২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫ আশ্বিন ১৪৩৩

বইয়ের তাক সাজানোর কৌশল

বইয়ের পাশাপাশি অন্যান জিনিস দিয়ে সাজালে, ঘরসজ্জায় ভিন্ন মাত্রা যোগ করা যায়।

লাইফস্টাইল ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 21 Jun 2026, 04:19 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:27 PM

শুধু বই রাখার জায়গা নয় বরং ঘরের রুচি, ব্যক্তিত্বও প্রকাশ করে সুন্দর করে সাজানো বইয়ের তাক।

এই তাক সাজাতে অনেক দামি সাজসজ্জা সামগ্রীও বিশেষ দরকার পড়ে না। সঠিক পরিকল্পনা, ভারসাম্য এবং ব্যক্তিগত পছন্দের প্রতিচ্ছবি থাকলেই তাকটি নান্দনিক লাগে।

পরিকল্পনা দিয়ে শুরু

বইয়ের তাক সাজানো এক ধরনের শিল্পই বলা চলে। এজন্য প্রথমে সব জিনিস একসঙ্গে মেঝেতে সাজিয়ে দেখা যেতে পারে, কোন জিনিস কোনটির সঙ্গে মানিয়ে যায়। আর কোনটি আলাদা করে রাখতে হবে।

“শুরুতেই ঠিক করে নেওয়া ভালো কোন জিনিসগুলো অবশ্যই তাকে থাকবে। এরপর বড় আকারের জিনিসগুলো আগে বসিয়ে নিলে পুরো বিন্যাস তৈরি করা সহজ হয়”, রাজধানীর ফ্যাশন ও ইন্টেরিয়র ডিজাইন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, রেডিয়েন্ট ইনস্টিটিউট অব ডিজাইন-এর প্রতিষ্ঠাতা অন্দরসজ্জাবিদ গুলশান নাসরিন।

“শেষে ছোট সাজসজ্জার উপকরণ দিয়ে ফাঁকা জায়গাগুলো পূরণ করলে তাকের সাজ পূর্ণ হবে”, বলেন তিনি। 

আরও পরামর্শ দেন, “মাঝে মাঝে কিছুটা দূরে গিয়ে তাকের দিকে তাকাতে হবে। এতে কোথাও ভারসাম্যের অভাব আছে কি-না বা কোনো অংশ অতিরিক্ত ভরাট হয়ে গেছে কি না, তা সহজে বোঝা যায়।”

উচ্চতা ও গভীরতায় বৈচিত্র্য

বইয়ের তাকে বৈচিত্র্য থাকা উচিত। কোথাও উঁচু, কোথাও নিচু এই বৈচিত্র্যই তাককে জীবন্ত করতে পারে।

এই অন্দরসজ্জাবিদ বলেন, “সব বই যদি একইভাবে সাজানো হয়, তাহলে তাক একঘেয়ে লাগে। কিছু বই লম্বা করে, আবার কিছু বই আড়াআড়ি রেখে তার ওপর ছোট ফুলদানী, মাটির পাত্র বা শোপিস রাখা যেতে পারে। এতে তাকে স্তর তৈরি হয় এবং চোখেও আরাম লাগে।”

তবে শুধু উচ্চতাই নয়, গভীরতার দিকেও নজর দিতে হবে। সব জিনিস একই সরলরেখায় না রেখে কিছু সামনে ও কিছু পেছনে রাখলে, তাকে স্বাভাবিক একটি স্তরবিন্যাস তৈরি হয়।

এতে সাজানো অংশটি বেশি পরিপাটি ও পরিকল্পিত লাগে।

ফাঁকা জায়গাও সৌন্দর্যের অংশ

তাকে যত বেশি জিনিস থাকবে, তত সুন্দর দেখাবে- এমন মনে হলেও, অতিরিক্ত ভরাট তাক সৌন্দর্য নষ্ট করে।

তাই এমনভাবে সাজানো উচিত, যেন প্রতিটি জিনিসের নিজস্ব গুরুত্ব থাকে। সবকিছু একসঙ্গে গাদাগাদি করে রাখলে কোনো কিছুই আলাদা করে চোখে পড়ে না।

জিনিসের মাঝখানে পর্যাপ্ত ফাঁকা জায়গা রাখলে, তাক বেশি মার্জিত দেখায়। এই ফাঁকা স্থানই প্রতিটি উপকরণকে আলাদা করে গুরুত্ব দেয়।

আবার একই ধরনের রং ব্যবহার করলে, তাকে স্বাভাবিক সামঞ্জস্য আসে। যেমন- মাটির রং, সাদা বা হালকা বাদামি রংয়ের জিনিস, একসঙ্গে রাখলে পুরো তাক অনেকটাই পরিপাটি দেখায়।

ব্যক্তিগত স্মৃতিকে গুরুত্ব

বইয়ের তাক শুধু সাজানোর জায়গা না হয়ে বরং পরিবারের গল্পও বলতে পারে। তাই পরিবারের সদস্যদের তৈরি শিল্পকর্ম, শিশুদের বানানো সাজসজ্জা কিংবা ভ্রমণ থেকে আনা স্মারক দিয়ে সাজালে, অন্য আসবাব থেকে আলাদা দেখাতে পারে- পরামর্শ দেন গুলশান নাসরিন।

তবে সব ব্যক্তিগত জিনিস একসঙ্গে না রেখে কয়েকটি রাখাই ভালো। আর রং ও গঠন যেন তাকের সৌন্দর্যের সঙ্গে মানায়, দিকেও নজর দিতে হবে।

আলো ও প্রাকৃতিক উপকরণ

বইয়ের তাকের সৌন্দর্য যোগে আলো কার্যকর।

তাকের আশপাশে পর্যাপ্ত আলো থাকলে বই ও সাজসজ্জার জিনিস বেশ স্পষ্ট হয়।

কাঠ, মাটি, বেত কিংবা প্রাকৃতিক উপাদানের তৈরি ছোট পাত্র বা বাক্স ব্যবহারে কৃত্রিমতার পরিবর্তে স্বাভাবিক সৌন্দর্য আসে।

আরও পড়ুন

ঘর সজ্জায় সমুদ্রের অনুভূতি

প্রচলিত ধারণার বাইরে শোবার ঘরের সাজ

রাতে ঘর গোছানোর অভ্যাসে মিলবে শান্ত সকাল