Published : 05 Jul 2026, 09:07 PM
জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠান আয়োজন করা নিয়ে ‘উদ্বেগ’ জানিয়েছে দেশের কয়েকটি রাজনৈতিক দল ও সংগঠন।
তারা মনে করে, সরকারের ‘নতজানু নীতির কারণে’ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ‘বিরোধিতাকারী যুক্তরাষ্ট্র’ সংসদ প্রাঙ্গণে স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠান করার অনুমতি পেয়েছে।
শনিবার জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠান হয়। সেখানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল, সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান ও ঢাকায় মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেনও বক্তব্য রাখেন।
এই অনুষ্ঠানের সমালোচনা করে রোববার বিবৃতি দেয় ‘সাম্রাজ্যবাদ ও যুদ্ধবিরোধী জোট’, যেখানে বাসদের কেন্দ্রীয় কমিটির সহকারী সাধারণ সম্পাদক রাজেকুজ্জামান রতনের সই রয়েছে।
দেশের ১৩টি রাজনৈতিক দল নিয়ে ‘সাম্রাজ্যবাদ ও যুদ্ধবিরোধী জোটের’ যাত্রা শুরু হয় গেল এপ্রিলে। আত্মপ্রকাশের পর প্রথম কর্মসূচি হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া বাণিজ্য চুক্তি বাতিলের দাবিতে সারা দেশে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছিল তারা।
এবার সংসদ প্রাঙ্গণে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবসের প্রতিবাদে জোটের তরফে যে বিবৃতি এসেছে, সেখানেও সেই চুক্তির প্রসঙ্গ তোলা হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, “বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্যচুক্তির নামে বাংলাদেশের উপর গোলামি-চুক্তি চাপিয়ে দিয়েছে। বাংলাদেশকে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্রাজ্যবাদী ভূরাজনৈতিক কৌশলের সঙ্গে জড়িয়ে ফেলার জন্য ষড়যন্ত্র চলছে। যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের জনগণ প্রতিবাদ-প্রতিরোধের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
“এমন পরিস্থিতিতে জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠান আমরা উদ্বেগজনক মনে করি।”
বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের সমালোচনা করে বিবৃতিতে আরো বলা হয়, “বর্তমান সরকারের নতজানু নীতির কারণে যুক্তরাষ্ট্র তাদের স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠান নিজেদের দূতাবাসে না করে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় করার অনুমতি পেয়েছে।”

আলাদা এক বিবৃতিতে বাসদের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ বলেছেন, “অত্যন্ত দুঃখজনক হলেও সত্য, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর থেকেই তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের ধারাবাহিকতায় বর্তমান বিএনপি সরকার ও সংসদের বিরোধী দল অত্যন্ত নির্লজ্জভাবে যুক্তরাষ্ট্রের তাবেদারী করছে।
“এর জ্বলন্ত প্রমাণ সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপির নেতাদের অংশগ্রহণে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবস উদযাপন।”
সোমবার সমাবেশ ডেকেছে সিপিবি
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি রোববার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে, সংসদ প্রাঙ্গণে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবসের প্রতিবাদে তারা সোমবার বিক্ষোভ সমাবেশ করবে। বিকাল ৫টায় পুরানা পল্টন মোড়ে হবে এ সমাবেশ।
বিবৃতিতে সিপিবির সভাপতি কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন ও সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ ক্বাফী রতন বলেন, “বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবসের কর্মসূচি পালনের জন্য বাংলাদেশের স্বার্বভৌমত্বের প্রতীক জতীয় সংসদ প্রাঙ্গণ ব্যবহারের অনুমতি দেওয়াটা মুক্তিযুদ্ধে শহীদ ত্রিশ লাখ মানুষের আত্মত্যাগের প্রতি অবমাননার শামিল।”
সিপিবির দুই শীর্ষ নেতা মনে করেন, “যুক্তরাষ্ট্র যখন আমাদের অর্থনীতি, জাতীয় নিরাপত্তা ও স্বার্বভৌমত্ববিরোধী বাণিজ্যচুক্তি চাপিয়ে বাংলাদেশকে ‘করদ রাজ্যে’ পরিণত করার ষড়যন্ত্র করছে, তখন সরকারি দল ও সংসদের তথাকথিত বিরোধী দলের নেতাদের উপস্থিতিতে সংসদ ভবন প্রাঙ্গণে এ ধরনের অনুষ্ঠান বাংলাদেশের মানুষের জন্য অবমাননাকর।”