Published : 15 Jun 2023, 05:41 PM
বছরের এই সময় বৃষ্টি হলেও ভ্যাপসা গরম ঠিকই থাকে; নয়ত তেঁতে ওঠে রোদ।
এমন আবহাওয়ায় ঘর থেকে বাইরে পা রাখতে গেলে শরীর ও মনের সতেজতায় একটু মনোযোগ দিতেই হয়।
মেকওভার আর্টিস্ট তানিয়া নেওয়াজের মতে, “শুরুতেই দেখতে হবে ঘর থেকে বাইরে কীভাবে যাচ্ছি। কারণ একজন কর্মজীবী নারী বাইরে কীভাবে থাকবেন, তার প্রস্তুতি ঘর থেকে নিয়েই বের হতে হবে।”
২০০১ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত নিজের বিউটি সেলুন ছিল তানিয়া নেওয়াজের। সেসময় ঢাকার সিদ্ধেশ্বরী লেন এলাকায় ‘তানিস হারবাল বিউটি পার্লার’ পরিচালনা করেছেন; আরও কয়েকটি শাখাও ছিল।
এখন বাড়িতে সীমিত পরিসরে মেকওভারের কাজ করছেন তিনি।
গরমে কর্মজীবী নারীদের জন্য তার পরামর্শ, “বাইরে গেলে সঙ্গে এমন কোনো ব্যাগ নিতে হবে যেন এরমধ্যে জরুরি কিছু জিনিস রাখা যায়।”
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তানিয়া নেওয়াজ আরও বলেন, “বাইরে তো অনেক রোদ আর তাপ। এখন হঠাৎ করে বৃষ্টি নামছে যদিও, কিন্তু গরম কমছে না। তাই ব্যাগে ফোল্ডিং ছাতা রাখতে হবে; এতে রোদ ও বৃষ্টি দুটো থেকে কিছুটা হলেও বাঁচা যাবে।”
”ব্যাগে এক বোতল পানি রাখতে হবে। অনেকে ডাব খেতে পারেন না। আবার রাস্তার আশপাশ থেকে ডাব ও শরবত খাওয়াতে অনেক রকম বিড়ম্বনা হয় কখনও কখনও। তাই উচ্চ রক্তচাপ বা অন্য কোনো শারীরিক সমস্যা না হলে স্যালাইনের প্যাকেট রাখা যায় ব্যাগে, অথবা লেবু পানি। পেয়ারা বা শসা ফালি লাঞ্চবক্সে নেওয়া যায়; যা খেলে শরীর ঠাণ্ডা থাকবে।”
কর্মব্যস্ততার কারণে দুপুরে বাইরে খেতে হলে অতিরিক্ত ভুনা খাবার এড়িয়ে চলেই ভালো বলে মন্তব্য করেন তিনি।
রোদ থেকে ত্বকের সুরক্ষায় করণীয় প্রসঙ্গে তানিয়া বলেন, “বাড়িতে ভালো করে মুখ ধুয়ে নিতে হবে। বরফ টুকরা দিয়ে মুখে হালকা মালিশ করে নিতে হবে। কারও বরফে অ্যালার্জি থাকলে এড়িয়ে যেতে হবে। আর মুখের ত্বকে টোনার ব্যবহার করা খুবই জরুরি। সেই সঙ্গে খেয়াল রাখতে হবে, অবশ্যই সানস্ক্রিন মেখে বাইরে যেতে হবে।”
“সূর্যরশ্মি কিন্তু ছাতার তলে এমনকি ঘরে থাকলেও ত্বকে পৌঁছায়। তাই ঘরে থাকলেও সানস্ক্রিন ব্যবহার করা ভালো। আর বাইরে গেলে তো অবশ্যই। এর ওপরে ফেইস পাউডার বা ট্যালকম পাউডার দেওয়া যায়।”
পোশাকের বিষয়ে তার পরামর্শ হচ্ছে- আর্দ্রতা বেশি থাকার কারণে সুতি কাপড় ও ঢিলেঢালা পোশাক বেছে নিতে হবে।
রোদ থেকে হাতের ত্বক বাঁচাতে ঢোলা ফুলহাতার জামা পরলে স্বস্তি মিলবে পথের ছুটোছুটি ও কাজে। চুল ঠিকমতো না বেঁধে নিলে বাইরে গরমে ও ধুলাবালিতে চিটচিটে অনুভূতি হয়।
যে কোনো বয়সি শিক্ষার্থী অথবা কর্মজীবী নারীর জন্য তানিয়া নেওয়াজ বলেন, “চুল অবশ্যই পরিষ্কার রাখতে হবে। যাদের বড় চুল তারা বাইরে দুই বেণি অথবা এক বেণি করে বের হলে ভালো। বেণি করার পর খোঁপাও করে নেওয়া যায়। আবার পাঞ্চক্লিপ দিয়ে চুলটাকে গুছিয়ে বেঁধে রাখাও যায়।
“অর্থাৎ চুলটাকে ঘাড় থেকে ওপরে রাখলে অস্বস্তি কম হবে। গরমে চুলটাকে ছেঁটে রাখা যায় খানিক, তাতে নিজেকে গোছানো লাগবে আরও”, পরামর্শ দিলেন এভাবেই।
ত্বকের পাশাপাশি রোদ ও ধুলা থেকে চোখের সুরক্ষার কথাও ভুলে গেলে চলবে না।
“তাই রোদচশমা বা সানগ্লাস সঙ্গে রাখা চাই এই সময়”, বলেন তানিয়া নেওয়াজ।
একই সঙ্গে করোনাভাইরাস মহামারীর সময় মাস্ক পরার অভ্যাস এখনও ধরে রাখার পরামর্শ দেন তিনি।
“কারণ মাস্ক পথেঘাটে ধুলোবালি শ্বাসপ্রশ্বাসের সঙ্গে শরীরে প্রবেশ থেকে অনেকটা ছাঁকনির মতো কাজ করবে। অ্যাজমা রোগীরাও তাই বাসস্ট্যান্ডে দাঁড়িয়ে থাকার সময়, পথে রিকশা-গাড়িতে চলার সময় মাস্ক পরতে পারেন।”
গরমে আরামদায়ক জুতা পা থেকে মাথা পর্যন্ত স্বস্তি দিতে পারে।
“পা বন্ধ জুতা পরলে রোদ ও ধুলা থেকে পায়ের ত্বক ভালো থাকবে, অনেকের কিন্তু এই গরমে পায়ের গোড়ালি ফাটা সমস্যা দেখা দেয়। যাদের পা ঘেমে যায় তারা জুতার ভেতরে বা পায়ে পাউডার মেখে নিতে পারেন। এছাড়া আরামদায়ক স্লিপার পরা যেতে পারে।”
যদি কাজের স্থানে বা পথে কোথাও পা ধুয়ে নেওয়ার সুযোগ থাকে, তাহলে মাঝে মাঝে পা ধুয়ে নিলে গরমে ভীষণ আরাম লাগবে বলে জানান তিনি।
আরও পড়ুন