Published : 06 Jul 2026, 08:10 PM
আসছে অক্টোবর থেকে স্থানীয় সরকারের নির্বাচন করার কর্মপরিকল্পনা নিয়ে নির্বাচন কমিশন সব ধরনের প্রস্তুতি শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ।
তিনি বলেছেন, কখন কোন নির্বাচন হবে তা নিয়ে সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে সিদ্ধান্ত নেবে ইসি।
সোমবার বিকালে নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের সংগঠন রিপোর্টার্স ফোরাম ফর ইলেকশন অ্যান্ড ডেমোক্রেসি-আরএফইডি আয়োজিত ফল উৎসবে অংশ নিয়ে স্থানীয় নির্বাচন নিয়ে কথা বলেন আব্দুর রহমানেল মাছউদ।
তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভা নির্বাচন ধাপে ধাপে শুরু করার পক্ষে।
“সবগুলো (সিটি, পৌর, উপজেলা, জেলা ও ইউপি) নির্বাচন একসঙ্গে করা যাবে না। কোনটা বেশি দরকার, সরকারের সঙ্গে এসব বিষয়ে আমাদের আলাপ আলোচনা হবে। তার ভিত্তিতে আমরা তফসিল ঘোষণা করব।”
তিনি বলেন, ভোটের অন্তত ৪৫ দিন আগে ইসি তফসিল ঘোষণার প্রস্তুতি নিয়ে রাখবে।
“সরকারের সঙ্গে অনেক বিষয়ে সমন্বয় করে বা আলোচনা করা ছাড়া এখন ইসির পক্ষে ঘোষণা করা সম্ভব হবে না (কোন নির্বাচনে আগে বা পরে হবে)। অক্টোবরে নির্বাচন হলে, এর ৪৫ দিন আগে সিডিউল ঘোষণা করতে হবে। আমরা এ ব্যাপারে প্রস্তুতি নিচ্ছি।”
সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ ও জেলা পরিষদগুলোতে এখন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি নেই। সে প্রসঙ্গ ধরে ইসি মাছউদ বলেন, “ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভা নির্বাচন না হলে উপজেলা পরিষদ কন্সটিটিউট করা যায় না। কাজেই উপজেলা পরে হবে। পদাধিকার বলে ইউপি ও পৌরসভার প্রতিনিধিরা উপজেলা পরিষদে সদস্য। সিটি করপোরেশন আলাদা। জেলা পরিষদের জনপ্রতিনিধি ইলেকটরাল ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত হয়।
“এখন তাহলে কোন নির্বাচন আগে হবে? নির্বাচন করার বাধ্যবাধকতাও রয়েছে। এখন সব নির্বাচন যেহেতু একত্রে এসেছে, আইনে যে বাধ্যবাধকতা রয়েছে তা এখন পালন করা সম্ভব হবে না। কোন নির্বাচন আগে হবে এ মুহূর্তেও বলে দেওয়া যাবে না।”
তিনি বলেন, “ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভা থেকে নির্বাচন শুরু হওয়াটা বাস্তবক্ষেত্রে অধিক যৌক্তিক। সিটি করপোরেশন একটু আলাদা, প্রশাসক দিয়ে চলছে। নির্বাচন কমিশন যথাসময়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবে। স্থানীয় সরকার বিভাগের কাছে ভোটের সার্বিক তথ্য নিয়ে চিঠি দিয়ে যেসব প্রতিষ্ঠানে সীমানা বিরোধ রয়েছে, সেগুলো যাতে দ্রুত নিষ্পত্তি করা যায় অথবা কোথায় কোথায় সীমানা জটিলতা রয়েছে তা জেনে নেবে ইসি।”
সরকারের সঙ্গে আলোচনার প্রসঙ্গে এই নির্বাচন কমিশনার বলেন, “ভোটে অনেক লোকবলের সম্পৃক্ততা থাকায় সময়ের একটু প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। আমরা মনে করি, নির্বাচন সঠিক সময়ে হবে। স্থানীয় সরকারের সীমানা সম্পৃক্ততা ও নানা কাজে সরকারের সহযোহিতা দরকার হওয়ায় বাস্তবসম্মতভাবে সরকারের সঙ্গে লিখিত ও অলিখিত আন্ডারস্ট্যান্ডিং করে চলতে হবে।”
একই অনুষ্ঠানে নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, “সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীরা সংসদে এ নিয়ে (স্থানীয় সরকার নির্বাচন) কথা বলছেন। আমরা নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য সব প্রস্তুতি ইতোমধ্যে শুরু করেছি।”
আগামী সপ্তাহ থেকে ইসি সচিব ধারাবাহিকভাবে এ নিয়ে হালনাগাদ তথ্য দেবেন বলে জানান ইসি সানাউল্লাহ।
নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার, তাহমিদ আহমদ, ইসি সচিব আখতার আহমেদও এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
পুরনো খবর-