Published : 07 Jan 2026, 06:10 PM
দাম্পত্য জীবনের কয়েক বছর পার না হতেই স্বামী বা স্ত্রীর মধ্যে শারীরিক সম্পর্কের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে যাওয়ার ঘটনা নতুন কিছু না।
এক নারী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন- তার স্বামীর সঙ্গে ছয় মাসের বেশি সময় ধরে কোনো শারীরিক সম্পর্ক নেই। প্রথম তিন বছর ভালো কাটলেও এখন সবকিছু অস্বাভাবিক। তিনি চিন্তিত, কিন্তু স্বামী উদাসীন। এমন পরিস্থিতিতে অনেকে লজ্জায় বা দ্বিধায় পরামর্শ চান না।
এরকম ঘটনা উল্লেখ করে ‘জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইন্সটিটিউট’য়ের সহযোগী অধ্যাপক ও মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. ফারজানা রহমান দিনা এই সমস্যার কারণ ও সমাধান সম্পর্কে জানিয়েছেন।
যৌন ইচ্ছা কমে যাওয়াকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে ‘লস অফ লিবিডো’ বলা হয়। বিশ্বে প্রতি পাঁচজন পুরুষের একজন এবং নারীদের মধ্যে আরও বেশি এ সমস্যায় পড়েন। কারণ একাধিক হতে পারে।
শারীরিক ও চিকিৎসাগত কারণ
বয়স বাড়ার সঙ্গে পুরুষের শরীরে টেস্টোস্টেরন হরমোন কমে। অন্য রোগের কারণে এটি আগেও হতে পারে, যা যৌন আকাঙ্ক্ষা হ্রাস করে।
নারীদের ক্ষেত্রে রজঃনিবৃত্তির আগে ইস্ট্রোজেন ও প্রজেস্টেরন কমে যায়, যোনিপথ শুষ্ক হয়ে যৌনতায় অনীহা সৃষ্টি করে।
জরায়ু বা ডিম্বাশয় অপসারণের পরও এমন হয়। থাইরয়েডের ঘাটতি বা প্রলেকটিন বৃদ্ধিতেও প্রভাব পড়ে।
ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, স্থূলতা, লিভারের দীর্ঘমেয়াদি রোগের জটিলতায় এ সমস্যা দেখা যায়।
অনিদ্রা বা অতিরিক্ত ক্লান্তি নারী-পুরুষ উভয়কে প্রভাবিত করে।
মানসিক কারণ
মানসিক চাপ, উদ্বেগ, বিষণ্নতা যৌনতায় অনীহা সৃষ্টি করে। অতীতে যৌন হয়রানির শিকার ব্যক্তিদের মধ্যে এটি প্রকট।
আত্মবিশ্বাসের অভাব বা শরীর নিয়ে অস্বস্তি, বিশেষ করে সন্তান জন্মের পর নারীদের ক্ষেত্রে, ইচ্ছা কমিয়ে দেয়। পিটিএসডি বা ওসিডির মতো মানসিক রোগও দায়ী।
সম্পর্কের কারণ
দাম্পত্য কলহ বা অমীমাংসিত ঝগড়া মানসিক দূরত্ব তৈরি করে, যা শারীরিক সম্পর্কে প্রভাবিত করে।
সঙ্গীর প্রতি ‘বোঝে না’- অভিযোগ ধরনের মনোভাব এটি বাড়ায়।
যৌন চাহিদা নিয়ে খোলামেলা আলোচনার অভাব, একঘেয়েমি বা নতুনত্বের অভাব আগ্রহ কমায়। বিশ্বাসঘাতকতা বা বিশ্বাসের অভাবও একটি কারণ।
জীবনযাপনের কারণ
অফিসের অতিরিক্ত চাপ, বিশ্রামের অভাব যৌনতায় উদাসীনতা আনে। অ্যালকোহল, নেশাদ্রব্য বা কিছু ওষুধ এটি কমায়।
অপুষ্টিকর খাবার, শরীরচর্চার অভাবও দায়ী। নারীদের ক্ষেত্রে সন্তান লালন-পালনের চাপ শক্তি কেড়ে নেয়।
করণীয়
নিজেকে দোষারোপ করা যাবে না। সঙ্গীকে অনুভূতি খুলে বলতে হবে, তবে জোর করা যাবে না।
ক্লান্তি কাটাতে সাহায্য করুন, কাজ ভাগ করে নিন। নেশাদ্রব্য থেকে দূরে থাকতে হবে।
দুজনকেই স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ করার পাশাপাশি পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করতে হবে।
সম্পর্কে নতুনত্ব আনার জন্য একসঙ্গে সময় কাটান, ঘুরে বেড়ান।
কম বয়সে সমস্যা দেখা দিলে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হোন। কারণ নির্ণয় করে চিকিৎসা বা কাউন্সেলিং নেওয়া উপকারী হয়।
যৌন অনীহা সম্পর্কের স্বাভাবিক অংশ নয়, তবে সমাধানযোগ্য। খোলামেলা কথা ও পেশাদারের সাহায্য নিয়ে এটি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব।
সুস্থ সম্পর্কের জন্য শারীরিক ও মানসিক সামঞ্জস্য দুটোই জরুরি।
আরও পড়ুন
দাম্পত্য জীবন দৃঢ় রাখার সহজ ৪টি পন্থা