Published : 09 Sep 2025, 05:25 PM
ত্বকের যত্ন বলতে সাধারণত বোঝানো হয়- একটি ভালো ক্লিনজার, উপযুক্ত সেরাম, ময়েশ্চারাইজার এবং কমপক্ষে এসপিএফ ৩০-এর সানস্ক্রিন।
তবে উদ্ভিদজাত প্রাকৃতিক কিছু উপাদানও ত্বকের যত্নে বিশেষ ভূমিকা রাখতে পারে। এরমধ্যে আছে ক্যাস্টর অয়েল বা রেড়ির তেল, যা চুলের পরিচর্যার পাশাপাশি এখন ত্বকের যত্নেও জনপ্রিয়।
ক্যাস্টর অয়েল কী?
চর্মরোগের চিকিৎসায় বিশেষজ্ঞ নিউ ইয়র্ক’য়ের নার্স জোডি লো জেরফো ওয়েলঅ্যান্ডগুড ডটকম’য়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে ব্যাখ্যা করেন, “ক্যাস্টর অয়েল মূলত ক্যাস্টর বীজ থেকে উৎপাদিত, যা গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ও উপ-গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অঞ্চলে জন্মায়। সাধারণত ঠাণ্ডা চাপে (কোল্ড প্রেস) বীজ থেকে এই তেল বের করা হয়।”
চুলের যত্নে এটি বহুল ব্যবহৃত হলেও খাদ্যপণ্য, ওষুধ এবং প্রসাধন সামগ্রীতেও এর ব্যবহার রয়েছে। ঘনত্বে ভারী এই তেল আর্দ্রতা ধরে রাখতে সক্ষম হওয়াতে বিশেষভাবে উপযোগী।
ত্বকের জন্য উপকারিতা
ত্বকের আর্দ্রতা রক্ষা: লো জেরফো বলেন, “ক্যাস্টর অয়েল ত্বকে আর্দ্রতা ধরে রাখার জন্য আদর্শ। এর ঘনত্ব ত্বকে একটি আবরণ তৈরি করে, যা পানি শুষে যেতে বাধা দেয়। ফলে শুষ্ক ও সংবেদনশীল ত্বকের জন্য এটি বিশেষ উপকারী।”
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ কোর্টনি রুবিন যোগ করেন, “এতে থাকা ফ্যাটি অ্যাসিডস ত্বকের ভেতর আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করে। শীতকালে যখন ত্বক বেশি শুষ্ক হয়, তখন এটি ব্যবহার করা যেতে পারে।”
গভীর ময়েশ্চারাইজার: লো জেরফো বলেন, “ক্যাস্টর অয়েলে রয়েছে রাইসিনোলেইক অ্যাসিড, যা একটি অসম্পৃক্ত ওমেগা-নাইন ফ্যাটি অ্যাসিড। এটি ত্বককে পুষ্টি যোগায়, শুষ্কতা কমায় এবং ব্যাক্টেরিয়া প্রতিরোধে সহায়তা করে।”
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সি’র চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ নানা বোয়াকি বলেন, “এতে থাকা ফ্যাটি অ্যাসিডস ত্বকের কোষকলাকে আর্দ্র রাখে, যা ত্বককে মসৃণ ও নমনীয় দেখাতে সাহায্য করে।”
প্রদাহ কমায় ও ব্যাক্টেরিয়া প্রতিরোধ করে: গবেষণায় দেখা গেছে ক্যাস্টর অয়েলের প্রদাহনাশক এবং অণুজীব প্রতিরোধী গুণ রয়েছে।
লো জেরফো বলেন, “এতে থাকা রাইসিনোলেইক অ্যাসিড প্রদাহ কমায় এবং ব্যাক্টেরিয়ার বৃদ্ধি রোধ করে, যা ব্রণ ও ফুসকুড়ি প্রতিরোধে সাহায্য করে।”
মুখে ক্যাস্টর অয়েল ব্যবহার করা যায় কি?
বিশেষজ্ঞদের মতে, মুখে এটি ব্যবহার করা সম্ভব। তবে সতর্ক থাকতে হবে।
নানা বোয়াকি সতর্ক করে বলেন, “সংবেদনশীল বা ব্রণ-প্রবণ ত্বকের জন্য এটি ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। তাই ব্যবহারের আগে সাবধান হতে হবে।”
রুবিন যোগ করেন, “এর ঘনত্ব অনেক বেশি হওয়াতে এটি লোমকূপ বন্ধ করতে পারে, ফলে ব্রণ বাড়তে পারে। তাই এটি প্রায়শই হালকা তেলের সঙ্গে মিশিয়ে ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হয়।”
হালকা তেলের (যেমন জোজোবা বা বাদামের তেল) সঙ্গে মিশিয়ে ব্যবহার করলে ঝুঁকি কমে যায়।
ব্যবহার করার নিয়ম
নানা বোয়াকি বলেন, “প্রসাধনীতে থাকা ক্যাস্টর অয়েল ব্যবহার করাই ভালো, কারণ সরাসরি কাঁচা তেল ব্যবহার করলে লোমকূপ বন্ধ হওয়ার ঝুঁকি বেশি।”
সম্ভাব্য ঝুঁকি
যে কোনো তেলের মতো ক্যাস্টর অয়েল ব্যবহারেরও কিছু ঝুঁকি আছে।
লোমকূপ বন্ধ হওয়া: ঘন তেল হওয়ায় বিশেষত তৈলাক্ত ত্বকে ব্রণ বাড়তে পারে।
অ্যালার্জি: কারও কারও ত্বকে চুলকানি, লালচে ভাব বা জ্বালাপোড়া হতে পারে।
সংবেদনশীল ত্বক: অ্যালার্জির ঝুঁকি বেশি। তাই ব্যবহারের আগে অবশ্যই ‘প্যাচ টেস্ট’ করা উচিত।
বোয়াকি বলেন, “ক্যাস্টর অয়েল ব্যবহারের আগে হাত বা গলার অদৃশ্য অংশে ছোট করে পরীক্ষা করা জরুরি, যাতে প্রতিক্রিয়া হলে বোঝা যায়।”
আরও পড়ুন