২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬ আশ্বিন ১৪৩৩

প্রচলিত ধারণার বাইরে শোবার ঘরের সাজ

একই রকম আসবাব দিয়ে ঘর সাজাতে হবে, এখন এই ধারণায় পরিবর্তন এসেছে।

লাইফস্টাইল ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 02 Jun 2026, 12:49 PM

Updated : 19 Sep 2026, 02:33 PM

বাড়ির ব্যক্তিগত ও আরামদায়ক জায়গা শোবার ঘর; দিনের শেষে বিশ্রামের স্থান। নিজেকে গুছিয়ে নিতে আর কিছুটা নির্জন সময় কাটাতে শোবার ঘরই বেশি ব্যবহার হয়।

আর শোবার ঘর সাজানোর ক্ষেত্রে কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলার ধারা প্রচলিত আছে। এর মধ্যে রয়েছে হালকা রংয়ের দেয়াল, দুই পাশে একই আসবাব, কাজের টেবিল না রাখা কিংবা নির্দিষ্ট ধরনের আলোর ব্যবহার।

অন্দরসজ্জাবিদ গুলশান নাসরিন মনে করেন, সব ঘরের জন্য একই নিয়ম প্রযোজ্য নয়। বরং ঘরের ব্যবহার, সদস্যাদের জীবনধারা এবং ব্যক্তিগত পছন্দকে গুরুত্ব দিয়ে অনেক প্রচলিত ধারণাই বদলে দেওয়া সম্ভব।

হালকা রংই একমাত্র সমাধান নয়

শোবার ঘরের দেয়ালে হালকা বা নিরপেক্ষ রং ব্যবহার করাই সবচেয়ে ভালো এমন ধারণা এখন ভাঙা যেতেই পারে। যদিও সাধারণভাবে মনে করা হয়, হালকা রং ঘরকে প্রশান্ত ও আরামদায়ক করে তোলে।

এই অন্দরসজ্জাবিদ বলেন, “শুধু হালকা রংয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকার প্রয়োজন সব সময় হয় না। গাঢ় জলপাই, মৃদু নীল বা উষ্ণ ধূসর ধরনের রংও শোবার ঘরে মানিয়ে যেতে পারে।”

“কোন রং কতটা হালকা বা গাঢ়, তারচেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হল, পুরো ঘরের ভারসাম্য। আলোর ব্যবহার, কাপড়ের বুন, আসবাব ও অন্যান্য উপকরণের সঙ্গে সমন্বয় থাকলে গাঢ় রংও প্রশান্ত পরিবেশ তৈরি করতে পারে”, বলেন গুলশান নাসরিন।

এতে ঘর যেমন আরামদায়ক থাকে, তেমনি একঘেয়েমিও আসে না।

শোবার ঘরে কাজের টেবিল রাখা যাবে না

একসময় মনে করা হত, শোবার ঘর শুধুই বিশ্রামের জন্য। তাই সেখানে কাজের টেবিল বা কর্মক্ষেত্র তৈরি করা উচিত নয়।

তবে এখন অনেকে শোবার ঘরেও কাজ করেন। ফলে ঘরের ভেতরে একটি ছোট কাজের কোণ তৈরি করা অনেকের জন্য প্রয়োজন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বড় আকারের শোবার ঘরে সুন্দর নকশার একটি টেবিল রাখা যেতে পারে, যা একই সঙ্গে কাজের স্থান এবং সাজগোজের টেবিল হিসেবে ব্যবহার করা সম্ভব।

অর্থাৎ ঘরের সৌন্দর্য বজায় রেখে ব্যবহারিক প্রয়োজন মেটানোই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

দুই পাশের সবকিছু এক রকম হতে হবে না

প্রচলিত ধারণায় বিছানার দুই পাশে একই ধরনের ছোট টেবিল, একই বাতি এবং একই সাজসজ্জা থাকলে ঘর দেখতে পরিপাটি লাগে।

আধুনিক অন্দরসজ্জায় এই ধারণা ধীরে ধীরে বদলে যাচ্ছে। বরং সবকিছু এক রকম না হয়ে একটু বৈচিত্র্য থাকলে ঘর আলাদা আমেজ আসে।

সব ঘরের গঠন এক রকম হয় না। বিশেষ করে পুরানো স্থাপত্যের বাড়িতে দুপাশ সমানভাবে সাজানো সবসময় সম্ভবও নয়।

তাই প্রয়োজন ও সুবিধা অনুযায়ী সাজানোই বেশি যুক্তিযুক্ত মনে করেন, এই অন্দরসজ্জাবিদ।

কার্পেটের ওপর আবার গালিচা কেন?

শোবার ঘরে আগে থেকেই স্থায়ী কার্পেট লাগানো থাকলে, ওপরে আবার আলাদা গালিচা ব্যবহার করার প্রয়োজন নেই- এই ধারণা এখন ভুল।

বরং কার্পেটের ওপর গালিচা ব্যবহার করলে ঘরের নির্দিষ্ট অংশকে আলাদা করে ফুটিয়ে তোলা যায়।

এছাড়া গালিচা ঘরে অতিরিক্ত রং, নকশায় নতুনত্ব যোগ করে। বিশেষ করে একঘেয়ে কার্পেটের ক্ষেত্রে। তাই স্তরভিত্তিক মেঝের সাজসজ্জা এখন অনেকেই বেছে নেন।

আরও পড়ুন

রাতে ঘর গোছানোর অভ্যাসে মিলবে শান্ত সকাল

জায়গা নষ্ট না করে রান্নাঘর সাজানোর উপায়

দেয়ালে সাদার বদলে অন্য যে রং করা যায়

ঘর সজ্জায় চলতি ধারা যে কারণে এড়ানো ভালো