Published : 19 Jul 2026, 02:24 AM
মালয়েশিয়ার পেনাং প্রদেশে একটি নির্মাণাধীন ভবনের ৩৪ তলা থেকে নিচে পড়ে এক বাংলাদেশি নির্মাণ শ্রমিকের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
স্থানীয় সময় শুক্রবার সকালে পেনাংয়ের বায়ান মুতিয়ারা এলাকার ১৩ নম্বর মুকিমের একটি নির্মাণ সাইটে এ দুর্ঘটনা ঘটে। তবে তদন্তের স্বার্থে নিহত ওই শ্রমিকের নাম-পরিচয় এখনো প্রকাশ করেনি কর্তৃপক্ষ।
পেনাং রাজ্যের নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য বিভাগের (ডিওএসএইচ) বরাত দিয়ে এ খবর প্রকাশ করেছে মালয়েশিয়ার ইংরেজি দৈনিক ‘নিউ স্ট্রেইট টাইমস’।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, নিহত ওই বাংলাদেশি কর্মী একটি সাব-কন্ট্রাক্টর কোম্পানির অধীনে ওই ভবনে পেইন্টিং, প্লাস্টারিং ও হাউসকিপিংয়ের কাজ করছিলেন। দুর্ঘটনার দিন ৩৪ তলায় কাজ করার সময় তিনি ভারসাম্য হারিয়ে নিচে পড়ে যান।
পরবর্তীতে ৯ তলার ক্যানোপি ছাদের ওপর তার নিথর দেহ পাওয়া যায়। খবর পেয়ে পেনাং হাসপাতালের একটি মেডিক্যাল টিম দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে মৃত ঘোষণা করে।
এ ঘটনার পর পেনাংয়ের নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য বিভাগ (ডিওএসএইচ) একটি তদন্ত দল গঠন করেছে। বিভাগটির পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট সাব-কন্ট্রাক্টর প্রতিষ্ঠানকে খোলা জায়গায় সব ধরনের পেইন্টিং ও প্লাস্টারিং কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়ে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
একইসঙ্গে, নির্মাণ সাইটের ঝুঁকিপূর্ণ অংশে প্রয়োজনীয় সুরক্ষাবেষ্টনী দিতে ব্যর্থ হওয়ায় মূল ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকেও আলাদা নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।
পেনাংয়ের নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য বিভাগের পরিচালক খাইরোজি আসরি এ দুর্ঘটনার জন্য শোক ও নিন্দা প্রকাশ করেছেন। নিউ স্ট্রেইট টাইমসকে তিনি বলেন, “উঁচুতে কাজ করার ক্ষেত্রে শ্রমিকদের নিরাপত্তার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে দেখা উচিত। ১৯৯৪ সালের পেশাগত নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য আইন এবং ২০২৪ সালের নতুন বিধিমালা অনুযায়ী, সব নিয়োগকর্তা ও ঠিকাদারের দায়িত্ব কর্মক্ষেত্রের ঝুঁকি চিহ্নিত করে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।”
পরিচালক আরও সতর্ক করে জানান, কর্মক্ষেত্রের যেকোনো দুর্ঘটনা গোপন করা বা যথাসময়ে রিপোর্ট না করা একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এই দুর্ঘটনায় নিরাপত্তা আইনের কোনো লঙ্ঘন হয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখছে সংশ্লিষ্ট বিভাগ। তদন্ত শেষে দোষী সাব্যস্ত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন।
বর্তমানে নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য স্থানীয় হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে এবং বিষয়টি নিয়ে দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগের প্রক্রিয়া চলছে।