Published : 19 Apr 2026, 05:47 PM
অনেকের কাছেই ঘরের দেয়াল মানেই সাদা; দেয়াল পরিষ্কার আর সাজে সরলতা আনতে নিরাপদ পছন্দ।
তবে সময় বদলাচ্ছে, বদলাচ্ছে রুচি ও অনুভূতির ধরনও। এখন শুধু সুন্দর ঘর নয়, নিজের মতো করে সাজানো, উষ্ণ আর ব্যক্তিত্বময় রাখাও নতুনত্ব।
আর এই পরিবর্তনে নতুন করে ফিরে এসেছে ‘মভ’, যা হালকা বেগুনি আর গোলাপির মিশেল।
একসময় এই রং শুধুই কিশোরী বয়সের শোবার ঘরের সঙ্গে যুক্ত করা হত। তবে এখন ‘মভ’ রং মানে গভীরতা, উষ্ণতা আর এক ধরনের নীরবতা দেওয়া সৌন্দর্য।
আধুনিক রূপ
“মভ’ রংটি ঘরে নতুনভাবে জায়গা করে নিয়েছে। যা একই সঙ্গে পুরানো দিনের আমেজ দেয়, আবার আধুনিকতার সঙ্গেও দারুণভাবে মানিয়ে যায়”- বলেন অন্দরসজ্জাবিদ গুলশান নাসরিন।
এর জনপ্রিয়তার পেছনে আছে রংটির পরিণত ও পরিশীলিত চরিত্র।
এই অন্দরসজ্জাকর মনে করেন, “মভ’ রং গোলাপির মতো কোমল হলেও অনেক বেশি পরিণত এবং ব্যবহারযোগ্য।”
বসার ঘরে এই রং ব্যবহারে উষ্ণ ও আরামদায়ক পরিবেশ আছে।
নিরপেক্ষ রং
একসময় নিরপেক্ষ রং বলতে বোঝাতো সাদা, ধূসর বা ‘বেইজ’। তবে ‘মভ’ এক ধরনের উষ্ণ নিরপেক্ষ রং।
শোবার ঘরের নকশায় হালকা ‘মভ’ রং ব্যবহারে খুব সামান্য পরিবর্তনেও সাধারণ সাদা ঘর হয়ে উঠতে পারে প্রশান্ত ও বিলাসী।
কাঠের আসবাব, প্রাকৃতিক উপকরণ আর নরম আলো- সবকিছু মিলে ঘর হয় শান্তির আশ্রয়।

আলো-ছায়ায় বদলে যাওয়া রংয়ের খেলা
“মভ’ রংয়ের আরেকটি বড় বৈশিষ্ট্য হল- এর পরিবর্তনশীলতা”- বলেন গুলশান নাসরিন।
দিনের আলো, রাতের আলো কিংবা ঘরের আলোকসজ্জার ধরন অনুযায়ী এই রংয়ের অনুভূতি বদলে যেতে পারে। কখনও এটি উজ্জ্বল ও প্রাণবন্ত লাগে, আবার কখনও গভীর ও শান্ত।
বসার ঘরে এই রং ব্যবহারে সূর্যের আলো ঢুকলে দেয়ালের রং জীবন্ত লাগে। একই ঘর সন্ধ্যায় হয়ে ওঠে আরও নরম, আরও আরামদায়ক। এই পরিবর্তনশীলতাই ‘মভ’কে আলাদা করে তোলে।
রংয়ের গভীরতা ও প্রলেপে গুরুত্ব
শুধু রং নয়— এর টেক্সচার বা প্রলেপের ধরনও খুব গুরুত্বপূর্ণ বলে মত দেন এই গুলশান নাসরিন।
তার মতে, “যখন ‘মভ’ রংকে একটু নরম করে ব্যবহার করা হয় তখন সেটা বেশি প্রাকৃতিক ও স্থির অনুভূতি দেয়।”
ছোট ঘরে এই রং ব্যবহার করে পুরো দেয়াল ও ছাদ ঢেকে দেওয়া যায়। আর ঘরে পিতলের হালকা উপকরণ ও মার্বেলের মেঝে যোগ করে ভারসাম্য।
ছোট জায়গায় বড় পরিবর্তন
ছোট বা জানালাবিহীন জায়গায় রং ব্যবহার করা অনেক সময় কঠিন মনে হয়। তবে সঠিকভাবে ব্যবহার করলে ‘মভ’ সেই জায়গাকেও জীবন্ত করে তুলতে পারে।
ছোট বাথরুমে বিভিন্ন মাত্রার ‘মভ’ রং ব্যবহারে আসে ভিন্নতা।
ঘরের এক অংশে হালকা, অন্য অংশে গাঢ়— এভাবে ধাপে ধাপে রংয়ের পরিবর্তন এনে তৈরি করা যায় গভীরতা ও গতিশীলতা।
এতে ঘরটি শুধু বড় মনে হয় না, বরং এক ধরনের বিলাসী অনুভূতিও তৈরি হয়।

যেভাবে ব্যবহার করলে ভালো লাগে
‘মভ’ রংয়ের সবচেয়ে বড় সুবিধা হল- এটি অন্য রংয়ের সঙ্গে মানিয়ে যায়। মাটিরঙা, সবুজ, সরিষা কিংবা কাঠের স্বাভাবিক রং— সবকিছুর সঙ্গেই এটি সুন্দরভাবে মিশে যায়।
তবে খুব বেশি ব্যবহার করলে এটি ভারী লাগতে পারে, তাই ভারসাম্য রাখা জরুরি।
হালকা ‘মভ’ দিয়ে পুরো ঘর রাঙানো যেতে পারে, আবার গাঢ় ‘মভ’ দিয়ে শুধু একটি দেয়ালেও তৈরি করা যায়। এর সঙ্গে প্রাকৃতিক উপকরণ যোগ করলে ঘরে প্রাণবন্ততা আসে।
আরও পড়ুন