২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪ আশ্বিন ১৪৩৩

বাথরুমে যে চার রং ব্যবহার না করাই ভালো

ছোট বাথরুম বড় দেখাতে এড়াতে হয় গাঢ় রং।

লাইফস্টাইল ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 16 Jul 2026, 05:00 PM

Updated : 19 Sep 2026, 02:24 PM

বাড়ির প্রতিটি ঘরে যেমন আলাদা গুরুত্ব আছে তেমনি গুরত্ব আছে গোসলঘরেও। তাই এই স্থান শুধু পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন হলেই হয় না, মানসিক প্রশান্তিও দিতে হয়।

অনেকেই বাথরুম সংস্কারের সময় নতুন রং করেন। তবে শুধু পছন্দের রং বেছে নিলেই চলবে না।

ভুল রং একটি ছোট ঘরকে আরও ছোট, অন্ধকার বা অস্বস্তিকর করে তুলতে পারে। আবার সঠিক রং একই জায়গাকে উজ্জ্বল, পরিচ্ছন্ন ও আরামদায়ক অনুভূতি দিতে পারে।

ফ্যাশন ও ইন্টেরিয়র ডিজাইন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, রেডিয়েন্ট ইনস্টিটিউট অব ডিজাইন-এর প্রতিষ্ঠাতা ও অন্দরসজ্জাবিদ গুলশান নাসরিন বলেন, “বাথরুমের রং বাছাইয়ের সময় শুধু সৌন্দর্য নয় পাশাপাশি আলো, জায়গার আকার, ব্যবহার এবং মানসিক প্রভাবও বিবেচনায় নেওয়া উচিত। এমন কিছু রং আছে, যেগুলো অন্য ঘরে মানিয়ে গেলেও বাথরুমে ব্যবহার না করাই ভালো।”

গাঢ় বাদামি রং বাথরুমকে ভারী করে

বাথরুমে গাঢ় বাদামি রং ব্যবহার ভালো ফলাফল নাও দিতে পারে। কারণ এই রং অনেক সময় অতিরিক্ত গাঢ় বা ভারী দেখায়। ফলে ছোট বা মাঝারি আকারের বাথরুম আরও সংকীর্ণ এবং বন্ধ মনে হতে পারে।

গুলশান নাসরিন বলেন, “বাদামি রং ব্যবহার করতে চাইলে পুরো দেয়ালে না দিয়ে ছোটখাটো সাজসজ্জার উপকরণে ব্যবহার করা যেতে পারে। যেমন তোয়ালে, কাচের বোতল, সাবান রাখার পাত্র বা আলমারির হাতলে এই রং দিলে ঘর ভারী লাগে না।”

এই বিশেষজ্ঞদের মতে, বাথরুমে সাধারণত প্রাকৃতিক আলো কম থাকে। তাই গাঢ় বাদামি রং, আলো আরও শুষে নিয়ে স্থানটিকে মলিন দেখাতে পারে।

নিস্তেজ ধূসর রং

অতিরিক্ত নিস্তেজ বা কাদামাটির মতো ধূসর রং, গোসলঘরকে অনেকটাই প্রাণহীন করে তুলতে পারে। যে কারণে জাগতে পারে বিষণ্ন ও নির্জীব অনুভূতি।

আবার বাথরুমে সাধারণত সাদা বেসিন, শৌচাগার বা অন্যান্য উপকরণ থাকে। তাই অতিরিক্ত ধূসর রং অনেক সময় এসবের সঙ্গে মানানসই হয় না।

তাই সাদা রংয়ের বিকল্প চাইলে হালকা মাখনের মতো উষ্ণ আভাযুক্ত রং বেছে নেওয়ার পরামর্শ দেন এই অন্দরসজ্জাবিদ। এতে ঘর উজ্জ্বলও থাকে, আবার অতিরিক্ত সাদাও লাগে না।

হালকা গোলাপি বা বেগুনি সব সময় ভালো নয়

অনেকের কাছে হালকা গোলাপি, হালকা বেগুনি কিংবা অন্যান্য কোমল রং ভালো মনে হয়। শোবার ঘর বা বসার ঘরে এসব রং সুন্দর দেখাতেও পারে। তবে বাথরুমে সব সময় একই ফল পাওয়া যায় না।

এই ধরনের কোমল রংয়ে বাথরুম বিবর্ণ বা মলিন দেখায়। বিশেষ করে সাদা রংয়ের সরঞ্জামের পাশে এগুলো অনেক ক্ষেত্রে বেমানানও লাগে।

তাই শিশুদের বাথরুমে পরিমিত মাত্রায় এই ধরনের কোমল রং ব্যবহার করলে পরিবেশ ভালো লাগতে পারে।

তবে প্রাপ্তবয়স্কদের ব্যবহারের বাথরুমে এসব রং ব্যবহারের আগেই ভালোভাবে ভাবা উচিত।

অতিরিক্ত উজ্জ্বল রং চোখের জন্য অস্বস্তিকর

উজ্জ্বল সবুজ, উজ্জ্বল কমলা, তীব্র গোলাপি বা অন্য কোনো অত্যন্ত উজ্জ্বল রং পুরো বাথরুমজুড়ে ব্যবহার না করার পরামর্শ দেন, গুলশান নাসরিন।

তার কথায়, “বাথরুম সাধারণত ছোট জায়গা। সেখানে অতিরিক্ত উজ্জ্বল রং চারপাশে ব্যবহার করলে চোখে চাপ পড়ে এবং মানসিক প্রশান্তির পরিবর্তে অস্বস্তি তৈরি হতে পারে।”

রঙিন পরিবেশ পছন্দ হলে উজ্জ্বল রং না করে তোয়ালে, ম্যাট, পর্দা কিংবা অন্যান্য সাজসজ্জার উপকরণে উজ্জ্বল রংয়ের ব্যবহার করাই ভালো বুদ্ধি।

আরও পড়ুন

রান্নাঘর সজ্জায় নতুন ধারা

ওয়ার্ম মিনিমালিজম: কম খরচে বসার ঘরে আধুনিক রূপান্তর

বইয়ের তাক সাজানোর কৌশল