Published : 19 Sep 2026, 11:55 AM
এগার দলীয় ঐক্যের ছয় দফাকে ‘জনগণের দাবি’ বর্ণনা করে সেসব মেনে নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন জামায়াত আমির শফিকুর রহমান।
তিনি বলেছেন, “আমরা কোনো দলীয় দাবি নিয়ে মাঠে নামিনি। জনতার দাবি মেনে নেওয়ার চেষ্টা করুন। দাবিগুলো যখন এক দফায় পরিণত হবে, তখন পরিস্থিতি কিন্তু খুবই ভয়াবহ হবে।
“আমরা বলি, সেই পরিস্থিতির মুখোমুখো হওয়ার আগে সম্প্রতি অতীত থেকে শিক্ষা নিন। শিক্ষা নিয়ে জনগণের দাবি মেনে নিন।”
শনিবার সকালে ঢাকার মানিক মিয়া অ্যাভেনিউয়ে রংপুর অভিমুখী ‘লং মার্চ’র উদ্বোধনী সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচারসহ ছয় দফা দাবিতে এ কর্মসূচি পালন করছে জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট ‘১১ দলীয় ঐক্য’। এর আগে গত ৫ সেপ্টেম্বর একই দাবিতে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত ‘লং মার্চ’ পালন করে তারা।
শফিকুর রহমান বলেন, “আজকের আট দফা, মনে রাখবেন এটা নয় দফা, দশ দফা হইতে পারে। আবার জাতির প্রয়োজনে এটা যে কোনো সময় এক দফায় পরিণত হতে পারে।”
জামায়াত আমির বলেন, “আজকে আমাদের দ্বিতীয় দফায় লং মার্চ; এর আগে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের লং মার্চ সফল হয়েছে।
“এটা দেখে অনেকের মাথা গরম হয়ে গেছে। সেটার লক্ষণ আমরা রাজধানীতে দেখতে পাচ্ছি। হতাশ হয়ে মাথা গরম করবেন না।”
সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, “দাবি মেনে নিতে ব্যর্থ হলে আর কোনো কিছুতেই কাজ হবে না। কারণ আমরা কোনো কিছু পরোয়া করি না।
“আমরা কোনো দলীয় দাবি নিয়ে মাঠে নামিনি। আমরা ১৮ কোটি মানুষের দাবি নিয়ে মাঠে নেমেছি। আমরা দাবি আদায় করেই ঘরে ফিরব।”
উদ্বোধনী সমাবেশে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, “গণতন্ত্র ও মানবাধিকার—তারেক রহমানের হাতে সুরক্ষিত নয়। বিএনপি সরকার মানবাধিকার সুরক্ষার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এলেও এমন কিছু কালো আইন ও প্রতিষ্ঠান তৈরি করছে, যা উল্টো নাগরিকদের মৌলিক অধিকার হরণের পথ সুগম করছে।”
সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ বলেন, “এভাবে চলতে থাকলে তারেক রহমানকে ঠিক করতে হবে কীভাবে তিনি পদত্যাগ করবেন। কারণ এর আগে এরশাদও সম্মানের সঙ্গে পদত্যাগ করেছি।”
লংমার্চকে শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল রাখতে নেতাকর্মীদের উসকানিতে না জড়ানোর আহ্বান জানান জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।
তিনি বলেন, “কর্মসূচিতে কোনো ধরনের ভাঙচুর, বিশৃঙ্খলা বা অস্থিতিশীলতার চিন্তা নেই। আমাদের গোটা কর্মসূচিই হবে শান্তিপূর্ণ।”
লংমার্চকে শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল রাখতে নেতাকর্মীদের উসকানিতে না জড়ানোর আহ্বান জানান জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।
তিনি বলেন, “কর্মসূচিতে কোনো ধরনের ভাঙচুর, বিশৃঙ্খলা বা অস্থিতিশীলতার চিন্তা নেই। আমাদের গোটা কর্মসূচিই হবে শান্তিপূর্ণ।”
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক বলেন, “আমরা হরতাল, অবরোধের মতো কর্মসূচি দেইনি, যাতে জনগণের দুর্ভোগ হয়। দাবি আদায়ে অতীতের সকল রাজনৈতিক দলের কর্মসূচি থেকে আলাদা মাইল ফলক তৈরি করেছে ১১ দলীয় জোট। জনতার দাবি মানতে ব্যর্থ হলে জনস্রোতে বিএনপি ভেসে যাবে।”
লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান অলি আহমদ বলেন, “ইতোমধ্যে বিএনপি নেতাকর্মীদের ঘরে ঘরে কান্না শুরু হয়ে গেছে। কারণ তারেকের যে সরকার, এটা হল হাসিনার সরকার। সুতরাং তারেককে সাবধান হতে হবে এবং দেশবাসীকেও।”
‘লং মার্চ’ কর্মসূচিতে গাজীপুর, টাঙ্গাইল, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া ও গাইবান্ধায় পাঁচটি পথসভা হওয়ার কথা রয়েছে। রাতে রংপুর জিলা স্কুল মাঠে সমাপনী সমাবেশের মাধ্যমে এদিনের কর্মসূচির ইতি ঘটবে।
জামায়ত জোটের দাবির মধ্যে রয়েছে—গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সার সংকট নিরসন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি বন্ধ, আইনশৃঙ্খলার উন্নয়ন, সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন।