Published : 24 Feb 2026, 08:17 AM
নবগঠিত বিএনপি সরকারের মন্ত্রিসভায় ৫০ জন শপথ নিলেও একজনের নিয়োগ সবাইকে চমকে দিয়েছে। তিনি হলেন সদ্যবিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান, যিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর জাতীয় দৈনিকগুলোর পাতায় খলিলুর রহমানের কয়েকটি বক্তব্য চোখে পড়েছে। যেমন তিনি বলেছেন, “নতুন সরকার পররাষ্ট্রনীতিতে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান প্রবর্তিত নীতির ধারায় ফিরে যেতে আগ্রহী। আমরা সেদিকেই কাজ করছি।” তিনি আরও বলেছেন, “বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির মূল হবে ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’। দেশের স্বার্থ সম্পূর্ণভাবে রক্ষা করে পররাষ্ট্র কর্মকাণ্ড চলবে। পররাষ্ট্র কর্মকাণ্ডে জাতীয় স্বার্থ পই পই করে বুঝে নেওয়া হবে।”
এবার একটু দেখে নেওয়া যাক কেমন ছিল জিয়াউর রহমানের (১৯৭৫-৮১) পররাষ্ট্রনীতি?
১. শেখ মুজিবুর রহমানের ভারত ও তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন-ঘেঁষা নীতি থেকে সরে এসে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রমুখী হয়ে তাদের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তোলা।
২. মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম দেশগুলোর সঙ্গে বন্ধুত্ব বাড়ানোর মাধ্যমে অর্থনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্র তৈরি করা।
৩. দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধিতে আঞ্চলিক ফোরাম বা সার্ক (SAARC) গঠনের উদ্যোগ গ্রহণ।
৪. সরাসরি কোনো পরাশক্তির বলয়ে যুক্ত না হয়ে জোট নিরপেক্ষ আন্দোলন (NAM) নীতি অনুসরণ করা।
৫. আঞ্চলিক শক্তি ভারত ও চীনের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার নীতি গ্রহণ।
এক কথায় জিয়াউর রহমানের পররাষ্ট্রনীতি ছিল, ‘সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়’।
জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় থাকাকালীন বিশ্ব স্নায়ুযুদ্ধের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল। বিশ্ব স্পষ্ট দুই ভাগে বিভক্ত ছিল—যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে ন্যাটো জোট এবং সোভিয়েত ইউনিয়নের নেতৃত্বে ওয়ারশ জোট। এই দুই বলয়ের বাইরে জোটনিরপেক্ষ আন্দোলনের একটি শক্তিশালী অবস্থান ছিল। বাংলাদেশ জন্ম থেকেই এই আন্দোলনের অংশ ছিল এবং জিয়াউর রহমানও ওই নীতি অনুসরণ করেছিলেন। যদিও জোটনিরপেক্ষ আন্দোলনের কাঠামো এখনো আছে, কিন্তু তার প্রভাব আগের মতো শক্তিশালী নেই। জিয়ার শাসনামলে ভারতের সঙ্গে ফারাক্কা পানি বণ্টন, সীমান্ত নিরাপত্তা, রোহিঙ্গা ইস্যু, আঞ্চলিক যোগাযোগ, বাণিজ্য ভারসাম্য ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আলোচিত হয়েছে। ওই সময় এসব ক্ষেত্রে ভারসাম্যমূলক ও স্বার্থভিত্তিক কূটনৈতিক তৎপরতা লক্ষণীয় ছিল।
জিয়াউর রহমানের সময় ভারতের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন মোরারজি দেশাই (জনতা পার্টি), পরে ইন্দিরা গান্ধী (কংগ্রেস)। ভারতের সঙ্গে সোভিয়েত ইউনিয়নের সম্পর্ক ছিল ঐতিহাসিক ও ঘনিষ্ঠ। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ভারতের সমর্থন ও অংশগ্রহণ ছিল। যুক্তরাষ্ট্র ও চীন পাকিস্তানের পক্ষে ছিল, বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিপক্ষে। তৎকালীন সরকারের নীতি ও ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শত্রুতা না থাকলেও ভারত-রাশিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল।
ভারত এখন বিশ্বের অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক ও সামরিক শক্তি। আগের মতো এককভাবে রাশিয়ার দিকে ঝুঁকে না থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গেও সমান কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রেখেছে। পরাশক্তিগুলোর স্বার্থভিত্তিক কূটনীতির মাধ্যমে বিশ্ব রাজনীতিতে নিজেদের অবস্থান ধরে রেখেছে।
১৯৯০-এর দশকে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর বিশ্বব্যবস্থা এককেন্দ্রিক হয়ে ওঠে। পরে রাশিয়া সোভিয়েত ইউনিয়নের উত্তরাধিকারসূত্রেই সামরিক ও অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী, এরই মধ্যে চীন বৃহত্তম অর্থনৈতিক শক্তিতে পরিণত হয়েছে এবং বিশ্ব বহুকেন্দ্রিকতার দিকে এগিয়েছে। চীন-ভারত সম্পর্ক শীতল হলেও আঞ্চলিক রাজনীতিতে তাদের অবস্থান বিপরীতমুখী। রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গেও চীন-ভারতের সম্পর্ক জটিল। দক্ষিণ এশিয়ার সার্ক এক যুগেরও বেশি সময় ধরে ভারত-পাকিস্তান দ্বন্দ্বে অকার্যকর হয়ে আছে। যুক্তরাষ্ট্র চীনের বাণিজ্যিক প্রভাব কমাতে বিভিন্ন তৎপরতা চালাচ্ছে। সম্প্রতি ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাই মাদুরোকে অপহরণ ও দক্ষিণ আমেরিকার বিভিন্ন দেশে সংকট তৈরি তার প্রমাণ।
ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল ও আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতি
বিশ্ব বাণিজ্য ও সামরিক শক্তির বিকাশের সঙ্গে ভূ-রাজনীতির মেরুকরণ পাল্টেছে। ১৯৬৫ সঙ্গে চীন-সোভিয়েতের বিরোধের পর কমিউনিস্ট চীন ও পুঁজিবাদী যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। জিয়াউর রহমান তাই চীন-মার্কিন ও মধ্যপ্রাচ্য ঘেঁষা নীতি গ্রহণ করেন। কিন্তু বর্তমান চিত্র তার বিপরীত। চীনের প্রভাব রোধে যুক্তরাষ্ট্রের ‘জাতীয় নিরাপত্তা নীতি’তে চীন ঘেরাও অন্যতম। বাংলাদেশে ও এই অঞ্চলে চীনের প্রভাব কমাতে সামরিক চুক্তির বিষয় সামনে চলে আসছে। কিন্তু চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক গভীর; বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগের পাশাপাশি শিল্পের কাঁচামালের প্রায় ৮০ ভাগই চীন থেকে আসে।
এই মুহূর্তে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের কৌশলগত অংশীদারের বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার। আগে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি ভারত থেকে মুখ ফিরিয়ে চীনমুখী ছিল, এখন করতে হবে বিপরীতমুখী। ভারতের সঙ্গে কূটনৈতিক সংযোগ আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। এ প্রেক্ষাপটে ভারত-বিরোধী রাজনীতি প্রবল হচ্ছে। অন্যদিকে, ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেছেন, তৃতীয় পক্ষের চাপে চীন-বাংলাদেশ সম্পর্ক ক্ষুণ্ন হবে না।
বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক
বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক কেমন হবে? নির্বাচনে জয়লাভের পর এই প্রশ্নের উত্তরে তারেক রহমান বলেছেন, “বাংলাদেশ ও এ দেশের মানুষের বৃহত্তর স্বার্থ রক্ষা করে আমাদের পররাষ্ট্রনীতি নির্ধারণ করব।” মুহাম্মদ ইউনূসের সময় ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক তলানিতে ছিল। কিন্তু বিএনপির বিজয়ের পর ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী শুভেচ্ছা জানিয়েছেন, ফোন করেছেন, শপথ অনুষ্ঠানে লোকসভা স্পিকারকে পাঠিয়েছেন, সর্বোপরি তারেক রহমান ও তার পরিবারকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। সর্বশেষ ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানকে। এগুলো সম্পর্ক উন্নয়নে সদিচ্ছার প্রকাশ।
ট্রাম্পের অভিনন্দন ও চুক্তি অনুসরণের তাগিদ
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বাংলাদেশের নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়ে চিঠি পাঠিয়েছেন। চিঠিতে এই বিজয়কে ‘ঐতিহাসিক’ বলে সফলতা কামনা করেছেন। কিন্তু ট্রাম্প তার চিঠিতে তিনটি বিষয় স্পষ্ট উল্লেখ করেছেন:
১. বাণিজ্য চুক্তি বাস্তবায়নের মাধ্যমে সম্পর্ক অগ্রসর করা,
২. দুই দেশের অংশীদারত্ব ও অবাধ ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল গড়ে তোলার তাগিদ প্রদান এবং
৩. প্রতিরক্ষা চুক্তিগুলো দ্রুত সম্পন্ন করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া।
নির্বাচনের মাত্র ৩ দিন আগে করা ইউনূস সরকারের বিতর্কিত বাণিজ্য চুক্তির অধীনে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের ৬,৭১০টি পণ্যে শুল্ক ছাড় দেবে, বিনিময়ে সুবিধা পাবে ১,৬৩৮টি পণ্যে। এই অসম চুক্তির বিপরীতে তৈরি পোশাক শিল্পের শুল্ক মাত্র ১ শতাংশ কমেছে। এতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাধ্যতামূলক আমদানি, তাদেরকে দেশীয় প্রতিষ্ঠানের মতো সুবিধা প্রদান, দেশীয় প্রতিষ্ঠানের সুবিধা হরণ ও মার্কিন নিরাপত্তা জালে জড়ানোর মতো ভয়াবহ সব শর্ত রয়েছে।
এছাড়া আকসা (অ্যাকুইজিশন অ্যান্ড ক্রস-সার্ভিসিং অ্যাগ্রিমেন্ট) ও জিসোমিয়ার (জেনারেল সিকিউরিটি অব মিলিটারি ইনফরমেশন অ্যাগ্রিমেন্ট) চুক্তি দুটিতে সইয়ের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ১০ বছর ধরে চাপ দিচ্ছে। জিসোমিয়া এক ধরনের গোপন সামরিক চুক্তি যার মাধ্যমে স্পর্শকাতর গোপন সামরিক তথ্য সরবরাহ করা হয়। ট্রাম্পের চিঠিতে এই চুক্তি রক্ষা ও অনুসরণের তাগিদ উদ্বেগজনক। এতে প্রশ্ন উঠেছে, অন্তর্বর্তী সরকারের চুক্তি বর্তমান সরকারকে মানতে বাধ্য করা হবে কি?
যুক্তরাষ্ট্র কেন এই চুক্তি করতে তৎপর?
২০২৫ সালের মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা কৌশলে ইন্দো-প্যাসিফিকে চীনের প্রভাব কমানো শীর্ষ অগ্রাধিকারের মধ্যে রয়েছে। ভারতের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র যে চারটি সামরিক চুক্তি সম্পন্ন করেছে তার মধ্যে এটি অন্যতম। বাংলাদেশ ভারত মহাসাগরের কেন্দ্রস্থলে থাকায়, তাকে সামরিকভাবে শক্তিশালী করে মার্কিন বলয়ে যুক্ত করাটাই তাদের লক্ষ্য।
পরিবর্তিত বিশ্ব বাস্তবতায় জিয়ার পররাষ্ট্রনীতির প্রাসঙ্গিকতা এখন কতটা? আঞ্চলিক রাজনীতিতে তার যে ভারসাম্যমূলক নীতি ছিল, তা বর্তমান প্রেক্ষাপটে অর্জন করা কি সম্ভব? যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যে অসম চুক্তিটি হয়েছে, ওই প্রেক্ষাপটে খলিলুর রহমান কি পারবেন বাংলাদেশকে মার্কিন স্বার্থের বলয় থেকে বের করে আনতে?
বিখ্যাত মার্কিন কূটনীতিক হেনরি কিসিঞ্জার পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে বাস্তববাদ (রিয়েলিজম) এবং শক্তির ভারসাম্য (ব্যালেন্স অব পাওয়ার) তত্ত্বের ওপর জোর দিতেন। তার বিখ্যাত বই ‘ডিপ্লোম্যাসি’তে তিনি দেখিয়েছেন, আন্তর্জাতিক রাজনীতি নৈতিক আদর্শের চেয়ে ক্ষমতার কাঠামো দ্বারা অনেক বেশি নিয়ন্ত্রিত। বাংলাদেশকে এখন সিদ্ধান্ত নিতে হবে এই দুই বাস্তবতার মধ্যে কোনটিকে নিজেদের নীতি হিসেবে গ্রহণ করবে।
বর্তমান বিশ্ব বহুমাত্রিক কাঠামোর দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের ঠিক পছন্দ নয়। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কাঠামো এমন যে, বহুমাত্রিক বিশ্বের সঙ্গে যুক্ত থাকা অনিবার্য হয়ে পড়েছে। আমাদের শিল্প-কারখানার উৎপাদন, কাঁচামাল সরবরাহ, ব্যবসা-বাণিজ্য, আমদানি-রপ্তানি—সবকিছুর জন্যই এই বহুমাত্রিক কাঠামোর অংশীদার থাকা অপরিহার্য।
বাংলাদেশ ফার্স্ট না আমেরিকা?
দুটি স্লোগানই মূলত জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলে। প্রতিটি রাষ্ট্র নিজের স্বার্থ রক্ষায় সচেষ্ট থাকাটাই স্বাভাবিক। সমস্যা তখনই দেখা দেয়, যখন কোনো শক্তিশালী রাষ্ট্র তার সামরিক, অর্থনৈতিক বা কৌশলগত প্রভাব ব্যবহার করে দুর্বল রাষ্ট্রকে অসম শর্তের চুক্তিতে আবদ্ধ করে। এতে পারস্পরিক সহযোগিতার পরিবর্তে নির্ভরশীলতা সৃষ্টি হয়।
এই প্রেক্ষাপটে জোসেফ নাইয়ের তত্ত্ব গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, আধুনিক বিশ্বে শক্তি শুধু ‘হার্ড পাওয়ার’ (সামরিক বা অর্থনৈতিক বলপ্রয়োগ) নয়; বরং ‘সফট পাওয়ার’ অর্থাৎ সংস্কৃতি, মূল্যবোধ এবং নীতিগত আকর্ষণের মাধ্যমেও প্রভাব বিস্তার করা যায়। তার মতে, টেকসই ও কার্যকর পররাষ্ট্রনীতি হলো ‘স্মার্ট পাওয়ার’—যেখানে হার্ড ও সফট পাওয়ারের ভারসাম্যপূর্ণ সমন্বয় ঘটে।
যদি কোনো বৃহৎ শক্তি শুধু সামরিক বা কৌশলগত স্বার্থে একটি দুর্বল রাষ্ট্রের ওপর চাপ প্রয়োগ করে চুক্তি করায়, তাহলে দীর্ঘমেয়াদে তা আস্থার সংকট সৃষ্টি করে এবং পারস্পরিক সম্পর্ককে দুর্বল করে দেয়। অন্যদিকে, পারস্পরিক সম্মান, সমতা এবং পারস্পরিক লাভের ভিত্তিতে সম্পর্ক গড়ে তুললে তা সফট পাওয়ারের ইতিবাচক প্রয়োগ হিসেবে বিবেচিত হয়।
সুতরাং, বাংলাদেশের নতুন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো কোনো চুক্তি বা কৌশলগত অংশীদারিত্বে হার্ড পাওয়ারের চাপকে কূটনৈতিক দক্ষতার সঙ্গে মোকাবিলা করে ‘স্মার্ট পাওয়ার’ প্রয়োগের মাধ্যমে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক, আঞ্চলিক ও বাণিজ্যিক স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া। অর্থাৎ, সম্পর্ক ছিন্ন করা নয়; বরং সমতা, কূটনৈতিক দক্ষতা এবং পারস্পরিক সুবিধার ভিত্তিতে চুক্তিগুলোকে পুনর্বিন্যাস করা। এভাবেই ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতিকে বাস্তবায়ন করা সম্ভব—সংঘাতের পথে নয়, বরং কৌশলগত ভারসাম্য এবং বুদ্ধিবৃত্তিক কূটনীতির মাধ্যমে। এটি জোসেফ নাইয়ের পররাষ্ট্রনীতি দর্শনের সঙ্গেও পুরোপুরি সঙ্গতিপূর্ণ।