Published : 24 Aug 2025, 09:39 PM
জুলাই গণ অভ্যুত্থান নিয়ে অনবরত ‘বিতর্কিত’ বক্তব্য দেওয়ার প্রেক্ষাপটে দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য ফজলুর রহমানকে কারণ দর্শানোর নোটিস দিয়েছে বিএনপি।
আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাকে এর জবাব দিতে বলা হয়েছে।
রোববার এই বিএনপি নেতার ঢাকার ঠিকানায় বিশেষ বার্তা প্রেরকের মাধ্যমে এ নোটিস পাঠানোর কথা দলের কেন্দ্রীয় দফতর থেকে জানানো হয়।
কারণ দর্শানোর নোটিসে বলা হয়, ‘‘উদ্ভট ও শৃঙ্খলা পরিপন্থি বক্তব্যের কারণে কেন আপনার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, তার যথাযথ কারণ দেখিয়ে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে একটি লিখিত জবাব দলের নয়া পল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জমা দেওয়ার জন্য আপনাকে নির্দেশ প্রদান করা হল।”
বিএনপি চেয়ারপারসনের এই উপদেষ্টা ২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট ছাত্র-জনতার তুমুল আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনা সরকারের পতন নিয়ে গত কয়েকদিন থেকে ভিন্ন বক্তব্য দেন। আওয়ামী লীগ সরকার পতনের জন্য তিনি জামায়াতে ইসলামী ও তাদের সহযোগী সংগঠনগুলোকে দায়ী করে বিভিন্ন জায়গায় বক্তব্য দিচ্ছেন।
তার ভাষ্য, এটি কোনো সাধারণ রাজনৈতিক ঘটনা নয়, বরং একটি সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র, যার মূল পরিকল্পনাকারী ‘কালো শক্তি’ জামায়াত।
সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশনের টকশোতে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও আওয়ামী লীগ থেকে বিএনপির রাজনীতিতে নাম লেখানো আইনজীবী ফজলুর রহমান বলেন, ৫ অগাস্টের আন্দোলন পরিচালনায় সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির।
তার দাবি, এই সংগঠন দীর্ঘদিন ধরে দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নষ্ট করার জন্য ষড়যন্ত্র করে আসছে।
‘‘যারা ৫ অগাস্ট ঘটাইছে, কালো শক্তি, সেই কালো শক্তির নাম হল জামায়াতে ইসলাম, তাদের যে অগ্রগামী শক্তি তার নাম হইল ইসলামী ছাত্রশিবির। সারজিস আলমরা, যারা ওই এইটার (অভ্যুত্থানের) অভিনয় করছে, ৫ অগাস্টের অভিনেতা যারা, আমি তাদেরকে নেতা বলতে আর চাই না, তাদের আমি অভিনেতা বলব। সেই আলবদর, আল শামস, জামায়াতে ইসলাম আমরা মনে করেছিলাম ৫৪ বছর পর পূর্বপুরুষের পরাজয়ের গ্লানি তারা ভুলে গেছে। কিন্তু না, সেই পরাজয়ের গ্লানি দ্বিগুণ আকারে তাদের মধ্যে এসেছে।’’
কিশোরগঞ্জ থেকে ১৯৮৬ সালে নির্বাচিত সাবেক সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমানের বেশ কিছুদিন ধরে এমন বিভিন্ন বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা তৈরি করেছে। অভ্যুত্থান নিয়ে তার বক্তব্য ফেইসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। এ নিয়ে বিএনপির উচ্চ পর্যায় ও কর্মী-সমর্থকদের মধ্যেও আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হয়।
এরপর রোববার তাকে কারণ দর্শানোর নোটিস দেয় বিএনপি।
দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত নোটিসে বলা হয়, “আপনি জুলাই-আগস্ট ঐতিহাসিক গণ অভ্যুত্থান নিয়ে ক্রমাগত কুরুচিপূর্ণ ও বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দিয়ে আসছেন এবং আত্মদানকারী শহীদদের নিয়ে যে বক্তব্য দিচ্ছেন তা সম্পূর্ণরূপে দলীয় আদর্শ ও গণঅভ্যুত্থানের চেতনার পরিপন্থি। এই গণঅভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলন নিয়ে আপনার বক্তব্য জনমনে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। আপনার বক্তব্য দলের সুনাম ক্ষুণ্ণ করার সুপরিকল্পিত চক্রান্তের প্রয়াস বলে অনেকেই মনে করেন।
‘‘এমনকি আপনি জনগণের ধর্মীয় অনুভূতিতেও আঘাত দিয়ে কথা বলছেন। জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে বিএনপির সাড়ে চারশোর অধিক নেতাকর্মীসহ ছাত্র-জনতার প্রায় দেড় হাজারের অধিক মানুষ শহীদ হয়েছেন এবং ত্রিশ হাজারেরও অধিক মানুষ গুরুতর আহত হয়েছেন। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য গণ অভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার এ ধরনের বীরোচিত ভূমিকাকে আপনি প্রতিনিয়ত অপমান ও অমর্যাদা করছেন।“
এ ধরনের ‘উদ্ভট ও শৃঙ্খলা পরিপন্থি’ বক্তব্যের কারণে কেন তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, তার যথাযথ কারণ দেখিয়ে লিখিত জবাব দিতে নোটিসে বলা হয়েছে।
নোটিস পাঠানোর পর বক্তব্য জানতে ফজলুরের মোবাইলে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ধরেননি।