১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

ছোট ঘরে বড় ভুল

অন্দরসজ্জার ভুলে ঘর দেখাতে পারে আরও ছোট।

ছোট ঘরে বড় ভুল
ছবি: রয়টার্স।

লাইফস্টাইল ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 13 May 2025, 05:04 PM

Updated : 26 Aug 2026, 12:42 PM

ছোট ঘর সাজানো যতটা সহজ মনে হয়, বাস্তবে ঠিক ততটাই জটিল।

জায়গা কম থাকলে বেছে নিতে হয় কম তবে কার্যকর আসবাব, হালকা রংয়ের ব্যবহার, ওজনদার পর্দা না টেনে সূর্যের আলো ঢোকার পথ করে দেওয়া- সব মিলিয়ে ছোট ঘরের জন্য একটা সুপরিকল্পিত ভাবনা জরুরি।

তবে অনেকেই না বুঝে কিছু সাধারণ ভুল করে বসেন, যা ঘরকে আরও ছোট, অগোছালো এবং দমবন্ধ করে তোলে।

এই বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস-ভিত্তিক গৃহসজ্জাবিদ এইমি সুইজার দিয়েছেন বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ।

খুব বেশি আসবাবপত্র রাখা

অনেকেই মনে করেন, ঘরের প্রতিটি ইঞ্চি কাজে লাগালেই সেটি কার্যকর হবে। তবে বাস্তবতা হচ্ছে, খুব বেশি আসবাব ঘরকে করে তোলে অগোছালো ও ছোট।

এইমি সুইজার রিয়েলসিম্পল ডটকম’য়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলেন, “কম জায়গায় বেশি আসবাব মানেই শ্বাস নেওয়ার জায়গাটুকু কমে যাওয়া।”

সমাধান: ‘মাল্টিফাংশনাল’ বা বহুমুখী আসবাব ব্যবহার করতে হবে। যেমন- ‘স্টোরেজ অটোমান’, ‘ওয়াল ডেস্ক’, ‘বিল্ট-ইন বুকশেলফ’।

ছোট বেডরুমে বেছে নেওয়া যায়- ‘নাইটস্ট্যান্ডসহ বিল্ট-ইন হেডবোর্ড’ বা ‘মার্ফি বেড’, যা দিনের বেলায় দেয়ালে ঢুকে যায়। ঘুমের সময়ে বিছানার আকারে মতো করে বের করা যায়।

মাপ না মিলিয়ে বড় আসবাব কেনা

হয়ত পাঁচজন বসতে পারে এমন একটি সোফা পছন্দ হল, তবে সেটা কি ছোট ড্রয়িংরুমে মানাবে?

এইমি বলেন, “অনলাইন থেকে কেনার আগে টেপ দিয়ে ভালোভাবে মাপ নিয়ে তবেই সিদ্ধান্ত নিন।”

গাঢ় রং ব্যবহার

গাঢ় রং, যেমন- নেভি ব্লু, কালো বা চকলেট বাদামি- দেয়ালে বা ওয়ালপেপারে ব্যবহার করলে ঘর আরও ছোট এবং ভারী লাগতে পারে।

যদিও এমন রং ঘরে নাটকীয়তা আনে, তবুও ছোট ঘরের জন্য এটি অস্বস্তিকর হয়ে উঠতে পারে।

পরামর্শ: দেয়াল ও বড় আসবাবের জন্য হালকা রং বেছে নেওয়া সমাধান। সাদা, ক্রিম, হালকা ধূসর বা প্যাস্টেল শেইড রংগুলো শুভ্রতা দেবে ও ঘরকে দেখাতে সাহায্য করবে।

তবে সামান্য নাটকীয়তার জন্য ‘হান্টার গ্রিন’ অ্যাকসেন্ট চেয়ার (গাঢ় সবুজ রংয়ের একটি বিশেষ চেয়ার) বা মেরুন থ্রো (গাঢ় লালচে-বাদামি রংয়ের একটি কম্বল বা চাদর) ব্যবহার করা যেতে পারে।

ঢাকার ছোট ফ্ল্যাট বা অফিস কক্ষে যদি পুরানো গাঢ় কাঠের কেবিনেট থাকে, তাহলে হালকা রংয়ে রাঙিয়ে ফেলা যেতে পারে। রং নির্বাচনে হালকা নীল, মাখনের মতো হালকা হলুদ বা সাদা হলে ভালো হবে।

জানালার সামনে আসবাব বা ভারী পর্দা

একটা ঘরকে বড় দেখানোর অন্যতম উপায় হল প্রাকৃতিক আলো। জানালার সামনে ভারী পর্দা, বুকশেলফ বা সোফা রাখলে আলো ঢোকার পথ বন্ধ হয়ে যায়।

এইমি সুইজার বলছেন, “নরম ও পাতলা পর্দা ব্যবহার করা উচিত। প্রয়োজনে ব্লাইন্ডস (জানালার ঝুলন্ত পাতাযুক্ত পর্দা) ব্যবহার করতে হবে, যেন আলো প্রবাহিত হয়।”

পরামর্শ: বড় আয়না জানালার ঠিক বিপরীতে পর্দা রাখতে হবে। এতে আলো প্রতিফলিত হয়ে ঘরকে আরও উজ্জ্বল ও প্রশস্ত দেখায়।

অতিরিক্ত জিনিসপত্র ও অগোছালো পরিবেশ

ছোট ঘরে ছোট ছোট অনেক কিছু রাখলে ঘর হয়ে পড়ে বিশৃঙ্খল। গবেষণা বলছে, অগোছালো পরিবেশ মানসিক চাপ বাড়ায়।

সমাধান: প্রতিটি জিনিসের নির্দিষ্ট জায়গা নির্ধারণ করতে হবে। দরকার হলে দেওয়ালের ওপর শেলফ বসিয়ে উঁচুতে সংরক্ষণাগার তৈরি করতে হবে।

ছোট অনেক শো-পিসের চেয়ে বড় একটি স্টেটমেন্ট বা বিশেষ কোনো সাজানানোর জিনিস রাখাই ভালো।

ছোট ঘর মানেই কম জিনিস, বেশি কার্যকারিতা। যে জিনিস প্রতিদিন কাজে লাগে না, তা ঘরে না রাখাই ভালো।

অনেক ধরনের স্টাইল মিশিয়ে ফেলা

মডার্ন, ট্র্যাডিশনাল, মিনিমালিস্ট— সবকিছু একটু একটু করে রাখলে ঘর হয় এলোমেলো। বিশেষ করে ছোট ঘরের সজ্জায় একটা ধারাবাহিকতা থাকা জরুরি।

এইমি সুইজার বলেন “একটি নির্দিষ্ট স্টাইল বা রংয়ের ধারা ঠিক করে নিতে হবে। এরপর সেই অনুযায়ী আসবাব, পর্দা ও অনুষঙ্গ বেছে নিন।”

উদাহরণ: যদি ‘মিনিমালিস্ট’ স্টাইল পছন্দ হয়, তাহলে হালকা রং, কম আসবাব এবং ফাঁকা দেয়ালের মধ্যে কিছু ‘অ্যাকসেন্ট পিস’ বেছে নিতে পারেন। আর যদি ‘ট্র্যাডিশনাল’ পছন্দ হয়, তবে কাঠের ছোঁয়া, মাটি রং এবং সুতির কাপড় ব্যবহার করা যেতে পারে।

ছোট ঘর বড় দেখানোর জন্য দরকার পরিকল্পিত সাজসজ্জা আর ওপরের ভুলগুলো এড়িয়ে চলা।

আরও পড়ুন

শোয়ার ঘর বাজেভাবে সাজানোর লক্ষণ

ছোট অ্যাপার্টমেন্ট সাজাতে

ঝলমলে ঘরের জন্য

ঘর বুঝে চাদর