Published : 16 Sep 2026, 06:38 PM
নোয়াখালীর এক গ্রামের বাসিন্দারা ঘুম থেকে উঠে এলাকায় একটি পোস্টার দেখে অবাক হয়েছেন। এ নিয়ে তাদের আলোচনা-সমালোচনার পাশাপাশি হাস্যরসও সৃষ্টি হয়েছে।
পোস্টারটি সাঁটানো হয়েছে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার সিরাজপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাবেক সভাপতি মাসুদুর রহমান খোকনের (৩৫) নামে। সেখানে তার ছবিও রয়েছে।
পোস্টারে লেখা রয়েছে, “আমি চেয়ারম্যান হিসেবে জয়ী হলে সবার ঘরে ঘরে বিনা টাকায় গাঁজা–ইয়াবা ফ্রীতে দিবো!”
মাসুদুর রহমান খোকন বলছেন, তিনি নিজের নামে এ ধরনের কোনো পোস্টার ছাপেননি। তিনি চেয়ারম্যান প্রার্থীও না।
বিষয়টিকে ‘জামায়াতে ইসলামীর ষড়যন্ত্র’ আখ্যা দিয়েছেন তিনি। তবে জামায়াত বলছে, এর সঙ্গে তাদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
মাসুদুর রহমান খোকন শাহজাদপুর গ্রামের খলিল ভূঞা বাড়ির মো. আবুল হোসেনের ছেলে। তিনি ২০১৫ সাল থেকে দুইবার ৮ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। তিনি পুনরায় একই পদের প্রার্থী।
স্থানীয়রা বলছেন, সোমবার রাত থেকেই গ্রামের বিভিন্ন স্থানে পোস্টারটি দেখা যাচ্ছিল। মঙ্গলবার সকাল থেকে মানুষের মুখে মুখে বিষয়টি ছড়িয়ে পড়ে।
সবাই কৌতুহল নিয়ে সেই পোস্টার পড়ছেন। এ নিয়ে নানা আলোচনা হচ্ছে। অনেকে বিষয়টিকে হাস্যরস হিসেবে দেখছেন।
পোস্টারটিতে খোকনকে ‘গাঁজার ডিলার’ ও ‘দুর্নীতিবাজ’ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
জানতে চাইলে মাসুদুর রহমান খোকন বলেন, “কয়েক দিন আগে আমার ছেলেকে স্কুলে চড় মারে ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর আমির আবুল হাসেমের ছেলে। এ নিয়ে আমি প্রতিবাদ করি। ওই সময় থেকে তারা আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার করছে।”
মাদকের সঙ্গে নিজের বা পরিবারের কোনো সদস্যের সম্পৃক্ততা নেই দাবি করে যুবদল নেতা বলেন, “আমার নিজের দল ক্ষমতায় এলেও আমি এখনও আগের মতই গাছ কেটে জীবিকা নির্বাহ করি। সমাজের মানুষ এটা জানে। এটা আমার বিরুদ্ধে তাদের ষড়যন্ত্র।”
অভিযোগের বিষয়ে প্রশ্ন করলে সিরাজপুর ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর আমির আবুল হাসেম বলেন, “খোকনকে নিয়ে তার দলের মধ্যেই মাদক সংক্রান্ত বিরোধ রয়েছে। স্কুলে খোকনের ছেলে আমাদের বাড়ির এক ছাত্রীকে উত্ত্যক্ত্য করে।
“তবে পোস্টার লাগানোর সঙ্গে আমি বা আমার পরিবারের কোনো সদস্যদের ন্যূনতম সম্পৃক্ততা নেই।”
এদিকে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ওমর ফারুক বলেন, এ ধরনের ঘটনায় ভুক্তভোগী মানহানির মামলা করতে পারেন। এক্ষেত্রে নিয়ম হচ্ছে, ভুক্তভোগী থানায় সুনির্দিষ্ট অথবা অজ্ঞাত আসামি করে থানায় অভিযোগ করবেন। এরপর অভিযোগ তদন্ত করে কী ধরায় এটি ফৌজদারি অপরাধ তা দেখে অভিযোগপত্র দেবে পুলিশ।
তিনি বলেন, “এ ধরনের ঘটনা নিঃসন্দেহে ফৌজদারি অপরাধ। এ ধরনের কাজ সমাজে কেবল একজনের মানহানিই ঘটায় না, একই সঙ্গে সমাজে অস্থিরতা সৃষ্টি করে।”
কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি নুরুল হাকিম বলেন, এ ধরনের পোস্টার সাঁটানোর বিষয়টি তিনি শুনেছেন।
“তবে এ ঘটনায় থানায় কেউ অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”