Published : 09 May 2025, 05:50 PM
বাংলাদেশে যখনই কোনো আন্দোলন শুরু হয় তখন তরুণ প্রজন্মের অনেকেই তাদের সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেন, ‘আমরা তো চুড়ি পরে ঘরে বসে থাকব না, আমরা লড়ব।’ সম্প্রতি ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধে অংশগ্রহণেচ্ছু পুরুষদের কাউকে কাউকে দেখছি এমনটা লিখতে। তারা ওই যুদ্ধে গিয়ে কি করবেন, সে তাদের ভাবনা, তবে যুদ্ধ যে অর্থহীন এবং যুদ্ধে কেউ জয়ী হয় না, সেটা এখানে বলে রাখা ভালো। আন্দোলনে, অরাজকতায় ও যুদ্ধে লড়বার প্রত্যয় ঘোষণাকারী এই বীরপুরুষেরাই আবার কোনো পুরুষ যদি সাহসী পদক্ষেপ না নেয় তখন তাকে ‘চুড়ি পরে বসে থাক’ বলে কটূক্তি করে থাকে।
‘চুড়ি পরে বসে থাক’— এই বাগধারাটির ব্যবহার একধরনের সাংস্কৃতিক সহিংসতা। কোনো পুরুষের কাপুরুষতা বা দুর্বলতা প্রকাশের জন্যই ব্যাবহৃত হয়। অথচ চুড়ি হলো যে কোন নারীর একটি অলংকার, বাংলাদেশের বিবাহিত নারীরা তা নিয়ম করে পরে এবং এই চুড়ি পরেই তারা ঘরে এবং বাইরে উভয় স্থানেই কাজ করে। তাহলে সেটি দুর্বলতার প্রতীক কিভাবে হলো? এটি কেবল নারীর প্রতি অবজ্ঞাই নয়, বরং গৃহস্থালি শ্রমকে ‘অকর্মার কাজ’ হিসেবে চিহ্নিত করে। এতে একটি পিতৃতান্ত্রিক বার্তা ছড়িয়ে পড়ে, ‘পুরুষ’ মানেই বাইরে কাজ করবে, ‘নারী’ মানেই ঘরে বসে অলস থাকবে। একজনের অলংকার আরেকজনের দুর্বলতার প্রতীক কিভাবে হলো?
এমন মন্তব্যের ফলে অনেক পুরুষও গৃহস্থালি কাজে অংশ নিতে দ্বিধা বোধ করেন, কারণ সমাজ তাকে নারীসুলভ বলবে। আসলে ‘নারীসুলভ’ বলার মতো ভদ্রতা করা হয় না ‘মাইগ্যা’র মতো অকথ্য অনেক শব্দই ব্যবহার করা হয়। অন্যদিকে নারীদেরও, যারা কেবল গৃহস্থালিতে নিযুক্ত, তাদের নিজের কাজ নিয়ে অপরাধবোধ তৈরি হয়— যেন তারা কোনো কিছু করছে না। এই বাক্যটি হয়তো অনেকের কাছেই মজার বা খোঁচা দেওয়ার ভাষা হিসেবে পরিচিত আমাদের সমাজে এখনো ব্যবহৃত হয় কাউকে দুর্বল, অলস বা অকর্মা বলার জন্য। এই কথাটির মধ্যে যে কটাক্ষ লুকিয়ে থাকে, তা শুধু নারীর নয়, গৃহস্থালি শ্রমের প্রতি গোটা সমাজের অবজ্ঞার প্রতিফলন। অথচ এই চুড়ির আওয়াজ—এই শব্দই বহন করে একান্ত নিবেদিত, নিঃস্বার্থ, নীরব পরিশ্রমের ইতিহাস। কিন্তু ভেবে দেখলে এর গভীরে লুকিয়ে আছে গৃহিণী জীবনের প্রতি আমাদের সমাজের অবজ্ঞা, অবমূল্যায়ন এবং রুচিহীন দৃষ্টিভঙ্গি। এই একটি বাক্য যেন বলছে: গৃহস্থালি কাজ করাটা অলসদের কাজ, যা কোনও ‘পুরুষ’ করতে পারে না, এবং যারা করে, তারা দুর্বল। একজন গৃহিণীর সকাল শুরু হয় পরিবারের সকলে ঘুম ভাঙার আগেই, আর শেষ হয় সবার বিশ্রামের পরেও। রান্না, কাপড় ধোয়া, বাসন মাজা, বাচ্চার দেখাশোনা, বয়স্কদের সেবা, স্বামীর প্রয়োজন পূরণ— এই তালিকায় ছুটি নেই, বেতন নেই, কিন্তু দায়বদ্ধতা আছে শতভাগ।
আমাদের সমাজে হাউজ ওয়াইফ হওয়াটাকে আজও অনেকেই ‘অপ্রয়োজনীয়’, ‘অলস’ বা ‘অকর্মা’ হিসেবে দেখে। অথচ বাস্তবতা হলো, একজন গৃহিণী হলেন সেই মানুষ, যিনি ২৪ ঘণ্টার একটি ছকবাঁধা সময়ের মধ্যে কাজ করে চলেন অবিরাম। অফিসে কাজ করা একজন নারীও দিনের শেষে সেই একই গৃহস্থালি কাজের চাপে থাকেন। তবুও, গৃহিণী মানেই যেন মূল্যহীন!
বাংলার কৃষিভিত্তিক সমাজে নারীরা ঘর আর মাঠ— দুই জায়গাতেই শ্রম দিতেন। কুটিরশিল্প থেকে শুরু করে পশুপালন, চাল বানানো, শাকসবজি চাষ— সবই ছিল নারীর নিয়ন্ত্রণে। কিন্তু ঔপনিবেশিক ও নগরকেন্দ্রিক সমাজব্যবস্থায় ‘বাসা’কে নারী আর ‘বাহির’কে পুরুষের ক্ষেত্র করে তোলা হয়। তখন থেকে গৃহস্থালি কাজ ধীরে ধীরে ‘অদৃশ্য শ্রমে’ পরিণত হয়।
গবেষণায় দেখা গেছে, গৃহস্থালি শ্রম যদি অর্থমূল্যে বিবেচনা করা হতো, তাহলে একজন গৃহিণীর বার্ষিক আয় দাঁড়াত লাখ লাখ টাকায়। যুক্তরাষ্ট্রের Salary.com–এর একটি রিপোর্ট অনুযায়ী, একজন হোমমেকারের কাজের বাজারমূল্য বাংলাদেশী টাকায় বছরে প্রায় ২২ লাখ টাকার সমান। আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে এই হিসেব কম হবে নিশ্চয়ই, তা-ই বলে গুরুত্ব মোটেই কম নয়। কিন্তু বাংলাদেশে আজও গৃহস্থালি শ্রমকে ‘প্রেম-ভালোবাসা’ বা ‘নারীর কর্তব্য’ বলে অবজ্ঞা করা হয়, যেন এটি কোনো কাজই নয়।
এই দৃষ্টিভঙ্গির ফলাফল মারাত্মক। যারা হাউজ ওয়াইফ হতে চান বা সংসারকে গুরুত্ব দেন, তাদের কেবল পরিবার নয়, পুরো সমাজই ছোট করে দেখে। আত্মীয়-স্বজন থেকে শুরু করে বন্ধুবান্ধব— সবাই হয়তো মুখে বলে ‘সংসার করাও একটা শিল্প’, কিন্তু মনে মনে ভাবে, এই নারী ‘কোনো কিছু হতে’ পারেননি বলেই হয়তো ঘরে বসে আছেন।
গৃহিণীরা অনেক সময় আত্মপরিচয়ের সংকটে ভোগেন। যখন সামাজিক পরিচয়ের প্রসঙ্গে কেউ জিজ্ঞেস করে, ‘আপনি কী করেন’, তখন অনেক গৃহিণী ‘আমি হাউজ ওয়াইফ’— এই কথাটি বলতেও কুণ্ঠাবোধ করেন। কারণ এটি সমাজে ‘কাজ’ হিসেবে মূল্যায়িত হয় না। অথচ একজন গৃহিণীর দায়িত্ব একজন পূর্ণকালীন চাকরিজীবীর চেয়ে কোনো অংশে কম নয়— বরং নিরবচ্ছিন্ন ও নিরবিকল্প।
বিজ্ঞানভিত্তিক গবেষণাও এই বাস্তবতার সাক্ষ্য দেয়। ২০২২ সালের এক গবেষণায় দেখা গেছে, গৃহিণীদের মধ্যে নেতিবাচক আত্মপরিচয়, কো-ডিপেন্ডেন্সি (অন্যের ওপর অতিরিক্ত মানসিক নির্ভরতা), এবং স্বীকৃতিহীনতা মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। গবেষণায় অংশগ্রহণকারী প্রায় ৬৩ শতাংশ গৃহিণী স্বীকার করেন যে তারা মানসিকভাবে ভালো নেই এবং তারা সহায়তা প্রয়োজন মনে করেন।
আরও একটি গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে, গৃহিণীদের মাঝে সামাজিক বিচ্ছিন্নতা, একাকীত্ব এবং কাজের প্রতি সামাজিক স্বীকৃতির অভাব থেকে তৈরি হয় একধরনের ‘হাউজওয়াইফ বার্নআউট’। এই বার্নআউট থেকেই তৈরি হয় উদ্বেগ, হতাশা এবং আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি।
এই বাস্তবতা আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখায়, ঘরের মধ্যে থাকা একটি নারীর শ্রম মানসিকভাবে যতটা চ্যালেঞ্জিং, সামাজিক দৃষ্টিকোণ থেকে তার ততটাই স্বীকৃতিহীন। অথচ একটি পরিবারে শান্তি, সন্তানের মানসিক বিকাশ, স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কের ভারসাম্যসহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের মূলভিত্তি দাঁড়িয়ে থাকে একজন গৃহিণীর অক্লান্ত পরিশ্রমের ওপর।
চুড়ি, যে অলংকারটি নারীর পরিশ্রমের ছাপ বহন করে, সেটিকে আমাদের সমাজেই আবার অলসতার প্রতীক বানিয়ে ফেলা হয়েছে। কথ্য ভাষায় ‘ঘরে চুড়ি পরে বসে থাকো’ বলাটা যেন প্রতীকি অপমান, যেটা কেবল নারীরাই নয়, গৃহস্থালি কাজকে ছোট করে দেখার প্রমাণও অথবা নারীর নারীত্বকে অপমান করা। এই ভাষা শুধু নারীর পরিশ্রমকে তুচ্ছ করে না, বরং গৃহস্থালি শ্রমকে ‘অকর্মার কাজ’ হিসেবে প্রতিস্থাপন করে।
এ ধরনের ভাষার ব্যবহার একটি গভীরভাবে প্রোথিত পিতৃতান্ত্রিক মানসিকতার প্রতিফলন। এ মানসিকতা নারীর শ্রমকে অদৃশ্য করে রাখে, তার আত্মমর্যাদা কেড়ে নেয়, এবং তাকে নিজের জীবনযাপন পদ্ধতি নিয়ে অপরাধবোধে ভোগায়। অথচ একজন হাউজ ওয়াইফও একজন কর্মজীবী নারী। পার্থক্য শুধু এই যে, তার কর্মক্ষেত্র অফিস না হয়ে ঘর।
আজকের সমাজে নারীরা চায় স্বনির্ভরতা, অর্থনৈতিক স্বাধীনতা, এবং কর্মক্ষেত্রে অবস্থান। এটা একদমই যৌক্তিক। প্রতিটি মেয়েরই উচিত নিজের পায়ে দাঁড়ানো, আয়-উপার্জনে যুক্ত হওয়া। কিন্তু তার মানে এই নয় যে, যারা নিজেদের ইচ্ছায়, কিংবা পারিবারিক চাহিদায় গৃহকর্মে নিযুক্ত, তারা ছোট বা অক্ষম।
সমাজের এই বদ্ধমূল ধ্যানধারণা ভাঙতে হলে প্রয়োজন নারীদের শ্রমের পুনর্মূল্যায়ন। প্রয়োজন কথ্যভাষা ও উপমাগুলোর মধ্যে থাকা লিঙ্গবৈষম্যমূলক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে সচেতনতা তৈরি করা। ‘চুড়ি পরে ঘরে বসে থাকা’ কথাটির ব্যবহারে যে অবমাননার মনোভাব রয়েছে, সেটিকে চ্যালেঞ্জ করতে হবে আমাদের সাহিত্য, গণমাধ্যম এবং শিক্ষাক্ষেত্র থেকে। বাংলা নাটক ও সিনেমায় গৃহিণী চরিত্রগুলোকে প্রায়শই ক্লিশে এবং গৌণ চরিত্র হিসেবে দেখানো হয়। তারা হয় শুধুই রান্নাবান্নার, নয়তো স্বামীর মুখাপেক্ষী। গৃহস্থালি শ্রমের শ্রমিক হিসেবে, একজন দক্ষ সংগঠক হিসেবে, অথবা একজন কৌশলী সমন্বয়কারী হিসেবে তাদের চিত্রায়ণ হয় না।
এই সীমিত উপস্থাপনাও গৃহিণীদের অবমূল্যায়নের একটি কারণ। কারণ মিডিয়াই মানুষের চিন্তা ধারা কে পরিবর্তন করতে এবং কাঠামো গড়তে মূখ্য ভুমিকা রাখে।
প্রাথমিক শিক্ষা থেকেই ‘গৃহস্থালি শ্রম’ বিষয়ে মূল্যবোধ তৈরি করা গুরুত্বপূর্ণ। ছেলেমেয়ে উভয়ের জন্য ‘সংসার পরিচালনা’ ও ‘ঘরের কাজ’ শেখানোর প্রক্রিয়া চালু করা দরকার। গণমাধ্যমে গৃহিণীদের বাস্তব সংগ্রামের প্রতিফলন করা। নাটক, সিনেমা, রিয়েলিটি শো-তে গৃহিণীদের সৃজনশীলতা, দক্ষতা ও আত্মত্যাগ তুলে ধরা উচিত। আন্তঃপারিবারিক স্বীকৃতি ও দায়িত্ব ভাগাভাগি করে নেয়া। পরিবারের সব সদস্য—স্বামী, সন্তান, শ্বশুর-শাশুড়ি— সবাইকে গৃহিণীর কাজে সাহায্য ও সম্মান জানাতে উৎসাহিত করতে হবে। ভাষার সংবেদনশীলতা বাড়ানো একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। ‘চুড়ি পরে বসে থাকা’ বা ‘নারীর কাজ’ জাতীয় লিঙ্গবৈষম্যমূলক বাগধারার বিরুদ্ধে সচেতনতা গড়ে তুলতে হবে।
বিশ্বে কিছু মাতৃতান্ত্রিক সমাজ আছে যেখানে নারীর ঘরের ভেতরের ভূমিকা কেবল গৃহস্থালি কাজে সীমাবদ্ধ নয় বরং সামাজিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক নেতৃত্বের অংশ। উদাহরণস্বরূপ: মিনাংকাবাউ, ইন্দোনেশিয়া, পৃথিবীর বৃহত্তম মাতৃতান্ত্রিক সমাজ। আমাদের এই বাংলাদেশেও গারো ও খাসিদের সমাজ মাতৃতান্ত্রিক। গারোরা, নিজেদের মান্দি বলে পরিচয় দিতে পছন্দ করে এবং তাদের বাস বাংলাদেশের গারো পাহাড়ের পাদদেশে ও মধুপুর গড়ে। খাসিদের বসত সিলেট, সুনামগঞ্জ ও মৌলভীবাজার অঞ্চলে। এখানে সম্পত্তি মায়ের লাইন ধরে চলে এবং নারীরা পারিবারিক সিদ্ধান্তে মুখ্য ভূমিকা রাখেন। মোসো, চীন, নারীরা পারিবারিক নেতৃত্ব দেন এবং সমাজে ‘ওয়াকিং ম্যারেজ’ সংস্কৃতি প্রচলিত যেখানে নারীর স্বাধীনতা সর্বোচ্চ।
এই সমাজগুলোর বাস্তবতা আমাদের দেখায়, গৃহস্থালি কাজ এবং মাতৃত্ব কেবল পরিবার নয়, সমাজ গঠনেরও গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। সেখানে এই শ্রমকে অবমূল্যায়ন করা হয় না বরং সামাজিক কাঠামোর স্তম্ভ হিসেবে দেখা হয়।
আমরা কি চুড়ির টুংটাং শব্দকে পরিশ্রমের সুর হিসেবে কল্পনা করতে পারি না? একজন মা যখন দুপুরে সন্তানকে খাওয়াতে ব্যস্ত, একজন স্ত্রী যখন স্বামীর অফিসের কাপড় রেডি করেন, একজন মেয়ে যখন সংসারের খুঁটিনাটি সামলান— তাদের হাতে থাকা চুড়ি তো কেবল সৌন্দর্যের প্রতীক নয়, সেটি শ্রম ও স্নেহের এক অমোঘ চিহ্নও।
আজকের নারী শিক্ষিত, কর্মজীবী, দক্ষ ও আত্মপ্রত্যয়ী। কিন্তু যে নারী কর্মক্ষেত্রে যাচ্ছেন না, তিনিও সমাজের জন্য সমান গুরুত্বপূর্ণ। নারীর মুক্তি মানে কেবল চাকরিতে যাওয়া নয়, বরং তার শ্রম ও ভূমিকাকে স্বীকৃতি দেওয়া, যে সে যেখানেই থাকুক না কেন।
নারীকে গৃহিণী করে রাখা নয়, বরং গৃহিণী হওয়াকে ছোট করে দেখা বন্ধ করাটাই হওয়া উচিত প্রগতিশীল সমাজের লক্ষ্যে। সুতরাং আমাদের সমাজে গৃহস্থালি শ্রমকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি, ভাষাগত সম্মান এবং মানসিক গুরুত্ব দেওয়া এখন সময়ের দাবি। কারণ, ঘরের ভেতর যে হাত চুড়ি পরে কাজ করেন, তার শ্রমেই গড়ে ওঠে আমাদের ভবিষ্যৎ। এখন সময় এসেছে গৃহিণীদের শ্রদ্ধা করার, তাদের অবদানের স্বীকৃতি দেওয়ার এবং ‘চুড়ি পরে বসে থাক’ জাতীয় প্রবাদ-প্রবচনের মুখোশ উন্মোচন করার, যা আমাদের চিন্তা-ভাবনাকে নারীবিরোধী করে তোলে।
কারণ, ঘরের কাজ কোনো ‘অলসদের’ জন্য নয়। এটি ধৈর্য, প্রেম, সময়জ্ঞান ও শৃঙ্খলার একটি সম্পূর্ণ চাকরি— যার কোনো নির্ধারিত সময়, কোনো ছুটি, কোনো বোনাস নেই। শুধুই দায়িত্ব, প্রতিশ্রুতি এবং অফুরন্ত ভালোবাসা। গৃহিণী হওয়া কোনো ব্যর্থতা নয়, বরং একটি পরিপূর্ণ দায়িত্বপূর্ণ পেশা। একজন গৃহিণী হাতে চুড়ি পরে যত্নে সংসার গড়েন, প্রতিদিন শত কাজ করেন, কিন্তু তার টুংটাং শব্দকে যদি সমাজ অলসতার প্রতীক বলে অপমান করে— তাহলে সেই সমাজের মূল্যবোধ নিয়ে আমাদের প্রশ্ন তোলা জরুরি।
পরিবর্তন আনতে হলে প্রথমেই আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে হবে— গৃহিণীর প্রতি সম্মান ফিরিয়ে আনতে হবে। কারণ তারা অলস নন, দুর্বল নন বরং তারাই সমাজের সবচেয়ে নিঃস্বার্থ পরিশ্রমী— যারা ‘চুড়ির শব্দে’ গড়ে তোলেন একটি ঘরের ভিত।