২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫ আশ্বিন ১৪৩৩

বিশেষ কমিটির মাধ্যমে সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ ‘প্রত্যাখ্যান’ জামায়াত জোটের

সংবিধান সংস্কার পরিষদকে কার্যকর করার সুযোগ এখনো রয়েছে, বলেন গোলাম পরওয়ার।

বিশেষ কমিটির মাধ্যমে সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ ‘প্রত্যাখ্যান’ জামায়াত জোটের

জাতীয় প্রেস ক্লাব মিলায়তনে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন জোট ১১ দলীয় ঐক্যের সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পড়েন দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 20 Sep 2026, 06:17 PM

Updated : 20 Sep 2026, 06:17 PM

জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশকে পাশ কাটিয়ে বিশেষ কমিটির মাধ্যমে সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগকে ‘প্রত্যাখ্যান’ করেছে বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য।

জোটের তরফে বলা হয়েছে, আদেশ অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের সময় এখনো শেষ হয়ে যায়নি।

সংবিধান সংশোধন না করে কেন সংস্কার করতে হবে সে যুক্তি তুলে ধরে তারা বলেছে, সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন ডাকার সময় এখনো শেষ হয়ে যায়নি।

রোববার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জামায়াত জোট তাদের এ অবস্থান তুলে ধরেছে বলে জোটের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পড়েন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, যেখানে ১১ দলীয় ঐক্য কয়েকটি দাবি তুলে ধরা হয়েছে।

দাবিগুলো হল-গণভোটের রায় যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা; জুলাই জাতীয় সনদে অন্তর্ভুক্ত এবং গণভোটে অনুমোদিত সাংবিধানিক সংস্কারগুলো বাস্তবায়ন করা; গণভোটে অনুমোদিত প্রক্রিয়াকে পাশ কাটিয়ে সংসদীয় বিশেষ কমিটির মাধ্যমে মৌলিক সাংবিধানিক সংস্কার বাস্তবায়নের বর্তমান উদ্যোগ প্রত্যাহার; নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় শপথ গ্রহণ করিয়ে পরিষদকে কার্যকর করা; সংবিধানের মৌলিক কাঠামো সংশ্লিষ্ট পরিবর্তন আনার উদ্যোগ থেকে বিরত থাকা।

গোলাম পরওয়ার বলেন, “আমরা জুলাই জাতীয় সনদের ভিত্তিতে সাংবিধানিক সংস্কারের পক্ষে। আমরা গণভোটে জনগণের দেওয়া রায় বাস্তবায়নের পক্ষে। জনগণের সার্বভৌম ও গাঠনিক ক্ষমতার মর্যাদা রক্ষার পক্ষে। কিন্তু সংসদীয় বিশেষ কমিটির মাধ্যমে গণভোটে অনুমোদিত সংস্কার প্রক্রিয়ার বিকল্প তৈরির উদ্যোগ আমরা গ্রহণযোগ্য মনে করি না।”

তিনি বলেন, “একই তফসিলে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। গণভোটে জনগণের সামনে জুলাই জাতীয় সনদে অন্তর্ভুক্ত সাংবিধানিক সংস্কার বাস্তবায়নের সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়া ও কাঠামোর বিষয়ে মতামত চাওয়া হয়েছিল।

“জনগণ শুধু বিচ্ছিন্ন কিছু সংস্কারের পক্ষে মত দেয়নি; বরং সাংবিধানিক সংস্কার বাস্তবায়নের একটি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া ও প্রতিষ্ঠানকে অনুমোদন দিয়েছে।”

সংবিধানের মৌলিক কাঠামো পরিবর্তনের ক্ষেত্রে সংসদের সংশোধনী ক্ষমতা সীমাহীন নয় দাবি করে জামায়াতের এই নেতা বলেন, “বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আদালতের বিভিন্ন রায়ে সংবিধানের মৌলিক কাঠামো সংরক্ষণের নীতি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।”

তার মতে, “সংসদে প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলেই সংবিধানের মৌলিক কাঠামো পরিবর্তনের ক্ষমতা সৃষ্টি হয় না। প্রশ্ন শুধু সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা আছে কি না, তা নয়। মৌলিক প্রশ্ন হল-যে ক্ষমতা প্রয়োগ করা হচ্ছে, সেই ক্ষমতার উৎস কী এবং জনগণ কোন প্রক্রিয়ায় সেই ম্যান্ডেট দিয়েছেন।”

গোলাম পরওয়ার বলেন, “জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা, জুলাই জাতীয় সনদ এবং গণভোটে প্রকাশিত জনগণের রায়-এ তিনটির প্রতি সম্মান দেখানোই বর্তমান সাংবিধানিক মতপার্থক্য নিরসনের গণতান্ত্রিক পথ।”

সরকারের পক্ষ থেকে সংবিধান সংস্কার পরিষদের আইনগত ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে দাবি করে তিনি সংবিধানের ১৫২ অনুচ্ছেদে ‘আইন’-এর সংজ্ঞা তুলে ধরেন।

জামায়াতের এই নেতা বলেন, “অধ্যাদেশ, আদেশ, বিধি, প্রবিধান, প্রজ্ঞাপন ও অন্যান্য আইনগত দলিল, যেগুলোর বাংলাদেশের আইনে কার্যকারিতা রয়েছে, সেগুলোও আইনের আওতাভুক্ত।”

তিনি বলেন, “সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের জন্য ২০২৫ সালের ১৩ নভেম্বর যে আদেশ দেওয়া হয়েছে, সেটিকে আইনগত ভিত্তিহীন বলা হচ্ছে। অথচ সংবিধানের ১৫২ অনুচ্ছেদে আইনগত দলিলের যে সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে, তার আলোকে রাষ্ট্রপতির ঐ আদেশ আইনের মর্যাদা সংরক্ষণ করে- এটাই হল সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের আইনি ভিত্তি।”

গণভোটের রায় বাস্তবায়নের জন্য সংবিধান সংস্কার পরিষদকে কার্যকর করার সুযোগ এখনো রয়েছে মন্তব্য করে গোলাম পরওয়ার বলেন, “এখনো সময় শেষ হয়ে যায়নি। সংসদ সদস্যদের সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ দেওয়া যায়, পরিষদের অধিবেশন ডাকা যায় এবং গণভোটের রায় অনুযায়ী প্রক্রিয়াটি কার্যকর করা যায়।”

১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদের সঞ্চালনায় সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন এলডিপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বিল্লাল হোসেন মিয়াজী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব জালালুদ্দীন আহমদ; বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির মহাসচিব মুসা বিন ইযহার, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাগপার সহ-সভাপতি ও মুখপাত্র রাশেদ প্রধান।