১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

উচ্চশিক্ষা ও চাকরিতে ৫ শতাংশ কোটা চান পাহাড়ি শিক্ষার্থীরা

পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ ও হিল উইমেন্স ফেডারেশন রাঙামাটি জেলা শাখা এ কর্মসূচি করে।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 17 Sep 2026, 06:38 PM

Updated : 17 Sep 2026, 06:38 PM

উচ্চশিক্ষা ও সরকারি চাকরিতে আদিবাসীদের জন্য পাঁচ শতাংশ কোটা পুনর্বহালের দাবি জানিয়েছেন পাহাড়ি শিক্ষার্থীরা।

একই সঙ্গে পার্বত্য চট্টগ্রামের শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং পাঠ্যবইয়ে আদিবাসীদের ইতিহাস ও পরিচয় সঠিকভাবে তুলে ধরার দাবি জানিয়েছেন তারা।

বৃহস্পতিবার ৬৪তম শিক্ষা দিবস উপলক্ষে রাঙামাটিতে মিছিল ও সমাবেশ থেকে এসব দাবি জানানো হয়। পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ ও হিল উইমেন্স ফেডারেশন রাঙামাটি জেলা শাখা এ কর্মসূচি করে।

সকালে কুমার সুমিত রায় জিমনেসিয়াম প্রাঙ্গণ থেকে মিছিলটি বের হয়। শহরের প্রধান সড়ক ঘুরে মিছিলটি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে সমাবেশ হয়।

সমাবেশে পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ী ছাত্র পরিষদের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক অন্তর চাকমা বলেন, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এখনো আদিবাসীদের জন্য পাঁচ শতাংশ শিক্ষা কোটা চালু হয়নি।

দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও পর্যাপ্ত কোটার ব্যবস্থা নেই বলে দাবি করেন তিনি।

পাঠ্যবইয়ে আদিবাসীদের ইতিহাস ও পরিচয় সঠিকভাবে তুলে ধরা হয় না বলেও অভিযোগ করেন অন্তর চাকমা। ‘ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী’ ও ‘উপজাতি’ শব্দ ব্যবহারের মাধ্যমে আদিবাসীদের জাতিগত পরিচয় মুছে দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।

সাবেক ছাত্রনেতা দীপন চাকমা বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে পাহাড়িদের মাতৃভাষা নিয়ে ব্যঙ্গ ও হয়রানির ঘটনা ঘটছে।

অন্তর্ভুক্তির কথা বলা হলেও আদিবাসীদের বিভিন্নভাবে আলাদা করে রাখা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

হিল উইমেন্স ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য কবিতা চাকমা বলেন, দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় যোগাযোগের সমস্যা ও নানা বঞ্চনার কারণে শিক্ষা পিছিয়ে রয়েছে। অনেক এলাকায় স্কুল নেই, আবার কোথাও স্কুল থাকলেও পর্যাপ্ত শিক্ষক নেই। এতে শিক্ষার্থীরা মানসম্মত শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

সমাবেশে শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন ও পাঁচ শতাংশ কোটা পুনর্বহালসহ ছয় দফা দাবি তুলে ধরা হয়।

পরে এসব দাবি নিয়ে রাঙামাটি জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে শিক্ষামন্ত্রী এবং রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়।