Published : 07 Jul 2026, 05:42 PM
কারিগরি ত্রুটিতে পল্লী বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রে বিস্ফোরণের পর ১৮ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে বিদ্যুৎ নেই বরগুনার সদর উপজেলায়। এতে উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের প্রায় ৬৭ হাজার গ্রাহক চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
সোমবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার গৌরীচন্না ইউনিয়নের খাজুরতলা এলাকার প্রধান সাবস্টেশনে এ দুর্ঘটনা ঘটে বলে বরগুনা জোনাল অফিসের এজিএম মুহাম্মদ আছফা উদ্দিন জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, হঠাৎ উপকেন্দ্রের ভেতরে বিকট শব্দে ৬ নম্বর ফিডারে বিস্ফোরণ ঘটে এবং মুহূর্তের মধ্যে আগুন লেগে যায়। দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে এনে মেরামতের কাজ শুরু হয়েছে।
খাজুরতলা এলাকার বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শী মো. মিজানুর রহমান ঘটনার বিবরণ দিয়ে বলেন, “রাতে হঠাৎ একটা বিকট শব্দ শুনলাম। এরপর চারদিকে প্রায় ৪০ সেকেন্ডের মতো তীব্র আলোর ঝলকানি ছড়িয়ে পড়ে। উপকেন্দ্রে ছুটে এসে দেখি ভেতরে আগুন ধরে গেছে। তবে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।”
এই সাবস্টেশনের মাধ্যমেই বরগুনা সদর উপজেলার বিদ্যুৎ সঞ্চালন ও বিতরণ কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করা হয়। ফলে আকস্মিক এই বিপর্যয়ের কারণে উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের গ্রাহকরা পুরোপুরি বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন।

দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় ভ্যাপসা গরমে অতিষ্ঠ জনজীবন। ফ্রিজে রাখা খাবার নষ্ট হওয়াসহ বাসা-বাড়ি ও ব্যবসা-প্রতিষ্ঠানে পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। ব্যাহত হচ্ছে মোবাইল নেটওয়ার্ক ও ইন্টারনেট সেবাও।
এদিকে ঘটনার পর পরই পটুয়াখালী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির বরগুনা জোনাল কার্যালয়ের ডিজিএম মোহাম্মদ নাজমুল হাসানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
পরিস্থিতি সম্পর্কে ডিজিএম মোহাম্মদ নাজমুল হাসান বলেন, “হঠাৎ অভ্যন্তরীণ ত্রুটির কারণে ১১ কেভি এসিআর (ACR) বিস্ফোরিত হয়ে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। এতে অনেক তার ও যন্ত্রাংশ পুড়ে গেছে। সোমবার রাত থেকেই উদ্ধার ও মেরামতের কাজ শুরু করেছি। পুড়ে যাওয়া যন্ত্রাংশটি পটুয়াখালী থেকে জরুরি ভিত্তিতে আনা হয়েছে।”
তিনি আরও জানান, প্রকৌশলী ও টেকনিশিয়ানদের কয়েকটি দল নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে এবং প্রতিটি যন্ত্রাংশ নিবিড়ভাবে পরীক্ষা করা হচ্ছে।
“সব ঠিক থাকলে আজ (মঙ্গলবার) সন্ধ্যার মধ্যেই বিদ্যুৎ সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক করা সম্ভব হবে”, বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।