Published : 18 Mar 2026, 09:21 PM
চলতি বছরের মধ্যেই বিএনপির সম্মেলন হবে বলে জানিয়েছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
বুধবার রাতে গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ তথ্য দেন।
মহাসচিব বলেন, “বিএনপির সম্মেলন এই বছরের মধ্যেই। এখনো আমরা সময় নির্ধারণ করিনি। কিন্তু আমার মনে হয়, শিগগিরই হবে কাউন্সিল।”
বিএনপির সর্বশেষ সম্মেলন হয় ২০১৬ সালে।
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির মহাসচিবকে উদ্দেশ করে এক সাংবাদিক বলেন, সরকার গঠনের পর সরকার ও দল ‘এক হয়ে গেছে’। দলের কার্যক্রম কবে নাগাদ শুরু হবে?
জবাবে বিএনপি মহাসচিব বলেন , “দলের কার্যক্রম তো চলছে, ছোট খাটোভাবে তো চলছে। এক মাসে সরকার গঠন করতে তো সময় লেগেছে। দলের লোক বেশির ভাগই সরকারে চলে গেছেন। সেই জায়গায়গুলোতে সময় লাগবে; এটা বিচ্ছিন্ন ব্যাপার না।
“এটা আলাদা করে দেখা যাবে না। সরকার তার কাজ করবে, দল তার কাজ করবে।”
অনুষ্ঠানে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থা, জাতীয় সংসদের কার্যক্রম, স্থানীয় সরকার নির্বাচন, সরকারের সফলতা, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে উপাচার্য নিয়োগ, অর্থনৈতিক অবস্থাসহ বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন বিএনপি মহাসচিব।
নতুন সরকারে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রীর দায়িত্বে আছেন মির্জা ফখরুল। মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এই প্রথম মতবিনিময় সভা করলেন তিনি।
‘এক মাসে বড় সাফল্য সরকারের’
বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এক মাসের মূল্যায়ন করতে গিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, “সবচেয়ে বড় সাফল্য হলো, যেসব প্রতিশ্রুতি আমরা করেছিলাম নির্বাচনের আগে, তা বাস্তবায়ন করতে শুরু করতে পেরেছি।
“তার মধ্যে ছিল আমাদের ফ্যামিলি কার্ড; পাইলট প্রজেক্ট আমরা শুরু করে দিয়েছি। এরপর কৃষকদের ১০ হাজার টাকার কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ, সারাদেশে খাল খনন কর্মসূচি, ইমাম-মুয়াজ্জিন ও খাদেমসহ অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ধর্মগুরুদের মাসিক ভাতা দেওয়া শুরু করতে পেরেছি। পহেলা বৈশাখ থেকে হতে কৃষক কার্ড দেওয়া হবে। সব মিলিয়ে এগুলো অনেক বড় সাফল্য।”
বিএনপি ক্ষমতায় এলেই ‘একটা করে ঝামেলা আসে’ মন্তব্য করে তিনি বলেন, “এবার এসছে ইরান যুদ্ধ। এই যুদ্ধের ফলে যে তেলের দাম বেড়ে গিয়ে বড় রকমের সমস্যা তৈরি হয়েছে।”
‘অর্থনীতি সুস্থ করা বড় চ্যালেঞ্জ’
মির্জা ফখরুল বলেন, “আমাদের বড় চ্যালেঞ্জ অর্থনীতিকে একেবারে সুস্থ করে ফেলা এবং অর্থনীতিকে সঠিক রাস্তায় নিয়ে আসা। এটা নিয়ে কাজ শুরু হয়েছে। আপনারা জানেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর চেঞ্জ হয়েছে এবং যার ফলে যে নীতি ফলো করা হচ্ছিল, সেটা কিছুটা পরিবর্তন হয়েছে।
“আমাদের ছোট ছোট ব্যবসায়ীরা ঋণ পেতে শুরু করেছেন, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়তে শুরু করেছে। এটা একটা বড় পরিবর্তন বলে আমি মনে করি।”
দেশের বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে সোমবার উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হয়।
এসব নিয়োগের মাধ্যমে দলীয়করণের অভিযোগ উঠেছে কিনা, সেই প্রশ্নে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘‘দেখেন সমালোচনা তো থাকবেই। এখন রাজনৈতিক সরকার; তার নিজস্ব রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গিতে নিয়োগগুলো হবে। এটা তো এমন না যে, মুহূর্তের মধ্যে সব ফেরেশতা নিয়ে আসা হবে। যাকে সম্ভাব্য সেরা মনে হয়েছে, তাকে দেওয়া হয়েছে।”
সংবিধান সংস্কার পরিষদ প্রসঙ্গে
মির্জা ফখরুল বলেন, “আমরা কিন্তু জুলাই সনদের ব্যাপারে শতভাগ প্রতিশ্রুদ্ধিবদ্ধ। কিন্তু কোনগুলো, যেগুলোতে আমরা সই করেছি। এই কথাটা খুব পরিষ্কার করে বলতে চাই।
‘‘চাপিয়ে দেওয়া কোনো শর্ত মেনে নেওয়াটা আমাদের জন্য সবসময় সম্ভব নাও হতে পারে। তবে সেটা আমরা আলোচনা করেছি।”
আইনশৃঙ্খলা ও দুর্নীতি দমনে সরকার তার অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘‘ইতিমধ্যে দেখেন, মব কালচারের ব্যাপারটা একেবারে নাই বললেই চলে এই এক মাসে। বড় কোনো ঘটনাই ঘটেনি।”
‘স্থানীয় সরকার নির্বাচন এই বছরেই’
মির্জা ফখরুল বলেন, “আমাদের মন্ত্রণালয়ের কাজ হচ্ছে সিদ্ধান্ত নিয়ে নির্বাচন কমিশনকে জানিয়ে দেওয়া। আমরা সেই আলোচনা করছি। আমাদের সিদ্ধান্ত হলেই আমরা জানিয়ে দিব।
‘‘এ বছর তো বটেই, নিঃসন্দেহে এই বছরে স্থানীয় সরকার নির্বাচন হবে। তবে এই মুহূর্তে আপনাকে সময় নির্দিষ্ট করে বলতে পারব না। কিন্তু এই বছরেই হবে এবং যত দ্রুত সম্ভব হবে।”
আওয়ামী লীগ প্রসঙ্গে
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘‘এরা হঠাৎ হঠাৎ করে বেরিয়ে আসে। এগুলোকে খুব বেশি গুরুত্ব দেওয়ার কিছু আছে বলে আমি মনে করি না।
“আওয়ামী লীগের এখন যেহেতু কার্যক্রম নিষিদ্ধ আছে, বন্ধ আছে, বন্ধ থাকবে। বাকিরা যারা আছে, তারা কাজ করবে।”
তিনি বলেন, “আওয়ামী লীগ চেষ্টা করবেই কিছু কিছু কাজ করতে। কিন্তু মানুষ তাদেরকে প্রত্যাখ্যান করেছে, একদম…তাই না?”