Published : 09 Feb 2026, 09:20 PM
এই ভূমিতে এর আগে একাধিকবার গণভোট হয়েছে। সহজ ও বোধগম্য প্রশ্নেই হয়েছে। কিন্তু বলাবাহুল্য যে, এবারের গণভোটের প্রশ্নপত্র সহজ-জটিলের সীমানা ছাড়িয়ে হয়ে উঠেছে বিতর্কিত।
শিক্ষকদের সাধারণত প্রশ্নপত্র তৈরির ক্ষেত্রে একটি চিরাচরিত ফ্রেমওয়ার্ক মাথায় রাখতে হয়। সেটি হলো, এমন প্রশ্নপত্র তৈরি করতে হয় যেন ক্লাসের সকল পর্যায়ের শিক্ষার্থী পূর্ণ নম্বরের উত্তর করতে পারেন। আমাদের জন্য একটা জাতিগত লজ্জা যে, দু’জন অধ্যাপক এবারের গণভোটের প্রশ্নপত্র প্রণয়নে নেতৃত্ব দিলেও এবং আরও কয়েকজন অধ্যাপক সেই প্রশ্নপত্র রিভিউ করলেও, সেই চিরাচরিত ফ্রেমওয়ার্ক তারা মাথায় রাখেননি! ফলে, সবচেয়ে বিপদ সেসব মানুষের জন্য, যারা প্রশ্নপত্রই বুঝেননি, অথচ তাদের পরীক্ষায় পূর্ণ নম্বরের উত্তর দিয়ে আসতে হবে!
বাংলাদেশের জাতিগত শিক্ষার যে বর্তমান মান, তার একটি ক্ষুদ্র একক ধরে নেওয়া যায় এই প্রশ্নপত্রকে। শিক্ষার এই হালের পেছনে শিক্ষকদের দায় ব্যাপক। শিক্ষক হিসেবে সেটা স্বীকার করি বরাবরই। কিন্তু, শিক্ষকরা যখন নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে গিয়েও, জাতির আপামর মনস্তত্ত্ব বুঝতে পারেন না, তখন শুধু শিক্ষাব্যবস্থা নয়, পুরো ব্যবস্থা বদলের আকাঙ্ক্ষাটাই আমাদের অপূর্ণ থেকে যায়।
বাস্তবতা হলো, পরীক্ষায় তো আমাদের বসতেই হয়। এবারও বসতেই হবে—গণভোটে। আর স্যারেরা ঠিক করেছেন, আমরা প্রশ্নপত্র বুঝি বা না-বুঝি, উত্তরও দিতেই হবে। যেকোনো প্রশ্নের সাপেক্ষেই শিক্ষকদের একটা আকাঙ্ক্ষিত উত্তর থাকে, বিশেষত অবজেক্টিভ বা বহুনির্বাচনি প্রশ্নে। গণভোটের প্রশ্ন চারটি, কিন্তু উত্তর একবারই দেওয়া যাবে। এমন এক ‘ধাঁধাচ্ছন্ন’ প্রশ্নপত্রে আমাদের স্যারেদের আকাঙ্ক্ষিত উত্তর হলো: ‘হ্যাঁ’।
অতএব, ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত হবে বলে অনুমান করা যায়। সিদ্ধান্ত দেওয়া যায়? যায় বৈকি। রাষ্ট্র ও সরকারের মতো শক্তিশালী অংশীদার যে পক্ষে থাকে, তার জন্য পরাজিত হওয়া না মুন কিন বটে! বাংলাদেশের ইতিহাসে সহজ প্রশ্নেও ‘হ্যাঁ’র হারার রেকর্ড নেই। আর যে প্রশ্নপত্র জটিল করাই হয়েছে ‘হ্যাঁ’-কে জেতানোর জন্য, সে হারবে কেন!
২.
কয়েকটি বিষয়ে আপত্তি থাকলেও, আমি ব্যক্তিগতভাবে অনেকগুলো সংস্কারের পক্ষে। কিন্তু, আমি যদি সত্যিকার অর্থে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে ধারণ করার পক্ষে থাকি, তাহলে গণভোটের এই প্রশ্নপত্র সেই মূল্যবোধের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলেই মনে করি৷ মুখস্থ ‘হ্যাঁ’র পক্ষে আমার আপত্তির জায়গা এটাই৷ যে প্রশ্নপত্রে পরস্পর সাংঘর্ষিক একাধিক প্রশ্ন করে শিক্ষক প্রত্যাশা করেন সবগুলোর উত্তরই একবারে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ হবে, সেই প্রশ্ন কী করে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে ধারণ করতে পারে?
দ্বিতীয়ত, এর আগেও আমি এখানে এক নিবন্ধে লিখেছি, সংবিধান সংস্কারের জন্য এই গণভোট এক ধরনের ‘ইন্টেরিম শো-অফ’ ছাড়া কিছুই নয়। সংসদ যখন সার্বভৌম, তখন সংস্কারের পক্ষে দল-মত নির্বিশেষে সংসদ সদস্যরা অবস্থান নিলেই, দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের ভোটে সংবিধান সংশোধন করা যায়, অতীতেও সেটা হয়েছে। তাছাড়া, তখন পর্যন্ত প্রশ্নপত্রও প্রণয়ন হয়নি। কিন্তু, আমার আশঙ্কা ছিল, যদি ‘না’ জিতে যায়, তাহলে গণভোট ও প্রয়োজনীয় সংস্কারের জন্য এই আয়োজনের পুরো প্রকল্পটাই ভেস্তে যাবে। আয়োজকরাও সেই আশঙ্কা বা আসন্ন বিপদ টের পেয়ে আদাজল খেয়ে ‘হ্যাঁ’-র পক্ষে নেমেছেন। অথচ, জাতীয় সংসদের ওপর এই পুরো গুরুভার ছেড়ে দিলেই সমস্ত জটিলতা এড়ানো যেত।
সংসদে তর্ক-বিতর্কের মেরিট আর সিভিল সোসাইটি নির্মিত কমিশন-বৈঠকে কয়েকটি রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের নিয়ে তর্ক-বিতর্কের মেরিট কোনোদিনও এক পাল্লায় পরিমাপযোগ্য হবে না। কনস্টিটিউয়েন্সি পলিটিক্স করা রাজনৈতিক দলগুলো সংসদের মর্যাদাকে এতে করে ক্ষুণ্ণই করেছেন বলা যায়। তবুও, গণভোট হচ্ছে এবং রায় আয়োজকদের পক্ষেই যাচ্ছে বলে সিদ্ধান্ত দেওয়া যায়।
৩.
এই দীর্ঘ ভূমিকাটি দিতে হলো এজন্য যে, সংবিধান সংস্কারের যে ৪৭টি বিষয় গণভোটের অংশ হয়েছে, তার অন্যতম হলো ‘উচ্চকক্ষ’। সংবিধান সংস্কার সংক্রান্ত বাকি বিষয়গুলো এই লেখার পরিসীমায় আমরা বিবেচনা করছি না। এতক্ষণ শুধু আমরা দেখতে চেষ্টা করলাম, কেন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জিতবেই। জিতলে প্রস্তাবিত সাংবিধানিক সংস্কার রূপরেখা অনুযায়ী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী সদস্যবৃন্দ প্রথম ১৮০-২৭০ দিন ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদে’র সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। এই পরিষদ আর যা-ই করুক না কেন, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত হওয়া মাত্রই উচ্চকক্ষে প্রবেশের দ্বার উন্মুক্ত হয়ে যাবে।
প্রস্তাব অনুযায়ী, উচ্চকক্ষ বা সিনেট হবে ১০০ সদস্য বিশিষ্ট। এই সদস্যরা পরোক্ষ ভোটে নির্বাচিত হবেন। নির্বাচনটি হবে সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব বা পিআর (PR) পদ্ধতিতে। জাতীয় নির্বাচনে যে দল যত কাস্টিং ভোট পাবে, শতকরা ততভাগ আসন তারা উচ্চকক্ষে অর্জন করবে। উচ্চকক্ষ গঠিত হওয়া মাত্রই জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত সদস্যরা নিম্নকক্ষের প্রতিনিধি হয়ে যাবেন। স্ট্যাটাসে নিম্ন হলেও, গুরুত্বে এই কক্ষ মোটেও নিম্ন নয়৷ কেননা জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত এই প্রতিনিধিদের সংখ্যার ভিত্তিতেই সরকার নির্বাচিত হবে।
ভবিষ্যতে আর কোনো নতুন পদ্ধতি বেছে নেওয়া হবে কি না, বলা যায় না। তবে, অন্তত এবারের জন্য এভাবেই নিম্ন ও উচ্চকক্ষ গঠিত হবে। অতএব, লেখার শিরোনামটিকে আমরা শুধু এবারের সংসদ নির্বাচনের সীমাতেই বিবেচনা করছি৷
৪.
আওয়ামী লীগবিহীন এবারের নির্বাচনে সরকার গঠনের জন্য পরিষ্কার ফেবারিট বিএনপি কিংবা জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন জোট। জুজুধান এই দুই জোটের মধ্যে ঐতিহাসিক কারণেই বিএনপির নেতৃত্বধীন জোট হটফেবারিট। কিন্তু, নানা সমীকরণে বহু আসনে তাদের হিসাবনিকাশ উল্টে দিয়ে নাভিশ্বাস ফেলে দিয়েছে ইসলামপন্থিদের এই জোটটি। সেজন্যই ভোটের রাজনীতিতে পরিষ্কার ব্যবধানে ফেবারিট থাকা বিএনপি ৫ অগাস্টের পর যতটা আত্মবিশ্বাসী ছিল, এখন সেখানে কিছুটা যদি-কিন্তু এসে গেছে। নিজেদের ন্যারেটিভ পর্যন্ত বদলাতে হয়েছে।
এই যে জটিল পরিস্থিতি, এর অন্যতম কারণ নৌকা ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ভোট। অবস্থা এমনই যে, আওয়ামী লীগ এই নির্বাচনে না থেকেও নতুন সরকার গঠনের ক্ষেত্রে বড় ফ্যাক্টর হয়ে উঠতে পারে, তা যতই দলীয় হাইকমান্ডের অবস্থান নির্বাচনবিরোধী হোক না কেন। এ কারণে প্রত্যেকটি দল ও জোট আপাতত সরকারের গঠনের জন্য ম্যাজিক নম্বর নিয়ে ব্যতিব্যস্ত। ব্যাপারটাকে এভাবেও বলা যায়, আগে নিম্নকক্ষের চিন্তা, উচ্চকক্ষ পরে দেখা যাবে।
মজার বিষয় হলো, সবার আগে উচ্চকক্ষের প্রস্তাব দেওয়া বিএনপির মধ্যেই এই প্রবণতা বেশি দেখা যাচ্ছে—তারা স্বভাবতই সরকার গঠন নিয়ে বেশি মরিয়া। খোলা চোখে জামায়াতও এর বাইরে কিছু চিন্তা করছে না। জামায়াত বরাবর পিআর চেয়েছে। স্বভাবতই তার এদিকে প্রস্তুতি থাকার কথা। আছে কি? বাস্তবিক বিশ্লেষণে তা মনে হচ্ছে না। তবে, জামায়াতের কৌশলকে তো অনেক সময় খোলা চোখে দেখার ঝুঁকিও আছে।
এই প্রসঙ্গে ফয়সালা হয়তো আমরা করতে পারব না। কিন্তু বোঝাপড়া করতে পারব। তাতে দেখা যেতে পারে, জামায়াত সরকার গঠন যদি নাও করতে পারে এবার, অন্তত উচ্চকক্ষে তারা বেশ শক্তিশালী অবস্থান গ্রহণ করতে পারবে। উচ্চকক্ষে দলগুলো আনুপাতিক হারে আসন পাবে তাদের দলীয় প্রতীকের বিপরীতে পাওয়া মোট ভোট অনুযায়ী। অর্থাৎ, আসনের জয়-পরাজয় ফ্যাক্টর না হলেও, কে কতটি আসনে প্রার্থী দিয়েছে, এটা অবশ্যই বড় ফ্যাক্টর। কেননা, যত বেশি আসনে প্রার্থী দেওয়া যায়, তত বেশি আসনে নিজেদের প্রতীকে ভোট পাওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। এ হিসাবে, সবচেয়ে বেশি ২৯২ আসনে প্রার্থী থাকা ধানের শীষ এবং দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২২৪ আসনে থাকা দাঁড়িপাল্লার মধ্যে লড়াই হবে। কিন্তু, ২৯২-এর বিপরীতে ২২৪ কি টক্কর দিতে পারবে?
এর উত্তর কিন্তু সহজ নয়। প্রথমত, সব আসনে ভোটার সংখ্যা সমান নয়। যেহেতু সারা দেশের মোট প্রাপ্ত ভোটের ভিত্তিতে কোনো প্রতীকের পক্ষে উচ্চকক্ষের আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব নির্ধারণ করা হবে, সেহেতু একটি ভোটেরও মূল্য আছে। সেক্ষেত্রে অনেক বেশি ভোটার আছে যেসব আসনে, সেগুলো হেরে গেলেও, কেউ যদি হারের ব্যবধান কমিয়ে রাখতে পারে, তাহলে সারাদেশের মোট প্রাপ্ত ভোটের অংকে এগিয়ে থাকার সুযোগ থাকে। ফলে, ২৯২-এর বিরুদ্ধে ২২৪-এর লড়াই একেবারেই ফেলে দেওয়া যাবে না।
এই হিসাবের সঙ্গে যুক্ত হবে, বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীদের সংখ্যা, যারা স্বতন্ত্র দাঁড়িয়েছেন। দৈনিক সমকালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, “৭৮টি আসনে বিএনপির বহিষ্কৃত, সাবেক এবং নেতাদের পরিবারের সদস্যরা স্বতন্ত্র বা বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন।” এই ৭৮ আসনে তাদের বিদ্রোহী প্রার্থীর সংখ্যা ৯২-৯৮ জন। এই হিসাব অনুযায়ী, বিএনপির ধানের শীষ নিজের একক ভোট পাবে ২২৪ আসনে, বাকিগুলোতে স্বভাবতই ভোট কাটাকাটি হবে। অন্যদিকে, ২২৪টির মধ্যে জামায়াতের বিদ্রোহী প্রার্থী মাত্র একজন হলেও উল্লিখিত ৭৮ আসনের ৭টিতে জামায়াতের জোটসঙ্গীরাও প্রার্থী দিয়েছেন। সব মিলিয়ে জামায়াত ও জোটসঙ্গীদের 'কমন' আসন ৬৪টি। এই কমন আসনগুলোর মধ্যে জামায়াতের প্রার্থী আছেন ৪৭টিতে, বাকিগুলোতে অন্যান্য জোটসঙ্গীরা পরস্পরের বিরুদ্ধে লড়ছেন৷ এসব আসনে বিএনপিও নিশ্চিত সুবিধা পাবে। কিন্তু, সত্য এই যে, বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীরা ভোট ব্যাংকে দলীয় প্রতীকের যে ক্ষতি করার সক্ষমতা রাখেন, জামায়াতের 'জোটসঙ্গী বিদ্রোহীরা' ততটা ক্ষতি জামায়াতের করতে পারবেন না।
এই যুক্তিতে সমীকরণ তাহলে এমন দাঁড়াচ্ছে যে, উচ্চকক্ষের জন্য মূল লড়াই আসলে ধানের শীষের ২২৪ বনাম দাঁড়িপাল্লার ২২৩ আসনে, যেখানে প্রতীকগুলো তাদের একক ভোটব্যাংক ব্যবহার করতে পারবে। দৈনিক সমকাল লিখেছে, যেগুলোতে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী আছে, সেগুলোর ৪৯টি আসনে রয়েছে জামায়াতের একক প্রার্থী এবং স্বভাবতই তারা প্রতিপক্ষের চেয়ে ভালো অবস্থানে পৌঁছে গেছেন।
সরকার গঠনে এই ৪৯টি আসনই বড় ফ্যাক্টর গড়ে দিতে পারে বলে অনুমান করা যায়। কিন্তু, এগুলো কি শুধুই নিম্নকক্ষের জন্য ফ্যাক্টর? না, উচ্চকক্ষের জন্যও ফ্যাক্টর। যেমন ফ্যাক্টর ২২৪-এর মধ্যে থাকা বাকি ১৭৪-১৭৫টি আসনও। এদের মধ্যে এমন অনেকগুলো আসন রয়েছে যাদের ভোটার সংখ্যা অন্তত দুটি আসনের সমান। বিশ্লেষণে দেখা গেছে সর্বোচ্চ ভোটার সংখ্যার (সাড়ে আট থেকে সাড়ে সাত লাখ ভোটার) প্রথম তিনটি আসনের (যথাক্রমে গাজীপুর-২, ঢাকা-১৯ ও গাজীপুর-১) মধ্যে দুটি আসন জামায়াত জোটসঙ্গীদের ছেড়ে দিয়েছে, শুধু প্রার্থী রেখেছে গাজীপুর-১ আসনে। সাত লাখের বেশি ভোটার থাকা নোয়াখালী-৪ আসনে উভয় দলের প্রার্থী আছে। এছাড়া ছয় লাখের বেশি ভোটার থাকা সাতটি আসনের মধ্যে (ময়মনসিংহ-৪, সিলেট-১, কুমিল্লা-৬, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩, ঢাকা-১৮, যশোর-৩ ও কুড়িগ্রাম-২) তিনটিতে জামায়াতের প্রার্থী নেই (ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩, ঢাকা-১৮ ও কুড়িগ্রাম-২)। এই ১১টি আসনের কাস্টিং ভোট উচ্চকক্ষের অনেক সমীকরণ বদলে দিতে পারে।
৫.
বিএনপির গলার কাঁটা তার বিদ্রোহীরা। জামায়াতের ফাঁস তার জোটসঙ্গীদের ছাড়া বড় আসনগুলো। আশ্চর্যই বটে, যথাক্রমে উচ্চকক্ষ ও পিআর নিয়ে আলাপ তোলা দুটি দলের নির্বাচনি সমীকরণ দেখে বোঝার উপায় নেই যে, তারা একদা এসব দাবি-দফায় সোচ্চার ছিল।
তবুও, এবার নির্বাচন বেশ ভারসাম্য আনতে পারে ক্ষমতার৷ আওয়ামী লীগবিহীন নির্বাচনেও কেউ দুই-তৃতীয়াংশ আসন জিতবে না, এই চলতি অনুমান প্রভূত আশ্চর্যজনক হলেও সত্য। এর ওপর আসছে উচ্চকক্ষ। উচ্চকক্ষ ভারসাম্যপূর্ণ হলে ইচ্ছেমতো সংবিধান সংশোধনই শুধু কঠিন হয়ে পড়বে না। ক্ষমতার ভারসাম্য এমনভাবে দাঁড়াতে পারে যে, সরকার পর্যন্ত ঝুলন্ত হয়ে ভিন্ন মুখচ্ছবি ধারণ করতে পারে এ যাত্রায়।