Published : 16 Jun 2026, 12:22 AM
ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দিয়ে ব্যাংকটির জন্য ‘নতুনভাবে’ যাত্রা শুরু করার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স, বাংলাদেশ (এবিবি)।
সোমবার রাতে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এবিবি এ সিদ্ধান্তকে ব্যাংক খাতের জন্য 'সময়োপযোগী' ও 'বিচক্ষণ' হিসেবেও অভিহিত করেছে।
এবিবি চেয়ারম্যান সিটি ব্যাংকের এমডি মাসরুর আরেফিনের বরাতে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “ইসলামী ব্যাংকের ইস্যুটি রাজনৈতিক মাত্রা পাওয়ার প্রেক্ষিতে, পুরো ব্যাংকিং খাতের জন্য এই ব্যাংকের সার্বিক গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে আমরা এবিবির তরফ থেকে গত ১০ জুন গভর্নরের কাছে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলাম।
“আমরা বলেছিলাম, বিষয়টির দ্রুত সমাধান হলে তা ব্যাংক খাতের জন্য ভালো হবে। কারণ ইসলামী ব্যাংকের পরিস্থিতি শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের সমস্যা নয়, এর প্রভাব পুরো ব্যাংক খাতে পড়ছে।
“ইস্যুটি রাজনৈতিক রূপ নিয়ে ফেলায় আমরা গভর্নরকে এও জানিয়েছিলাম যে, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে সমঝোতার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করা উচিত। সেই প্রেক্ষিতে আমরা মনে করি গতকাল কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নেওয়া সিদ্ধান্তটি প্রশংসনীয়।”
রোববার রাতে ইসলামী ব্যাংকের পর্ষদ বাতিল করে প্রতিষ্ঠানটি দেখভালে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একজন কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। একই সঙ্গে ব্যাংকটির তারল্য সংকটে দুই দফায় অর্থও দেওয়া হয়েছে।
ঈদের আগে নতুন চেয়ারম্যানকে দায়িত্ব দেওয়ার পর একদল ব্যক্তির আন্দোলনের জেরে আবার আলোচনায় আসে ইসলামী ব্যাংক। এর মধ্যে ব্যাংকটি থেকে বড় অঙ্কের আমানত তোলার খবরের মধ্যে সংসদে সরকারি ও বিরোধী দলের এ নিয়ে পাল্টাপাল্টি বিতর্কও হয়।
এমন ঘটনাপ্রবাহের মধ্যে তারল্য সংকটের তথ্য দিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ১০ হাজার কোটি টাকা ধার চায় ইসলামী ব্যাংক। এখন দুই দফায় ৫ হাজার কোটি টাকা পেয়েছে ব্যাংকটি।
পর্ষদ দেওয়া প্রসঙ্গে এবিবি বলছে, আমরা আশা করি, এর মাধ্যমে ইসলামী ব্যাংক পরিস্থিতি শান্ত হবে এবং এ ব্যাংকের আমানতকারী, বিনিয়োগকারী ও অংশীদারদের মধ্যে আস্থা ফিরে আসবে।
ইসলামী ব্যাংক প্রসঙ্গে এবিবি চেয়ারম্যান বলেন, “প্রায় ৩ কোটি গ্রাহক, বিপুল আমানত ও বিনিয়োগ, দেশের বৃহত্তম রেমিট্যান্স নেটওয়ার্ক এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য অর্থায়নে বিশাল ভূমিকার কারণে ইসলামী ব্যাংকের স্থিতিশীলতা কেবল তার নিজের বিষয় নয়, বরং তা আমাদের সামগ্রিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।
“সাম্প্রতিক মব-নির্ভর আন্দোলন থেকে উদ্ভূত পরিস্থিতি এ ব্যাংকটির পরিচালনা, তারল্য, আমানতকারী ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা ইত্যাদি বিষয়ে ব্যাংকারদের মধ্যে গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছিল।”
তিনি বলেন, “কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নেওয়া এই সিদ্ধান্তে আমরা বিশ্বাস করি সে উদ্বেগের অবসান হবে। আমরা ব্যাংকিং খাতের ভালোর স্বার্থে এই ব্যাংকটিতে সুশাসন, জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা, রাজনীতিমুক্ত ব্যাংকিং পরিবেশ ও এর খেলাপি ঋণ আদায়ে বড় অগ্রগতি প্রত্যাশা করি। আমরা এটাও প্রত্যাশা করি, সব সচেতন নাগরিক অনুধাবন করুন যে, ব্যাংক খাতে ‘মব’ এই সেক্টরের জন্য একটি অশনি সংকেত, তাই সরকারের উচ্চতর মহলের দায়িত্ব একে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা।”
আরও পড়ুন-
ইসলামী ব্যাংককে আরও ২৫০০ কোটি টাকা ধার
আগামীতেও ইসলামী ব্যাংককে ‘তারল্য সহায়তা’, গভর্নরের সঙ্গে বৈঠকে আশ্বাস