২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫ আশ্বিন ১৪৩৩

রাতে ঘর গোছানোর অভ্যাসে মিলবে শান্ত সকাল

অগোছালো ঘরে ঘুম ভাঙলে মনের স্বস্তি যেতে পারে উড়ে।

লাইফস্টাইল ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 29 Apr 2026, 07:44 PM

Updated : 26 Aug 2026, 03:31 PM

দিনের শেষে ক্লান্ত শরীর নিয়ে সরাসরি ঘুমাতে যেতেই মন চায়। ঘরের এলোমেলো অবস্থা তখন আর কোনও ভাবেই গুরুত্ব পায় না।

তবে পরদিন সকালে সেই অগোছালো পরিবেশই হয়ে ওঠে মানসিক চাপের অন্যতম কারণ। তাই সমাধান হিসেবে ঘুমানোর আগে ঘরকে ‘বিশ্রামের জন্য প্রস্তুত করার’ চর্চা বেশ কাজে আসে।

অর্থাৎ প্রতিদিন অল্প সময় ব্যয় করে ঘর গুছিয়ে রাখা সকালকে অনেক বেশি স্বস্তিদায়ক করে তুলতে পারে।

‘ঘরকে বিশ্রামে পাঠানো’ বলতে যা বোঝায়

ধারণাটি হল- দিনের শেষে ঘরের প্রতিটি জিনিসকে তার নির্দিষ্ট জায়গায় ফিরিয়ে দেওয়া। অর্থাৎ ঘুমানোর আগে কয়েক মিনিট সময় নিয়ে ঘরকে এমনভাবে গুছিয়ে রাখা, যাতে সকালে উঠে সব কিছু পরিষ্কার ও প্রস্তুত অবস্থায় পাওয়া যায়।

আন্দরসজ্জাবিদ গুলশান নাসরিন বলেন, “এটি এক ধরনের দৈনিক পুনর্বিন্যাস প্রক্রিয়া বলা চলে। দিনের শেষে সচেতনভাবে ঘরকে গুছিয়ে রাখলে পরদিন নতুনভাবে শুরু করার জন্য একটি পরিষ্কার পরিবেশ তৈরি হয়। এছাড়া রাতে গুছিয়ে রাখলে সকালে কোনো বাকি কাজের চাপ থাকে না।”

যে কারণে এই অভ্যাস গুরুত্বপূর্ণ

সকালে ঘুম থেকে উঠে যদি চারপাশে অগোছালো পরিবেশ দেখা যায়, তখন দিন শুরুতেই মানসিক চাপ তৈরি হয়। অনেকেই তখন তাড়াহুড়ো করে ঘর গুছাতে গিয়ে সময় নষ্ট করেন। এতে দিনের শুরুটা অস্বস্তিকর হয়ে ওঠে।

অন্যদিকে, রাতে অল্প সময় নিয়ে ঘর গুছিয়ে রাখলে সকালে সেই চাপ থাকে না। বরং শান্ত পরিবেশে দিন শুরু করা যায়। এতে মনোযোগ বাড়ে এবং দৈনন্দিন কাজ আরও সহজ মনে হয়।

ঘরের প্রতিটি অংশে ছোট ছোট পরিবর্তন

এই অভ্যাস গড়ে তুলতে ঘরের প্রতিটি অংশে সামান্য সময় ব্যয় করলেই যথেষ্ট। যেমন- বসার ঘরে ব্যবহৃত হাল্কা কম্বল, কাঁথা গুছিয়ে রাখা, বালিশ ঠিক করে রাখা বা ব্যবহার করা জিনিসপত্র জায়গামতো রাখা।

এতে ঘরটি পরিপাটি দেখায় এবং সকালে নতুন করে কিছু করার প্রয়োজন হয় না।

“রান্নাঘরেও একইভাবে দিনের শেষে ব্যবহৃত বাসন পরিষ্কার করা, চুলা ও টেবিল মুছে রাখা গুরুত্বপূর্ণ। এতে সকালে রান্না শুরু করা সহজ হয় এবং অগোছালো ভাব দূর থাকে”- বলেন এই অন্দরসজ্জাবিদ।

কাজের টেবিল বা পড়ার জায়গা গুছিয়ে রাখা আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। দিনের শেষে বই, খাতা বা যন্ত্রপাতি ঠিকভাবে সাজিয়ে রাখলে পরদিন কাজ শুরু করতে বাড়তি সময় লাগে না।

একইভাবে শোবার ঘরে ব্যবহৃত কাপড় গুছিয়ে রাখা ঘরকে পরিচ্ছন্ন রাখে।

সকালের পরিবর্তন: মানসিক স্বস্তি ও সময় বাঁচানো

এই অভ্যাসের সবচেয়ে বড় সুবিধা হল- সকালে মানসিক স্বস্তি পাওয়া। নিয়মিত রাতে ঘর গুছিয়ে রাখলে, সকালে অনেক বেশি শান্ত ও প্রস্তুত অনুভব হয়।

এই বিশেষজ্ঞর মতে, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ মনকে প্রভাবিত করে। গোছানো ঘরে থাকলে মনোযোগ এবং কাজের প্রতি আগ্রহও বাড়ে, যা সারাদিনের কার্যক্ষমতা উন্নত করে।

অভ্যাস গড়ে তোলার কৌশল

নতুন কোনো অভ্যাস গড়ে তোলা সবসময় সহজ নয়।

তবে গুলশান নাসরিনের মতে- প্রতিদিন মাত্র দশ থেকে পনেরো মিনিট সময় দিলেই যথেষ্ট।

এই সময়ের মধ্যে কয়েকটি প্রয়োজনীয় কাজ শেষ করা যায়, যা ঘরকে পরিপাটি রাখতে সহায়তা করে।

একসঙ্গে সব কাজ করার চেষ্টা না করে ধীরে ধীরে শুরু করা উচিত। প্রথমে একটি বা দুটি কাজ দিয়ে শুরু করে পরে ধীরে ধীরে আরও কাজ যুক্ত করা যায়। এতে অভ্যাসটি সহজে স্থায়ী হয়।

আরও পড়ুন

গোছানো থাকতে প্রতিদিন যা করতে হবে

বিশৃঙ্খলা এড়াতে পাঁচ মিনিটে গোছান ৫টি জিনিস

বিছানার পাশের টেবিলটি গোছানো থাকলেই ঘুম হবে গভীর

এলোমেলো ড্রয়ার গোছাতে