Published : 05 Jun 2025, 03:38 PM
ঈদের সময়ে বাড়িতে অতিথি আগমনের প্রস্তুতি নিতে হয় কম সময়ের মধ্যে। তবে ব্যস্ততা এবং নানান কাজের চাপের মধ্যে অনেক সময় পুরোপুরি বাড়ি সাজানো হয় না।
তখন হঠাৎ করে মেহমান এসে গেলে চিন্তায় পড়ে যেতে হয়।
অন্দরসজ্জাবিদ গুলশান নাসরিন এই বিষয়ে বলেন, “ঘর গোছানোর কাজগুলোকে ছোট ছোট ভাগে ভাগ করতে হবে আর পরিকল্পনা করে দ্রুত কাজ শেষ করে ফেলারও চেষ্টা থাকতে উচিত। এতে সময় বাঁচবে এবং কাজও হবে নিখুঁত।”
তিনি আরও বলেন, “যত দ্রুত সম্ভব ময়লা ও আবর্জনা সরিয়ে বাড়ির কেন্দ্রীয় জায়গাগুলোতে বেশি মনোযোগ দিতে হবে।”
প্রথমেই সরাতে হবে অপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র
বাড়ির যে কোনো জায়গায় যদি অগোছালো জিনিস পড়ে থাকে তাহলে অতিথিদের সবচেয়ে দ্রুত চোখে পড়ে। তাই ঘর গোছানোর প্রথম কাজ হল অপ্রয়োজনীয় জিনিসগুলো সরিয়ে ফেলা।
অপ্রয়োজনীয় মানে এমন সব জিনিস যেগুলো এই মুহূর্তে ব্যবহার করছেন না। যেমন- অগোছালো কাগজপত্র, খেলনা, পত্রিকা কিংবা অপরিষ্কার থালা-বাসন ইত্যাদি।
অতিথি আসার ক্ষেত্রে যদি খুবই কম সময় থাকে, তবে এসব জিনিস একটি বড় ঝুড়িতে একত্রিত করে সরিয়ে রাখতে হবে।
মেহমান চলে গেলে সেগুলো ফের গোছানোর পরিকল্পনা করতে হবে। এছাড়া যে ঘরে ঝুড়িতে রাখা জিনিসগুলো থাকবে, সে ঘরের দরজা বন্ধ রাখলেই এসব জিনিস গোপন থাকবে এবং ঘর অনেক পরিচ্ছন্ন দেখাবে।
ঢোকার জায়গা বা ‘এন্ট্রি ওয়েতে’ পায়ের জুতা গোছানো বা বড় একটা বাক্সে রেখে দিলে বাড়ি দেখতে অনেক সুন্দর এবং যত্নশীল লাগে।
আবর্জনা এবং দুর্গন্ধ মুক্ত রাখা
বাড়ির আবর্জনা ঝুড়ি, ফেলে রাখা খাবারের বাক্স বা দুর্গন্ধযুক্ত পণ্যগুলো খুব দ্রুত ঘরকে অস্বস্তিকর করে তোলে।
অতিথি আসার আগে আবর্জনার ঝুড়ি খালি করে নতুন প্লাস্টিকের ব্যাগ দিতে হবে। এছাড়া বাথরুম, রান্নাঘর ও পোষা প্রাণী থাকলে সেগুলো বিছানার আশপাশের দুর্গন্ধ তাড়াতাড়ি পরিষ্কার করে ফেলতে হবে।
যেহেতু অনেক জায়গায় পোকামাকড়ের সমস্যা থাকতে পারে, তাই আবর্জনা নিয়মিত ফেলা এবং পরিষ্কার রাখা খুব জরুরি।
পোষ্য বা পোষা প্রাণী থাকেল- বিছানায় ‘ফ্যাব্রিক স্প্রে’ ব্যবহার করলে দুর্গন্ধ কমে এবং তাজা গন্ধ আসে।
রান্নাঘর ও বসার ঘরসহ সমস্ত বড় বড় টেবিল দ্রুত মোছা
রান্নাঘর বা বসার ঘরের ধুলা ও নোংরা খুব চোখে পড়ে। যা একদম দ্রুত মুছে ফেলতে হবে। মাইক্রফাইবার কাপড় ব্যবহার করলে খুব সহজেই ধুলা মুছে ফেলা যায়।
প্রথমে শুকনা কাপড় দিয়ে ধুলা ঝেড়ে নিতে হবে। এরপর সামান্য ভেজা কাপড় দিয়ে টেবিল, সিংক, বাথরুমের বেসিন, দরজার হ্যান্ডেল ইত্যাদি দ্রুত পরিষ্কার করতে হবে। এই কাজগুলো করলে ঘর অনেক বেশি পরিচ্ছন্ন মনে হবে।
বাথরুমে একদম দ্রুত পরিষ্কার এবং সুগন্ধি রাখা
বাথরুম সবচেয়ে বেশি নোংরা হয় এবং অতিথিরা একবার বা তার বেশি বাথরুম ব্যবহার করবেন এটাই স্বাভাবিক।
তাই বাথরুমের কমোড, সিংক, আয়না দ্রুত মুছে ফেলতে হবে। নতুন ও পরিষ্কার তোয়ালে রাখা জরুরি, যেটা মেহমানরা ব্যবহার করবে।
গরম আবহাওয়া এবং আর্দ্রতা বেশি থাকার কারণে বাথরুমে দুর্গন্ধ বা ছত্রাক হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। সময় করে হালকা সুগন্ধি মোমবাতি জ্বালানো যেতে পারেন বা বাথরুমে সুগন্ধি স্প্রে ব্যবহার করা যেতে পারে যাতে বাথরুমে সতেজ গন্ধ থাকে।
যেই ঘরেই অতিথিরা বসবেন বা খাবার খাওয়ার জায়গা পরিষ্কার
ঈদের বিশেষ আয়োজন যেমন- ডিনার পার্টি বা রাতের খাবারের অনুষ্ঠান, চা-নাশতার জন্য অনেকেই বসার ঘর বা ডাইনিং রুম সাজান। সেই ঘরটি মুছে, ধুয়ে, পিলো ও কুশনগুলোকে ফুলিয়ে রাখতে হব্র।
যদি সম্ভব হয়, ‘ফ্লোর ভ্যাকুয়াম’ বা ঝাড়ু দিয়ে পরিষ্কার করতে হবে।
অনেক পরিবারের পোষা প্রাণী আছে। তাদের খেলনার নরম অংশ ঘরের নানান জায়গায় ছড়িয়ে থাকে। সেই অংশগুলো পরিষ্কার করতে হবে যাতে ঘর আরও পরিষ্কার দেখায়।
অতিরিক্ত পরামর্শ
মেহমানের চোখে ঘর সাজানো: ঘর গোছানোর পর নিজেকে অতিথি মনে করে বাড়ি ঘুরে দেখতে হবে। কোনো দাগ বা হাতের ছাপ, অগোছালো জায়গা আছে কিনা দেখা জরুরি। যেমন- ফ্রিজের দরজায় হাতের দাগ, করিডোরের দেয়ালে দাগ বা মেঝেতে ধুলা থাকলে তা পরিষ্কার করতে হবে।
আলো-আঁধার ঠিক করা: খুব বেশি আলো না দিলে ছোট ছোট ধুলোর দাগ কম চোখে পড়ে। রাতে একটু হালকা আলো বা মোমবাতি জ্বালালে বাড়ি দেখতে আরও আরামদায়ক হয়।
ঘরের বিভিন্ন জায়গায় ফুলের ফুলদানি বা সুগন্ধি স্প্রে রাখা: ঈদে তাজা ফুল যেমন- গোলাপ, গাঁদা বা জুঁই ফুল ব্যবহার করলে বাড়িতে সুগন্ধি ছড়ায় ও ঘরের সাজে প্রাণবন্তভাব আসে।
অগোছালো ঘরের দরজা বন্ধ রাখা
শিশুদের খেলনার ঘর বা ওয়াশরুমে যেখানে কাজ করা হয়নি সেখানের দরজা বন্ধ রাখলে সমস্যা ঢেকে রাখা সম্ভব হবে।
আরও পড়ুন