Published : 06 Jul 2026, 07:08 PM
ফ্যাশনে পোশাকের পাশাপাশি গয়নাতেও চলে নানা বৈচিত্র্য। ভারী সোনার গয়না, ঝলমলে কৃত্রিমতার বাইরেও রয়েছে স্বস্তিদায়ক অলংকার।
এমন আরাম বা স্বস্তি ও বোহেমিয়ান সাজের জন্য বেছে নেওয়া যেতে পারে বাটিক গয়না।
কাপড়, সুতা, কাঠ, পুঁতি, নকশীকাঁথা, হালকা ধাতব অলংকার ও হাতে আঁকা নকশার সমন্বয়ে তৈরি বাটিক গয়না, ফ্যাশনে সহজেই যোগ করে বাঁধনহারা রূপ।
বাটিক গয়না কী?
“এটা হল বাটিক ছাপের কাপড় কিংবা বাটিক শিল্পের রং ও নকশা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে তৈরি গয়না”, বলেন গয়না প্ল্যাটফর্ম ‘মিথ’-এর প্রধান ও গয়না নকশাবিদ পৃথা শাহানেয়াজ।
কানের দুল, হার, চোকার, আংটি, চুড়ি, ব্রেসলেট, পায়ের গয়না, চুলের অলংকার সব ধরনের গয়নাতেই বাটিক মাধ্যম ব্যবহারে নকশা হয়।
যেভাবে তৈরি হয়
“বাটিক গয়না তৈরি শুরু হয় কাপড় নির্বাচন দিয়ে। প্রথমে সুতি, সিল্ক কিংবা ক্যানভাস-ধরনের কাপড়ে বাটিক পদ্ধতিতে নকশা করা হয়। এরপর সেই কাপড় নির্দিষ্ট আকৃতিতে কেটে শক্ত বোর্ড, কাঠ, ধাতব ফ্রেম কিংবা রেজিনের ওপর বসানো হয়”, বলেন পৃথা শাহানেয়াজ।
পুঁতি, সুতার কাজ, ঝিনুক, কাঠের টুকরা, ধাতব অলংকার, আয়না কিংবা ছোট ছোট পাথর দিয়ে গয়না সাজানো হয় পরের ধাপে।
আর শেষে একটি স্বচ্ছ প্রলেপ দেওয়া হয়, যাতে কাপড়ের নকশা দীর্ঘদিন ভালো থাকে।

আধুনিকায়নের ছোঁয়ায় নতুন রূপ
বাটিক গয়না মানে শুধু বড় আকারের রঙিন দুল বা গলার হার নয়। একঘেয়ে নকশার ছাচ থেকে বেরিয়ে মিনিমাল নকশা, জ্যামিতিক আকৃতি, স্তরযুক্ত হার, ছোট দুল, চোকার, ব্রেসলেট ও আংটির মতো আধুনিক নকশাও সমান তালে দেখা যায়।
পৃথা বলেন, “শুধু বাটিক কাপড় নয়, এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে পিতল, অক্সিডাইজড ধাতু, কাঠ, সিরামিক, মুক্তা ও কাচের পুঁতি। বোহেমিয়ান লুক এনে দেওয়া গয়নাতে যেন একই সঙ্গে মার্জিত ও ব্যতিক্রমী আমেজ থাকে, সেই চেষ্টাই খুব জোর দিয়ে করা হয়।”
যে সাজে আসে বোহেমিয়ান রূপ
‘বোহেমিয়ান’ ফ্যাশনের বৈশিষ্ট্য হল- স্বাধীনতা, স্বাভাবিকতা এবং প্রকৃতির কাছাকাছি থাকা।
বাটিক গয়নায় ব্যবহৃত প্রাকৃতিক রং, হাতে আঁকা নকশা, কাপড়ের গঠন, সুতার কাজ ও কাঠের উপকরণ সেই অনুভূতিকেই ফুটিয়ে তোলে।
“বড় আকারের কানের দুল, বহুস্তরের হার, রংয়ের বৈচিত্র্য সেই কাজ-ই করে। তাই একেবারে সাদামাটা পোশাকের সঙ্গেও বাটিক গয়না সাজে বোহেমিয়ান আমেজ যোগ করে”, মন্তব্য করেন পৃথা।
যে কারণে আরামদায়ক
ধাতব ভারী গয়না দীর্ঘক্ষণ পরে থাকলে অস্বস্তি হতে পারে। অন্যদিকে বাটিক গয়নায় কাপড়, সুতা ও কাঠের ব্যবহার বেশি থাকায় এটি শরীরে তুলনামূলক আরামদায়ক লাগে।
এই গয়না নকশাকর বলেন, “আবার শুষ্ক আবহাওয়ায় ত্বক সংবেদনশীল হয়ে উঠলে, হালকা ওজনের এসব গয়না ত্বকের ওপর কম চাপ সৃষ্টি করে। ফলে দীর্ঘ সময় পরে থাকলেও অস্বস্তি কম হয়।”

বাটিকের সঙ্গে আরও অনুষঙ্গ
বাটিক গয়নায় নকশার বৈচিত্র্য বাড়াতে কাঠ, রেজিন, ধাতব ফ্রেম, পিতল ও অক্সিডাইজড মেটালের মতো শক্ত উপাদানের পাশাপাশি মুক্তা, কাচের পুঁতি, ঝিনুক, ক্রিস্টাল স্টোন ও রঙিন অ্যাক্রিলিক পাথরও ব্যবহার হয়।
পৃথা বলেন, “অনেক নকশায় আবার সুতা, সুতি ফিতা, ক্যানভাস কাপড় ও হ্যান্ডপেইন্টেড কাপড়ও যুক্ত হয়।”
আধুনিক নকশায় এখন পরিবেশ-সহায়ক উপকরণ বাঁশ, পুনর্ব্যবহৃত কাপড়ের টুকরা এবং প্রাকৃতিক রংও ব্যবহার জায়গা পাচ্ছে।
তাই বাটিক গয়নাকে শুধু ফ্যাশন নয়, টেকসই শিল্পেরও অংশ হিসেবে মনে করেন, এই গয়না নকশাবিদ।
আরও পড়ুন