গৃহসজ্জায় ফার্ম হাউজ স্টাইল
ইউরোপ ও আমেরিকার গ্রামীণ বাড়িঘরের অনুপ্রেরণায় গড়ে উঠেছে গৃহসজ্জায় ফার্মহাউজ স্টাইল।
বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বে গত এক দশক ধরে ঘর সাজানোর জগতে ‘ফার্মহাউজ স্টাইল’ এক আলোচিত নাম।
পশ্চিমা দেশগুলোতে যেমন এটি জনপ্রিয় হয়েছে, তেমনি দেশেও শহরে বহু নতুন বাড়ি বা রিসোর্টে এই ধারা দেখা যায়।
ফার্ম হাউজ স্টাইল: আসলে কী?
ফার্ম হাউজ স্টাইল মূলত ইউরোপ ও আমেরিকার গ্রামীণ বাড়িঘরের অনুপ্রেরণায় গড়ে উঠেছে। এর মূল বৈশিষ্ট্য হল সরলতা, আরামদায়ক পরিবেশ, প্রাকৃতিক উপকরণের ব্যবহার এবং এক ধরনের গ্রামীণ নান্দনিকতা।
কাঠের আসবাব, উন্মুক্ত বিম, সাদা দেয়াল, মাটির রং, সাদামাটা কাপড়, আরামদায়ক বসার ব্যবস্থা— সব মিলিয়ে এক উষ্ণ ও আমন্ত্রণমূলক আবহ তৈরি করে এই স্টাইল।
বাংলাদেশে এই ধারা মূলত শহরের মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত শ্রেণির মধ্যে জনপ্রিয় হয়েছে।
অন্দরসজ্জা প্রতিষ্ঠান চতুষ্কোণের পরিচালক কান্তা কবির বলেন, "ঢাকার অভিজাত এলাকায় বাড়ি নির্মাণে বা রিসোর্ট সাজাতে ফার্মহাউজ ধারা লক্ষ করা যায়। এটি মূলত পশ্চিমা এক ধরনের গ্রামীণ সৌন্দর্য, যেটিকে শহুরে মানুষ বিলাসিতার অংশ হিসেবে গ্রহণ করেছে।”
কেন এত জনপ্রিয়?
ফার্ম হাউজ স্টাইলের মূল আকর্ষণ এর ‘কোজি’ বা আরামদায়ক পরিবেশ। প্রকৃতির সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা তৈরি করে। সাদামাটা ও সহজ রং ব্যবহার মানসিক প্রশান্তি আনে।
কাঠ, ইট, পাথরের মতো প্রাকৃতিক উপাদান বেশি ব্যবহৃত হয়, যা পরিবেশবান্ধব অনুভূতি দেয়। গ্রামীণ স্মৃতিকে শহুরে জীবনে ফিরিয়ে আনে।
বাংলাদেশে যারা গ্রামের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে শহরে থাকেন, তাদের কাছে এটি ‘নস্টালজিয়া’র স্মৃতিকাতরতার মতো কাজ করেছে।
তবে স্টাইল কি কিছুটা পুরানো?
বিশ্বজুড়ে অনেক অন্দরসজ্জাকর এখন বলছেন- ফার্ম হাউজ স্টাইল কিছুটা পুরানো বা একঘেয়ে হয়ে গেছে। একই ধরনের সাদা দেয়াল, কালো-সাদা আসবাব অতিরিক্ত ব্যবহৃত হয়েছে।
নতুন নির্মিত বাড়িতে এটি অনেক সময় কৃত্রিম মনে হয়, কারণ মূলত এটি গ্রামীণ জীবনের প্রতিফলন।
কান্তা বলেন, “বাংলাদেশে এখন মানুষ ইন্টেরিয়র ডিজাইনে নিজের ব্যক্তিত্ব ফুটিয়ে তুলতে চান। শুধু বিদেশি ধারা অনুকরণ করলে সেটি দীর্ঘমেয়াদে টিকে থাকে না।”
তাই এখন আর শুধু সাদা-কালো বা কাঠের সাদামাটা আসবাব নয়, বরং কটেজ ধাঁচের রঙিন পর্দা, ফুলেল প্রিন্ট, হালকা প্যাটার্ন ব্যবহার করা হচ্ছে।
উষ্ণ রং যেমন- টেরাকোটা, অলিভ সবুজ, হালকা নীল যুক্ত হচ্ছে। কাঠ ও ধাতুর মিশ্রণ নতুনভাবে আসছে।
এছাড়া স্থানীয় উপকরণ ও সংস্কৃতির সঙ্গে যেমন কাঠ ও বাঁশের ব্যবহার, নকশিকাঁথার মতো দেশীয় কাপড়, মাটির কলস বা ধাতব লণ্ঠন মিশিয়ে নেওয়া যায়। এতে ঘর হবে ব্যক্তিগত, অথচ আরামদায়ক।
আরও পড়ুন
