নেতার অনুসারীরা সেখানে সংগঠনের কাজ শুরু করে। বর্তমানে কার্যালয়টি দেখভালের দায়িত্বে আছেন সূত্রাপুর থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা মো. কাজল।
তবে তিনি সেখানে কার্যালয় করার কথা স্বীকার করেননি। কাজল বলেন, “এটা মার্কেটের অফিস হিসেবে ব্যবহৃত হয়। আমাদের স্থায়ী কোনো কার্যালয় নেই বিধায় আমরা দলের নেতাকর্মীদের নিয়ে মাঝেমধ্যে এখানে আড্ডা দেই।”
হবিগঞ্জ জেলা বিএনপির কার্যালয় শহরের শায়েস্তানগর এলাকায়। সাইনবোর্ডবিহীন টিনশেড ভবনে এই কার্যালয়ের কার্যক্রম চলে নামমাত্র।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক শাম্মী আক্তার এমপি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রশ্নে বলেন, “আমি এই বিষয়ে কোনো জবাব দেব না। কারণ এখানে কিছু ঝামেলা আছে, সংকট আছে। সাংগঠনিক তৎপরতা যখন শুরু হবে, তখন আশা করি ঠিক হয়ে যাবে। এছাড়া এখন কেন্দ্রীয় বা জেলা থেকে যেসব কর্মসূচি দেওয়া হয়, নেতাকর্মীরা তা পালন করেন।”
মেহেরপুর জেলা বিএনপিতে নির্বাচনের আগে থেকেই বিভাজন দেখা গেছে। এক গ্রুপের অনুসারীরা গেলে অন্য অংশের নেতাকর্মীরা যান না।
তবে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কামরুল ইসলাম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “দলের হাইকমান্ডের নির্দেশ মোতাবেক আমাদের কর্মসূচি চালু আছে।”
কী কর্মসূচি চালু আছে, এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আমাদের জেলা বিএনপির সাধারণ মিটিংয়ের পর বিস্তারিত আলাপ হবে।”
তৃণমূলের নেতাকর্মীরা বলছেন, দেশে ফেরার আগে তৃণমূলের নেতাকর্মীদেরকে সঙ্গে সরাসরি কথা হতো বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের। ২০২৪ সালে আন্দোলন চলাকালে নোয়াখালী জেলার আবদুল হান্নান লিটনের সঙ্গে কথা বলেছিলেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
শুক্রবার বিকালে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে নোয়াখালী জেলার সেনবাগ পৌরসভার সাবেক বিএনপির এই আহ্বায়ক হান্নান বলেন, “দলের চেয়ারম্যান সাহেব ২৪ সালের আন্দোলনের সময় কথা বলেছিলেন। নির্বাচনের পর যেভাবে সংগঠনকে এগিয়ে নেওয়া দরকার ছিল, সেটা হয় নাই।”
তার মতে, “সংগঠনকে গতিশীল করতে কর্মসূচি প্রয়োজন। আমাদের এখানে তো পৌরসভা, ওয়ার্ডের কমিটিগুলোর মেয়াদ অনেক আগে শেষ। নির্বাচনের পর সাংগঠনিক কাজে স্থবিরতা এসেছে।”

বর্তমান সাংগঠনিক কার্যক্রম নিয়ে আবদুল হান্নানের ভাষ্য, “স্থানীয় এমপি এখন জয়নাল আবদিন ফারুক। তিনি যেসব প্রোগ্রাম করেন, নেতাকর্মীরা এগুলো বাস্তবায়ন করে। তবে আমাদের দলীয়ভাবে কেন্দ্রীয় কর্মসূচি দরকার।
“জামায়াত একটি ধর্মভিত্তিক দল, কিন্তু দেশে তো আরো দল আছে। ফলে রাজনীতি কী হবে, সেটিও কেন্দ্রকে খুঁজে বের করতে হবে।”
‘স্থবিরতা স্বাভাবিক’
বিএনপির সর্বশেষ কাউন্সিল হয়েছিল ২০১৬ সালে। যে কাউন্সিলের মধ্য দিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর পূর্ণাঙ্গ দায়িত্ব লাভ করেন। এ বছরের শুরুতে বিএনপির মহাসচিব একটি সংবাদমাধ্যমে সাক্ষাতকার দেন, যেখানে কাউন্সিলের প্রসঙ্গ আসে। পরে দলের উচ্চ পর্যায়ের নেতাদের মধ্যে মির্জা ফখরুলের বক্তব্য নিয়ে আলোচনা হলেও তা বেশি দূরে এগোয়নি।
একজন মন্ত্রী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “ক্ষমতায় আসার পর কিছুদিন সাংগঠনিক কাজে স্থবিরতা আসাটাই স্বাভাবিক। তবে আসন্ন স্থানীয় সরকারের নির্বাচনের মাধ্যমে এই স্থবিরতা কেটে যাবে।”
স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য শুক্রবার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “কাউন্সিল আপাতত না হলেও ভেতরে-ভেতরে আলোচনা আছে।”
বিএনপির একজন ভাইস চেয়ারম্যানের ভাষ্য, “বিএনপি সরকারের রাজনৈতিক পলিসি এখনো নেতাকর্মীদের সামনে স্পষ্ট হয়নি। একদিকে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ, অন্যদিকে সংসদের বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী। এই দুই শক্তিকে কীভাবে রাজনৈতিক ও সাংগঠনিকভাবে মোকাবিলা করবে, তা এখনো দলের কেন্দ্রীয় নির্দেশনা হয়ে আসেনি।”
বিএনপির জেলা পর্যায়ের মোট ইউনিট ৮৩টি। এরমধ্যে কমিটি আছে ৮১টি। পূর্ণাঙ্গ কমিটি ৪৫টি এবং আহ্বায়ক কমিটি রয়েছে ৩৬টি।
বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য (দপ্তরে সংযুক্ত) মো. আবদুস সাত্তার পাটোয়ারী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “সম্মেলনের মাধ্যমে কমিটি গঠন হয়েছে ২০টি।
কমিটি নেই চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ও শেরপুর জেলায়। এছাড়া সারাদেশে উপজেলা, পৌরসভা, ওয়ার্ড পর্যায়ে অধিকাংশ কমিটিই ‘তামাদি’ বলে জানিয়েছেন দলের কেন্দ্রীয় একজন নেতা।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমানের দৃষ্টিতে, বিএনপির বর্তমান সরকার একেবারেই নতুন। সাংগঠনিক কার্যক্রম কম বা বন্ধ বলা যাবে না।

দলের কেন্দ্রীয় কমিটির নেতা, বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম এমপি বলেন, “বিএনপি অনেক দিন পর দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে। সরকার গঠনের পর আমাদের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতির দিকে মনোযোগ দিতে হয়েছে। মানুষের আস্থায় আসার জন্য প্রথমেই সরকার কৃষি ঋণ মওকুফ, ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ, কৃষক কার্ড ও খাল খনন কর্মসূচি, হাসপাতালগুলোকে একশ’ শয্যায় রূপান্তরসহ এসব কার্যক্রমে ‘ফোকাসড’ হয়ে গেছি।”
ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, “সামনে স্থানীয় সরকারের নির্বাচন আসছে। জিনিসটা হচ্ছে সরকার গঠনের পর রাষ্ট্র পরিচালনায় বেশি মনোযোগ দেওয়ায় মনে হচ্ছে এদিকে (সংগঠন ও রাজনীতি) আমরা নাই। আর যেহেতু নির্বাচন নাই, সেহেতু গতানুগতিক কিছু কর্মসূচি হচ্ছে।
“বিধ্বস্ত অর্থনীতি ঠিক করতে গিয়েই দলীয় ও সাংগঠনিক তৎপরতায় আমাদের মনোযোগ পরে দিতে হচ্ছে।”
কেন্দ্রীয়ভাবে দলকে চাঙ্গা করার কৌশল নিয়ে যারা দায়িত্বপ্রাপ্ত তারা ভাবছেন, বলেন এই নেতা।
তিনি বলেন, “১৭ বছর সংগ্রামের পর আমরা ক্ষমতায় এসেছি। শিগগিরই আমরা সংগঠনে হাত দেব। স্থানীয় সরকারের নির্বাচনের পর কাউন্সিল হবে। সংগঠনে নতুন নেতৃত্ব আসবে। সময়টা কম, প্রধানমন্ত্রী ধীরে-ধীরে সবকিছুতেই হাত দেবেন।”
পুরনো খবর: