Published : 19 Jun 2026, 02:08 PM
পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা বাহিনীর কোনো ‘ঘাটতির জন্য নয়’ মন্তব্য করে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার এস এন নজরুল ইসলাম বলেছেন, এটি ‘স্বভাবগত সমস্যা’।
আদাবরে একজন ‘বিকাশ’ এজেন্টকে মঙ্গলবার সকালে কুপিয়ে টাকা ছিনিয়ে নেয় ছিনতাইকারীরা।
ওই ঘটনায় বিকালে অভিযানে গেলে ঢাকার আদাবর থানার ওসি ও একজন এসআইকে চাপাতি দিয়ে আঘাত করা হয়।
শুক্রবার ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসে এ বিষয়ে প্রশ্নের মুখে পড়েন পুলিশ কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম।
চব্বিশের অভ্যুত্থানের সময় পুলিশকে নিশানা করা হয়েছিল; এর পরেও দেশের বিভিন্ন স্থানে পুলিশকে লক্ষ্য করে হামলার ঘটনা ঘটছে।
এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে ডিএমপির এই কর্মকর্তা বলেন, “বিগত দিনের (অভ্যুত্থানের আগের) কথা আমি আসলে বলব না, আপনিও জানেন, আমিও জানি।
“তবে ৫ অগাস্টের পরে পুলিশের যে ভঙ্গুর অবস্থা ছিল, সেখান থেকে আমরা পুলিশটাকে অনেকটা স্ট্রিম লাইনে আনার চেষ্টা করেছি, করে যাচ্ছি...করতেছি।”
অতিরিক্ত কমিশনার নজরুল বলেন, “৫ অগাস্টের পরবর্তী সময়ে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির যে অবস্থা ছিল, সেখান থেকে আমরা হয়তো শতভাগ সফল হইনি। বাট আমরা চেষ্টা করতেছি এবং এটা উন্নয়নের জন্য কাজ করে যাচ্ছি।

“পুলিশের মনোবল যেন ফিরে পায় এবং পুলিশ যেন জনগণের নিরাপত্তা আরো সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে পারে, সে প্রচেষ্টা আমাদের আছে এবং অব্যাহত থাকবে।”
যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশের অভিযানে অস্ত্র, গুলি ও মাদকসহ চারজনকে গ্রেপ্তারের তথ্য জানাতে এদিন সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
সেখানে বলা হয়, গত ২ মার্চ সায়েদাবাদ এলাকায় অভিযানে গেলে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তাকে গুলি করা হয়।
এ ঘটনায় ওয়ারী থানায় করা একটি মামলায় প্রথমে তিনটি অস্ত্রসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারদের জবানবন্দিতে জানা যায়, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তার ওপর হামলায় ব্যবহৃত অস্ত্রটি সরবরাহ করেছিল শীর্ষ সন্ত্রাসী ইসমাইল হোসেন সজল ওরফে অটো সজল।
এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার রাতে সায়েদাবাদ এলাকায় অভিযান চালিয়ে সজলকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যমতে, গেন্ডারিয়া থানাধীন স্বামীবাগ এলাকায় একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে সজলের তিন সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার বাকিরা হলেন- মো. বাপ্পী, মো. হানিফ ও শামসুন নাহার।
এ সময় ওই বাসা থেকে দুটি টরাস ব্র্যান্ডের পিস্তল, চারটি ম্যাগাজিন, ৭৭ রাউন্ড তাজা গুলি, ৫৯ গ্রাম হেরোইন, হেরোইন প্রস্তুতের জন্য ২৭ গ্রাম উপকরণ, মাদক বিক্রির নগদ ২২ হাজার ৯৬০ টাকা এবং চারটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম বলেছেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে দুটি মামলা হয়েছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের ওপর হামলার ঘটনার সূত্র ধরে এখন পর্যন্ত মোট পাঁচটি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।

উদ্ধার হওয়া অস্ত্রগুলো পুলিশের লুট হওয়া অস্ত্র কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিষয়টি এখনো ‘নিশ্চিত নয়’।
“আমরা এখনো নিশ্চিত হতে পারিনি উদ্ধার হওয়া অস্ত্রগুলো পুলিশের লুট হওয়া অস্ত্র কি না। প্রতিটি অস্ত্রের একটি নম্বর রয়েছে। অস্ত্রগুলো মাত্র গতকাল উদ্ধার হয়েছে। এগুলো আমাদের অস্ত্র শাখায় পাঠানো হবে। সেখানে যাচাই করে জানা যাবে, এগুলো কোন থানা বা এলাকা থেকে খোয়া গিয়েছিল।
“তবে ৭৭ রাউন্ড গুলির মধ্যে পাঁচ রাউন্ড পুলিশের ব্যবহৃত গুলি। বাকি ৭২ রাউন্ড পুলিশের নয়। সেগুলো তারা অন্য কোনো উপায়ে সংগ্রহ করেছে বলে ধারণা করছি।”
গ্রেপ্তার সজলের বিষয়ে নজরুল ইসলাম বলেন, “তিনি একটি পরিবহনের হেলপার হিসেবে কাজ করেন। এর আড়ালে সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে কাজ করত।”
তার বিরুদ্ধে ডিএমপির বিভিন্ন থানায় আগের ১১টি মামলার তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানান তিনি।