Published : 12 Jun 2026, 04:45 PM
খুলনায় নগরে বিএনপির এক নেতাকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। হামলাকারী মোটরসাইকেলে করে হেলমেট পরে এসেছিল বলে ভাষ্য পুলিশের।
শুক্রবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে নগরের লবণচরা থানার মাথাভাঙা এলাকার কাজীপাড়া বাজারে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন খুলনা মহানগর পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ বিভাগ) রেজাউর রহমান।
নিহত ৪৫ বছর বয়সি রফিকুল ইসলাম গাজী দক্ষিণ লবণচরার মাথাভাঙ্গার রতন গাজীর ছেলে। তিনি বটিয়াঘাটা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ছিলেন।
এ ছাড়া তিনি ফতুল্লা থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সহসাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তিনি এলাকায় ‘ঢাকাইয়া রফিক’ নামেও পরিচিত।
বটিয়াঘাটার জলমা ইউনিয়ন বিএনপির সদস্যসচিব আসাবুর রহমান হাওলাদার বলেন, রফিকুল ইসলাম বটিয়াঘাটা উপজেলা বিএনপির সদস্য ছিলেন।
পুলিশ কর্মকর্তা রেজাউর রহমান বলেন, বেলা সাড়ে ১২টার দিকে রফিকুল কাজীপাড়া বাজারে বসে ছিলেন। এ সময় মোটরসাইকেলে করে আসা হেলমেট পরা এক ব্যক্তি তার তলপেটে গুলি করে পালিয়ে যায়।
স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। পরে তার লাশ খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়।
রফিকুল বেশির ভাগ সময় ঢাকায় থাকতেন। মাঝেমধ্যে এলাকায় আসতেন। তিনি পাথরের ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।
খুলনা নগরে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও মাদক কারবার দমনে বিশেষ যৌথ অভিযান চলছে পুলিশের। এর মধ্যে প্রকাশ্যে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা নগরবাসীর মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত খুলনা নগরে ১৭টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। ৫ অগাস্ট গণ-অভ্যুত্থানের পর সংঘটিত ৩৪টি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সংশ্লিষ্টতা পেয়েছে পুলিশ।
পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ বলছে, খুলনায় অপরাধের বেশিরভাগ ঘটনায় ঘুরে ফিরে আটটি সন্ত্রাসী গ্রুপের নাম এসেছে। এসব হত্যাকাণ্ডে আসামি গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিকভাবে পুলিশের দেওয়া তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, মাদক কারবার, সন্ত্রাসী গ্রুপের মধ্যে বিরোধ, আত্মগোপনে থাকা সন্ত্রাসীদের প্রকাশ্যে আসা এবং রাজনৈতিক পক্ষগুলোর দ্বন্দ্বের জেরে খুনের ঘটনা ঘটছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, পুলিশের পক্ষ থেকে মাঝে মধ্যে গ্রেপ্তার ও মামলার রহস্য উদ্ঘাটনের কথা জানানো হলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে অপরাধের নেপথ্যের ব্যক্তিরা ধরা পড়ছে না। কেউ ধরা পড়লেও জামিনে বেরিয়ে আবার অপরাধজগতে সক্রিয় হচ্ছে।
ভুক্তভোগী পরিবার মামলা করতেও ভয় পায়। আদালতে গেলে অনেক মামলায় সাক্ষী পাওয়া যায় না। ফলে এক খুন থেকে আরেক খুনের পটভূমি তৈরি হয়। যদিও কয়েকটি ঘটনায় অপরাধীদের ধরার তথ্য দিয়েছে পুলিশ।
খুলনা মহানগর পুলিশের কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান বলেন, শহরে খুনের ঘটনাগুলোর সঙ্গে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সম্পৃক্ততা দেখা গেছে। এসব ঘটনায় খবর পেলেই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
নিহত ব্যক্তিদের কারও কারও সঙ্গে অতীতে বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সংশ্লিষ্টতা ছিল বলেও জানান তিনি।