Published : 25 Jun 2025, 02:05 AM
বিখ্যাত চীনা সমরবিদ সান জু তার ‘যুদ্ধের কৌশল’ (দ্য আর্ট অব ওয়ার) বইয়ে লিখেছেন, “যে যুদ্ধে তুমি জিততে পারবে না, সে যুদ্ধে যেও না।” এই বাক্যটি একদিকে যুদ্ধজয়ের একটি কৌশলগত বুদ্ধিমত্তা প্রকাশ করে, অপরদিকে এর অন্তর্নিহিত তাৎপর্য আরও গভীর। প্রথমত, কেবল তখনই যুদ্ধে নামা উচিত, যখন জয়ের বাস্তব সামর্থ্য ও প্রস্তুতি থাকে। দ্বিতীয়ত, সব যুদ্ধ লড়াইয়ের উপযুক্ত নয়—সব যুদ্ধে জড়ানো দূরদর্শী সিদ্ধান্ত নাও হতে পারে।
গত ২২ জুন রাতে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় বিমান হামলা চালানোর পর প্রশ্ন উঠেছে—ইরান কি এই অসম যুদ্ধে আরও এগোবে? আবার প্রশ্ন জাগে—ইরান চাইলেই কি এই যুদ্ধ থামাতে পারবে?
ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের এই যুদ্ধ এখন আর কেবল তেহরানের ওপর নির্ভর করছে না। যুদ্ধ শুরু করেছে ইসরায়েল, আর এর মূল নির্দেশদাতা হচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। এখন আবার যুদ্ধবিরতির ঘোষণাও দিচ্ছেন তিনি।
শুধু তাই নয়, একদিন আগেই যখন তিনি ইরানে ‘শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের’ সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন, পরদিনই তার কণ্ঠে শোনা যায় ভিন্ন সুর। ‘দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট’ জানায়, নেদারল্যান্ডসের হেগে নেটো সম্মেলনে যোগ দিতে যাওয়ার সময় এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন—যুক্তরাষ্ট্র ইরানের শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন চায় না। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, এতে বিশৃঙ্খলার ঝুঁকি রয়েছে।
গত সপ্তাহের শেষে যখন তিনি বি-টু বোমারু বিমান পাঠিয়ে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালালেন, তখনও বললেন—এটি দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধে জড়ানোর উদ্দেশ্যে নয়, বরং তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ধ্বংসে মিত্র ইসরায়েলকে সহযোগিতার অংশ।
তবে বিস্ময়করভাবে মাত্র দুদিন পরই, সোমবার, ট্রাম্প ঘোষণা দিলেন যুদ্ধবিরতির। তার এই আকস্মিক ঘোষণা নিছক কূটনৈতিক কৌশল নয়—সম্ভবত আলোচনার টেবিলে ইরানকে ফিরিয়ে আনার একটি চাপ সৃষ্টি। যদিও এই কিছুদিন আগে যখন তিনি তেহরানের সঙ্গে আলোচনায় ছিলেন, তখনই ইসরায়েল ইরানের ওপর হামলা চালানো শুরু করেছে।
একটি পুরোনো প্রবাদ আছে—‘যুদ্ধে প্রথম নিহত হয় সত্য।’ সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ডনাল্ড ট্রাম্পের অবস্থান ও ভাষ্য সেই প্রবাদকেই যেন নতুন করে প্রমাণ করছে। চীনা সমরবিদ সান জুকে উদ্ধৃত করে, যেখানে তিনি জয়-পরাজয় নিয়ে কথা বলেছেন, তা দিয়ে শুরু করেছিলাম, কিন্তু প্রকৃতপক্ষে যুদ্ধে সত্য নিহত হয় এবং শেষপর্যন্ত কেউ জয়ী হয় না, মানবতার মৃত্যু ঘটে।
ইরানে ইসরায়েলি হামলা কেবল একটি তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া নয়; বরং এটি আঞ্চলিক এবং বৈশ্বিক রাজনীতিতে একাধিক দরজা খুলে দিয়েছে। প্রথমত: ইরানের ‘প্রকৃত বন্ধু’ কারা—অর্থাৎ, ইরান আক্রান্ত হলে কে পাশে দাঁড়াবে—সেই হিসাব এখন অনেকটাই পরিষ্কার। দ্বিতীয়ত: ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ কি মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য রাষ্ট্রেও ছড়িয়ে পড়বে? তৃতীয়ত: ট্রাম্প রেজিম পরিবর্তন তার উদ্দেশ্য নয় বলে ঘোষণা দিয়েছেন, তবু ইসরায়েল ও তার মিত্ররা কি ইরানে সরকার পরিবর্তনের লক্ষ্যে সরাসরি হস্তক্ষেপ করবে? চতুর্থত: এই যুদ্ধ কি আরও বিস্তৃত হয়ে এক আন্তর্জাতিক রূপ নেবে?
এই সম্ভাবনাগুলোর মধ্যে প্রথমটি ইতোমধ্যেই বাস্তব রূপ নিতে শুরু করেছে। গত কয়েক দিনে ইরানের সরকার ও সাধারণ জনগণ বুঝতে পেরেছে—এই সংকটে তাদের তথাকথিত মিত্ররা আসলে কতটা পাশে আছে।
ইরানে মার্কিন বিমান হামলার পর রাশিয়া—যাকে ইরানের ‘সবচেয়ে বিশ্বস্ত বন্ধু’ বলা হয়ে থাকে—কী প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে। প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এই হামলার পর নিন্দা জানাতে প্রায় একদিন সময় নিয়েছেন। তার প্রাথমিক বিবৃতিতে হামলাকে বলা হয়েছে ‘অন্যায্য’ ও ‘উস্কানিমূলক নয় এমন আগ্রাসন’। কিন্তু গভীরভাবে বিশ্লেষণ করলে বোঝা যায়, এটি কেবল একটি প্রটোকল-ধর্মী বিবৃতি—আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে যার বিশেষ কোনো ওজন নেই।
যে রাশিয়াকে ইরান নিয়মিত অস্ত্র ক্রয়ের মাধ্যমে মিত্র হিসেবে ধরে রেখেছে, সেই রাশিয়া এহেন একটি গুরুতর হামলার পরও কার্যত কেবল একটি দায়সারা বিবৃতি দিয়েই দায়িত্ব শেষ করেছে। স্বাভাবিকভাবেই, এটি ইরান সরকারকে হতাশ করেছে। তবে বাস্তবতার নিরিখে রাশিয়ার এই নির্লিপ্ততার পেছনে যুক্তিও রয়েছে। ইউক্রেইন যুদ্ধ রাশিয়ার সামরিক ও অর্থনৈতিক শক্তিকে অনেকটাই নিঃশেষ করে ফেলেছে। এমন প্রেক্ষাপটে মস্কোর পক্ষে নতুন আরেকটি যুদ্ধের ঝুঁকি নেওয়া বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।
ইরানের সাম্প্রতিক ‘বিশ্বস্ত’ বন্ধুর তালিকায় আছে চীন ও উত্তর কোরিয়া। কিন্তু চীনের প্রতিক্রিয়াও ছিল একই রকম—শীতল ও কূটনৈতিক রুটিনমাফিক। এমন বিবৃতির আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে বিশেষ কোনো তাৎপর্য নেই। ফলে স্পষ্ট যে, ইরানের তথাকথিত মিত্রদের এই যুদ্ধে সরাসরি জড়ানোর তেমন কোনো আগ্রহ নেই। তারা হয়তো পেছন থেকে কূটনৈতিক বা প্রযুক্তিগত সহায়তা দেবে, কিন্তু সামরিকভাবে পাশে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা খুবই কম।

ইরানে মার্কিন হামলার পর, ইরানের প্রতিবেশী সৌদি আরবসহ আরব বিশ্বের ২০টি দেশ এই হামলার নিন্দা করেছে। তবে পরে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, সৌদি আরব বাস্তবে এই যুদ্ধে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রকে পরোক্ষ সহায়তা করেছে—তাদেরকে আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি দিয়ে।
জর্ডানও ইরান থেকে ছোড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্র তার আকাশসীমা অতিক্রম করার সময় ভূপাতিত করেছে—‘আত্মরক্ষার’ নামে—যা কার্যত ইসরায়েলের পক্ষেই একরকম সহায়তা দান।
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিজেপ তায়েপ এরদোয়ান হামলার আগে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য আক্রমণকে ‘ভয়াবহ’ বলে মন্তব্য করলেও, হামলার পর তুরস্ক থেকে তেমন কোনো শক্ত বার্তা আসেনি। বরং দেশটি নিরপেক্ষ ভঙ্গিতে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে বলেই মনে হচ্ছে।
২৩ জুন ইরান কাতার ও ইরাকে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে। এতে দ্বিতীয় সম্ভাবনার (এই যুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ছড়িয়ে পড়বে কিনা) এক ধরনের অস্পষ্ট গতিপথ তৈরি হয়েছে। অর্থাৎ, যুদ্ধটা এখন কেবল ইরান-ইসরায়েলের পরিবর্তে গোটা মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়তে পারে।
তবে এখনও নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না, যতক্ষণ না কাতার বা ইরাক সরাসরি এই যুদ্ধে যুক্ত হওয়ার মতো কোনো পদক্ষেপ নেয়। এখন পর্যন্ত এসব হামলা কেবল যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে—ইরানের দিক থেকে একটি একক প্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখা যাচ্ছে। ফলে যুদ্ধ এখনও দ্বিপক্ষীয় স্তরেই সীমাবদ্ধ রয়েছে, একদিকে ইরান, অন্যদিকে ইসরায়েল এবং ইসরায়েলের সহযোদ্ধা যুক্তরাষ্ট্র।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু প্রকাশ্যে ইরানে ‘রেজিম চেঞ্জ’ বা সরকার পরিবর্তনের বার্তা দিয়েছেন। যদিও অনেকে এটিকে কেবল ‘ঘোষণামূলক অবস্থান’ হিসেবে দেখছেন, বাস্তবতা নির্ভর করছে ইরানের প্রতিক্রিয়ার ওপর এবং ট্রাম্প এরই মধ্যে নিজের অবস্থান পরিবর্তন করার ঘোষণা দিয়ে ন্যাটোর দিকে যাত্রা করেছেন।
বর্তমানে ইসরায়েল ও তার মিত্রদের মূল লক্ষ্য হলো—ইরানকে তার পারমাণবিক কর্মসূচি থেকে নিবৃত্ত করা। কিন্তু যদি ইরানের জবাব আরও তীব্র হয়, তাহলে 'রেজিম চেঞ্জ' লক্ষ্যে এগিয়ে যাওয়ার ঝুঁকিও নিতে পারে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল জোট।
এই যুদ্ধ বৈশ্বিক রূপ নেবে–এমন আশঙ্কা আপাতত খুব বেশি জোরালো নয়। এই আশঙ্কা তখনই বাস্তবে রূপ নিতে পারে, যদি রাশিয়া বা চীনের মতো বৈশ্বিক শক্তিগুলো সরাসরি এই যুদ্ধে জড়ায়।
ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর এক বিবৃতিতে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন অভিযোগ করেছেন, “এক্সট্রা-রিজিওনাল শক্তিকে এই সংঘাতে টেনে আনা হচ্ছে।” তিনি আরও বলেন, “এই যুদ্ধ বিশ্বকে এক ভয়াবহ খাদের কিনারায় ঠেলে দিচ্ছে।” এই বক্তব্য থেকেই ধারণা করা যায়—রাশিয়া সরাসরি যুদ্ধে জড়াবে না, বরং কূটনৈতিক সমাধানে আগ্রহী।
পুতিন এই বক্তব্যের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে একটি বার্তা দিতে চেয়েছেন—রাশিয়া এখনো একটি দায়িত্বশীল বিশ্বশক্তি, যা ‘শান্তি ও স্থিতিশীলতার’ পক্ষে। সে বিশ্বব্যবস্থার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন এবং সংঘাত নয়, সমঝোতার মধ্য দিয়েই সমস্যার সমাধান চায়।
চীনের অবস্থানও অনেকটা একই রকম। কারণ, এই যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা চীনেরই। চীনের জ্বালানি নিরাপত্তা অনেকাংশেই ইরানি তেলের ওপর নির্ভরশীল। তাছাড়া, চীনের বহু আকাঙ্ক্ষিত ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ’ (বিআরআই)-এর অন্যতম কৌশলগত অংশীদার দেশ হলো ইরান। ফলে এই অঞ্চলে দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতা চীনের অর্থনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক স্বার্থের জন্য হুমকি।
সুতরাং, যুদ্ধকে বৈশ্বিক রূপ দেওয়ার মতো অবস্থান রাশিয়া ও চীন কেউই নিতে চায় না। বরং তারা সংঘাত নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং আঞ্চলিক শান্তি বজায় রাখতে তৎপর থাকবে বলেই মনে হচ্ছে।
ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান যুদ্ধের বাস্তবতাগুলো সার্বিকভাবে বিশ্লেষণ করলে একটি বিষয় স্পষ্ট হয়ে ওঠে—এই যুদ্ধে ইরান অনেকটাই একা। যদি ইরান এই যুদ্ধ পুরো মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার পথ নেয়, তাহলে সেটি হতে পারে এক ভয়াবহ ঐতিহাসিক ভুল। কারণ, তাতে ইরান আরও নিঃসঙ্গ হয়ে পড়বে; এবং তার ঘনিষ্ঠ মিত্রদের কেউই এই যুদ্ধে সরাসরি জড়াবে না—এটি প্রায় নিশ্চিত।
প্রশ্ন হলো, কেন? বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘রিয়াল পলিটিক’ বা বাস্তব রাজনীতি’র দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে এর যুক্তিযুক্ত ব্যাখ্যা পাওয়া যায়। ‘রিয়াল পলিটিক’—জার্মান চিন্তক আগুস্ট লুডভিশ ফন রচাও প্রবর্তিত একটি রাজনৈতিক দর্শন। ঊনিশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে রচাও তার লেখায় প্রথম এই ধারণা ব্যাখ্যা করেন। পরবর্তীতে ইউরোপে উদারতাবাদী ও জাতীয়তাবাদী শক্তির সংঘাত নিরসনে, এবং শান্তিপূর্ণ বৈদেশিক নীতি গঠনে এই ধারণা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
এই দর্শনের মূল কথা হলো—কোনো আঞ্চলিক বা আন্তর্জাতিক সংকটের মূল্যায়ন মতাদর্শ, নীতি বা নৈতিকতার নিরিখে নয়, বরং বাস্তবতা ও স্বার্থের ভিত্তিতে করা উচিত। আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় কূটনৈতিক আলোচনার ভিত্তি আজও এই বাস্তববাদী চেতনার ওপর দাঁড়িয়ে।
এই প্রেক্ষাপটে ইরানের সঙ্গে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাত এবং তাতে ইরানের একাকীত্ব, যেন বাস্তব রাজনীতির জলজ্যান্ত উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তাই, আশা করা যায়—ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের প্রভাবশালী শক্তিগুলো মতাদর্শের বশবর্তী হয়ে নয়, বরং বাস্তবতার মাটিতে দাঁড়িয়ে এমন সিদ্ধান্ত নেবে, যা যুদ্ধের পরিসমাপ্তি ঘটিয়ে বৈশ্বিক শান্তিকে সামনে এগিয়ে নেবে।