Published : 16 Jun 2026, 04:39 PM
সমুদ্র অনেকের কাছেই প্রিয়। পাড়ে দাঁড়িয়ে ঢেউয়ের শব্দ শোনা, বাতাসে মন জুড়িয়ে নেওয়া কিংবা ঝিনুক কুড়িয়ে বিকেল কাটানোর সব অনুভূতিই আনে প্রশান্তি।
তবে সব সময় সমুদ্রের কাছে যাওয়া সম্ভব হয় না। তাই ঘরের সাজসজ্জায় সমুদ্রের আবহ এনে সেই প্রশান্তি ধরে রাখার উপায় ব্যবহার করা যেতে পারে।
সমুদ্র থেকে অনুপ্রাণিত ধারাটিতে অতিরিক্ত সামুদ্রিক প্রতীক বা কৃত্রিম সাজ নয় বরং প্রাকৃতিক উপাদান, কোমল রং এবং সূক্ষ্ম নকশাই প্রধান্য পায়।
“ঝিনুক বহু আগ থেকেই অলংকার ও ঘর সাজানোর উপাদান হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। প্রকৃতি থেকে অনুপ্রাণিত বাঁকানো নকশা, ঝিনুক ও সূক্ষ্ম কারুকাজের ব্যবহার আধুনিক ঘর সাজানোর ভাবনায় মানিয়ে যায়”, বলেন রাজধানীর ফ্যাশন ও ইন্টেরিয়র ডিজাইন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, রেডিয়েন্ট ইনস্টিটিউট অব ডিজাইন-এর প্রতিষ্ঠাতা অন্দরসজ্জাবিদ গুলশান নাসরিন।
সমুদ্রের অনুভূতি, কিন্তু বাড়াবাড়ি নয়
সমুদ্রঘেঁষা বাড়ির আবহ আনতে নোঙর, জাহাজ, নীল-সাদা ডোরা কিংবা বিভিন্ন সামুদ্রিক প্রতীক দিয়ে ঘর সাজানোর প্রবণতা নয়। এখন সেই ধারা বদলেছে। আধুনিক সাজে সমুদ্রের আবহ ফুটিয়ে তোলা হয়, অনেক বেশি সংযতভাবে।
যেখানে প্রকৃতির সৌন্দর্য থাকবে, তবে তা যেন কৃত্রিম বা অতিরিক্ত মনে না হয়।
ঝিনুক, প্রবাল কিংবা সমুদ্রের রং থেকে অনুপ্রাণিত উপাদান ব্যবহার করেই সহজে এই পরিবেশ তৈরি করা যায়।

ঝিনুকের সৌন্দর্য কেন্দ্রে
ঘরে সমুদ্রের আবহ আনতে চাইলে, ঝিনুক হতে পারে সবচেয়ে সহজ উপাদান। তবে এটা দিয়ে পুরো ঘর ভরিয়ে ফেলার প্রয়োজন নেই।
একটি দেয়ালে ঝিনুকের নকশার আয়না, ছোট সাজসজ্জার পাত্র কিংবা শৈল্পিকভাবে সাজানো ঝিনুকের ফ্রেমই ঘরের প্রশান্তি যোগে যথেষ্ট হতে পারে।
এই অন্দরসজ্জাবিদের মতে, “ঝিনুক এমনভাবে সাজানো উচিত যাতে সেটি স্বাভাবিক ও শিল্পসম্মত দেখায়। এলোমেলোভাবে লাগানো ঝিনুকের পরিবর্তে নিখুঁত কারুকাজ ও সঠিক বিন্যাসই যথাযথ হবে।”
দেয়ালেও সমুদ্রের ছোঁয়া
ঘরের সব দেয়াল নয় বরং নির্দিষ্ট দেয়ালকে আলাদা করে সাজানো যেতে পারে সমুদ্রের অনুপ্রেরণায়। ঝিনুকের নকশা, ঢেউয়ের মতো বাঁকানো নকশা কিংবা হালকা বালুকাময় রংয়ের ব্যবহার দেয়ালকে ভিন্ন মাত্রা দিতে পারে।
শৈল্পিক ঝিনুকের নকশা বসিয়ে, দেয়ালে থ্রিডি স্টাইলে আবহ আনা যায়।
আলোতেও উপকূলের আবহ
ঘরের আলোর সাজেও সমুদ্রের অনুপ্রেরণা ব্যবহার করা যায়। ঝিনুকের আকৃতির বাতি, ঢেউয়ের মতো বাঁকানো আলোর আবরণ কিংবা স্বচ্ছ উপকরণ দিয়ে তৈরি আলোকসজ্জা সমুদ্রের কোমল ও উষ্ণ পরিবেশ আনে।
অর্থাৎ আলোকসজ্জা এমন হওয়া উচিত, যা ঘরের মূল সাজের সঙ্গে মিল রেখে সামুদ্রিক প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আনে।
আরও সাজসজ্জা
বসার ঘরের তাক, কেন্দ্রীয় টেবিল কিংবা বই রাখার তাকে ছোট ঝিনুকের পাত্র, সামুদ্রিক অনুপ্রেরণার শোপিস বা হাতের কাজের সাজসজ্জা রাখলেও ঘরে সমুদ্রের আবহ তৈরি হয়।

রংয়ের নির্বাচনেও সমুদ্রের প্রশান্তি
সমুদ্র মানেই শুধু নীল নয়। সৈকতের বালুর মতো হালকা বাদামি, মুক্তার মতো সাদা, হালকা সবুজ, কোমল ধূসর কিংবা ক্রিম রংও সমুদ্রের আবহ তৈরি করতে পারে।
গুলশান নাসরিনের মতে, “ঘরে কোমল রংয়ের ব্যবহার, প্রাকৃতিক কাপড় এবং বাঁকানো নকশার আসবাব একসঙ্গে মিলিয়ে দিলে সহজেই সমুদ্রের প্রশান্ত পরিবেশ তৈরি করা সম্ভব।”
প্রাকৃতিক উপকরণ
ঘরের সাজে কাঠ, বেত, সুতির কাপড় কিংবা লিনেনের মতো প্রাকৃতিক উপকরণ ব্যবহার করলে সমুদ্রের পরিবেশ আরও বাস্তব মনে হয়।
অতিরিক্ত চকচকে বা ভারী সাজের পরিবর্তে সহজ ও স্বাভাবিক উপকরণ ঘরে আরামদায়ক পরিবেশ তৈরি করে।
বসার ঘরের কুশন, পর্দা কিংবা টেবিলের আবরণেও এই ধরনের কাপড় ব্যবহার করা যেতে পারে। এতে ঘরে এক ধরনের হালকা ও শান্ত অনুভূতি তৈরি হয়।
আরও পড়ুন
প্রচলিত ধারণার বাইরে শোবার ঘরের সাজ