Published : 12 Apr 2026, 06:00 PM
আলমারিতে ড্রয়ার। আর সেখানে নানান কাপড়ের জটলা। আর দরকারি-অদরকারি জিনিসের জঞ্জাল।
কলম, কাঁচি, পুরানো কাগজ, অজানা তার, চাবি, মেইকআপ, ত্বক ও চুলের প্রসাধনী সবকিছুর মিলয়ে মিশিয়ে যেন ড্রয়ারেই রাখা হয়।
সুবিধার জন্য রাখা হলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তা হয়ে ওঠে এক বিশৃঙ্খলার জায়গা। প্রয়োজনের সময় কিছু খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে যায়, এমন কী ড্রয়ার বন্ধ করাও অনেক সময় কষ্টকর হয়ে পড়ে।
শুরুটা হোক একেবারে খালি করে
“ড্রয়ার গোছানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায় হল- প্রথমে সেটিকে পুরোপুরি খালি করা” বলেন অন্দরসজ্জাবিদ গুলশান নাসরিন।
এতে এক নজরে দেখা যায় কী কী জিনিস জমে আছে। অনেক সময় এমন কিছু জিনিস বেরিয়ে আসে, যা বছরের পর বছর ব্যবহারই করা হয়নি।
পুরানো রসিদ, ভাঙা জিনিস, মেয়াদহীন লিপস্টিক বা মেইকআপ পণ্য।
প্রথমেই এসব আলাদা করে ফেলে দিতে হবে। এই ধাপ একটু কঠিন মনে হলেও এটিই আসল পরিবর্তনের শুরু। কারণ সবকিছু চোখের সামনে না আনলে বুঝতেই পারা সম্ভনব নয় যে কত অপ্রয়োজনীয় জিনিস জমে আছে।
প্রয়োজন আর অপ্রয়োজনের পার্থক্য
ড্রয়ারে সবকিছু রাখা জরুরি নয়। বরং সেখানে থাকা উচিত এমন কিছু জিনিস, যা প্রায়ই ব্যবহার করা হয়। যেমন- কাঁচি, কলম, চিরুনি, প্রতিদিনের ব্যবহার করা মেইকআপ, গয়না, ত্বক ও চুলের যত্ন সামগ্রী বা বাড়ির অতিরিক্ত চাবি।
একই জিনিস একাধিক থাকলে একটি রাখাই যথেষ্ট, বাকি জিনিস অন্য জায়গায় সরিয়ে রাখা ভালো।
বিভাগ করে সাজানো
সব জিনিস একসঙ্গে রাখলে তা দ্রুত এলোমেলো হয়ে যায়। তাই জিনিসগুলোকে আলাদা আলাদা ভাগে ভাগ করা জরুরি। যেমন- এক জায়গায় কলম, অন্য জায়গায় চাবি, আবার অন্য অংশে ছোটখাট যন্ত্রপাতি, মেইকআপ, গয়না, যত্ন সামগ্রী।
এতে প্রয়োজনের সময় খুঁজে পাওয়া সহজ হয় এবং ড্রয়ার দেখতে গোছানো লাগে।
গুছিয়ে রাখার সহায়ক উপকরণ
ড্রয়ার দীর্ঘদিন গোছানো রাখতে কিছু সহায়ক উপকরণ ব্যবহার করা যেতে পারে। ছোট ছোট ভাগ করা বাক্স বা বিভাজক ব্যবহার করলে প্রতিটি জিনিসের নির্দিষ্ট জায়গা তৈরি হয়।
এতে জিনিসপত্র ছড়িয়ে পড়ে না এবং ড্রয়ার সবসময় পরিচ্ছন্ন থাকে।
একাধিক ড্রয়ার নয়
অনেকের ঘরে একাধিক এলোমেলো ড্রয়ার থাকে। এটি সমস্যা বাড়ায়। কারণ তখন কোন জিনিস কোথায় রাখা হয়েছে, তা মনে রাখা কঠিন হয়ে যায়।
তাই একটি নির্দিষ্ট ড্রয়ারেই এই ধরনের জিনিস সীমাবদ্ধ রাখা ভালো।
একটি ড্রয়ার থাকলে সেটি নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হয় এবং নিয়মিত পরিষ্কার রাখাও সম্ভব হয়।
গুলশান নাসরিন মনে করেন- সীমাবদ্ধতা তৈরি করাই গুছিয়ে থাকার অন্যতম কৌশল।
নিয়মিত পর্যালোচনা
একবার গুছিয়ে রাখলেই কাজ শেষ নয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আবারও অপ্রয়োজনীয় জিনিস জমতে পারে। তাই নির্দিষ্ট সময় পরপর ড্রয়ারটি খালি করে দেখে নেওয়া প্রয়োজন। কোন জিনিস আর দরকার নেই, কোনটি সরিয়ে ফেলা উচিত!
তাই মাস ঘুরলেই একবার এই কাজ করলে ড্রয়ার অগোছালো হয়ে উঠবে না।
আরও পড়ুন
অতিথি আসার আগেই দ্রুত ঘর গোছানোর উপায়