Published : 18 May 2026, 04:44 PM
নিজের পছন্দের কাজের জন্য সময় এখন খুবই কম। বিশেষ করে বই পড়তে ভালোবাসলে মন দিয়ে বই পড়ার মতো নিরিবিলি সময়, স্থান কোনটিই পাওয়া যায় না।
এক্ষেত্রে হয়তো রাতে কয়েক পৃষ্ঠা পড়া হয়। তবে কিছুক্ষণ পরই অন্য কাজে ব্যস্ত হয়ে যেতে হয়। এমন অবস্থায় সমাধান হিসেবে জনপ্রিয় হচ্ছে ‘বুক ক্রল’।
বইপ্রেমীদের একা একা দিনের বিভিন্ন সময়ে নিরিবিলি জায়গায় গিয়ে বই পড়ারই ‘বুক ক্রল’ নামে পরিচিত হচ্ছে।
বিষয়টি অনেকটা একা নিজের সঙ্গে সময় কাটানোর বিশেষ আয়োজনের মতোই।
প্রেমিক-প্রেমিকার সাথে নয়, বরং বই নিয়ে কখনও কফির দোকান, কখনও পার্ক, কখনও বইয়ের দোকানে বসে বই পড়া হয়ে উঠছে নতুন ধরনের আত্মিক বিশ্রাম।
কী এই ‘বুক ক্রল’
একটি বই কেন্দ্র করে পরিকল্পিত একক সময় কাটানোর একটি উপায়। দিনের বিভিন্ন সময়ে কয়েকটি আলাদা জায়গায় যাওয়া এবং প্রতিটি জায়গায় কিছু সময় ধরে বই পড়াই হল নতুন ধারা।
অর্থাৎ পুরো দিনটি যেন বই ও নিজের সঙ্গেই কাটানো বা বইয়ের সঙ্গেই ‘ডেইট’।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বই বিক্রির প্রতিষ্ঠান ‘বুকশপ ডটঅর্গ’–এর কর্মকর্তা জেনিফার ফিক্স রিয়েলসিম্পল ডটকম’য়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলেন, “বুক ক্রলের সবচেয়ে সুন্দর দিক হল- এটি প্রতিদিনের জীবনকে একটু অন্যভাবে উপভোগ করতে শেখায়।”
তার মতে, “একটি ভালো বই, কয়েকটি আরামদায়ক জায়গা এবং নিজের জন্য সময় রাখার ইচ্ছাই যথেষ্ট।”
নিজের সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ
মানুষের মানসিক সুস্থতার জন্য একা সময় কাটানো গুরুত্বপূর্ণ। আর সে সুযোগ করে দেয় ‘বুক ক্রল’।
জেনিফার ফিক্স বলেন, “একা কোনো কাজ করলে নিজের পছন্দ ও অনুভূতির সঙ্গে নতুনভাবে সংযোগ তৈরি করা যায়। বন্ধু বা পরিবারের মতামতের বাইরে চিন্তা করে তখন বোঝা যায় কী তাকে আনন্দ দেয়।”
আবার অনেক সময় নিজের জন্য কিছু করতে গেলেও অপরাধবোধে ভোগেন অনেকে। এতে মনে হয় সময়টা হয়তো অন্য কাজে ব্যবহার করা উচিত ছিল। তবে বুক ক্রলের নিজের ভালো লাগার গুরত্ব বোঝায়।
বই পড়ার অভ্যাসে নতুন গতি
বর্তমান সময়ে বই পড়ার অভ্যাস ধরে রাখা অনেকের জন্যই চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। ‘বুক ক্রল’ সেই জায়গায় নতুন উৎসাহ তৈরি করতে পারে।
কারণ এখানে নির্দিষ্ট সময় শুধু বইয়ের জন্যই থাকে। আবার বিভিন্ন পরিবেশে বই পড়ার কারণে মনোযোগও দীর্ঘসময় ধরে রাখা সহজ হয়।
যেভাবে হবে পরিকল্পনা
বুক ক্রল আয়োজনে প্রথমেই বই নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ। এমন বই বেছে নেওয়া ভালো, যা দীর্ঘসময় ধরে পড়তে ইচ্ছা করবে। কারণ পুরো দিনের অনুভূতি অনেকটাই নির্ভর করে বইটির ওপর।
অনেকেই আবার বইয়ের দোকান থেকেই নতুন বই কিনে বুক ক্রল শুরু করেন। এতে পুরো অভিজ্ঞতায় নতুনত্ব যোগ হয়।
জায়গা বাছাইয়ের কৌশল
বুক ক্রলের জন্য সাধারণত তিন থেকে চারটি জায়গা বেছে নেওয়া হয়। চেষ্টা করা হয় জায়গাগুলো যেন কাছাকাছি হয়, যাতে যাতায়াতে বেশি সময় নষ্ট না হয়।
জেনিফার ফিক্স বলেন, “বইয়ের গল্পের পরিবেশের সঙ্গে মিল রেখে জায়গা বেছে নিলে অভিজ্ঞতা আরও সুন্দর হয়। যেমন- নদী বা সমুদ্রঘেরা গল্প হলে পানির ধারে লেকের বসে পড়া যেতে পারে। আবার প্রকৃতিনির্ভর বই হলে পার্ক বা বাগান উপযুক্ত হতে পারে।”
অনেকেই পরিচিত ও প্রিয় জায়গাগুলোই বেছে নেন। যেমন- ছোট কফির দোকান, স্বাধীন বইয়ের দোকান, পাঠাগার বা শান্ত খাবারের দোকান।
নির্দিষ্ট লক্ষ্য রাখার গুরুত্ব
পুরো দিনের জন্য ছোট ছোট লক্ষ্য নির্ধারণ করলে ‘বুক ক্রল’ আরও গোছানো হয়। প্রতিটি জায়গায় চল্লিশ মিনিট করে পড়া হবে এমনটাও নির্ধারণ করা যায়। আবার কেউ একটি অধ্যায় শেষ করাকে লক্ষ্য রাখা যায়।
এই ধরনের পরিকল্পনা সিদ্ধান্ত নেওয়ার চাপ কমায়। ফলে মনোযোগ বইয়ের ভেতরেই থাকে।
বুক ক্রল শুধু বই পড়ার উপায় নয়, বরং নিজের জীবনের গতি কিছুটা ধীর করারও একটি মাধ্যম।
আরও পড়ুন