Published : 06 Apr 2025, 05:37 PM
শয়নঘর যেন বিশ্রামের জন্য একটি শান্তিপূর্ণ জায়গা হয়- এ চাওয়া সবারই। তবে অনেক সময়ই ঘরটি হয়ে ওঠে অগোছালো।
শোবার ঘরে অযথা জিনিসপত্রের বিশৃঙ্খলা ও অপরিষ্কার অবস্থা মানসিকভাবেও চাপ সৃষ্টি করে। তবে কিছু সহজ পরিবর্তন এবং অভ্যাসের মাধ্যমে বিশ্রামের এই ঘর পরিষ্কার রাখা সম্ভব।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কিছু ছোট পরিবর্তন পরিষ্কারের এই কাজটিকে সহজ করতে সাহায্য করে। এর জন্য সহজ পরিবর্তন দরকার, যা প্রতিদিনের অভ্যাসে যুক্ত করলে শয়ন-ঘরকে সবসময় পরিষ্কার রাখা সম্ভব।
সজ্জা সহজ করা
প্রতিদিন সকালে বিছানা গুছিয়ে নিলে শোবার ঘর অনেকটাই পরিষ্কার দেখা যাবে। তবে অতিরিক্ত বেডিং বা শয্যার সজ্জা কাজকে অনেক জটিল করে ফেলতে পারে।
“যদি বিছানায় টপ শিট ব্যবহার না করেন, তবে সেটি একপাশে রেখে দিতে হবে। শুধু লিনেন ক্লোজেট বা আলমারিতে সঠিকভাবে সংরক্ষণ করতে হবে”- রিয়েলসিম্পল ডটকম’য়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে মন্তব্য করেন যুক্তরাষ্ট্রের ‘বি অর্গানাইজড মেথড’য়ের প্রতিষ্ঠাতা বোনে লিয়া।
শয়নকক্ষে বা বাড়িতে ব্যবহার করা বেডিং, বালিশ, তোশক, তোয়ালে এবং অন্যান্য শয্যাসামগ্রী যেমন- শিট, কম্বল, ডুভেট ইত্যাদি যে একটি নির্দিষ্ট জায়গায় রাখা হয় তাকেই লিনেন ক্লোজেট বলে।
মূলত বেডিং বা তোয়ালে সঠিকভাবে গুছিয়ে রাখতেই এটি ব্যবহার হয়। একই সঙ্গে এটি এক ধরনের পরিপাটি রাখার পদ্ধতিও।
কোনো বেডিং বা টপ শিট ব্যবহার না করলে, সেটি যেন উল্টে না পড়ে বা অগোছালো না হয়, তার জন্য সঠিক স্থানে রাখার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। এর ফলে শয়নকক্ষ বা অন্যান্য জায়গা অগোছালো হবে না এবং ঘরটিও পরিষ্কার এবং গোছানো থাকবে।
এছাড়া, অনেক বেশি ‘ডেকোরেটিভ পিলো’ বা সোফার বালিশ রাখলে তা মেঝেতে পড়ে গিয়ে বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে পারে।
যারা গরমে এসি চালান তারা ঘুমানোর সময় ডুভেট ব্যবহার করেন। ডুভেট মূলত একটি প্রকারের কম্বল যা সাধারণত সুতির বা সিনথেটিক কাপড় দিয়ে তৈরি হয়ে থাকে।
এর ভেতরে সাদা পাখির পালক, ‘সিনথেটিক ফাইবার’ বা অন্যান্য হালকা ও নরম উপকরণ ভরা থাকে।
এটি সাধারণত শীতে ব্যবহৃত হলেও যারা এসির ঠাণ্ডায় ঘুমাতে পছন্দ করেন তারা গরমেও এটি ব্যবহার করেন। তবে ঘর গুছানোর জন্য ডুভেটের সঙ্গে ঝামেলা করতে না চাইলে সহজ ডেকোরেটিভ কমফোর্টারও ব্যবহার করা যায়।
যা ধোয়া সহজ এবং ডুভেট কভার ছাড়াও কাজ করে। এই ধরনের ছোট পরিবর্তন কিন্তু সকালের রুটিনকে সহজ করে দেবে। ফলে শয়নঘরও পরিষ্কার রাখতে সুবিধা হবে।
প্রতিদিনের রুটিনে ‘পরিষ্কার’ বিষয়টি যুক্ত করা
রাতের রুটিনে যেমন- ত্বকের যত্ন ও দাঁত ব্রাশ করার সময় থাকে। তেমনি কিছু সময় একটু পরিষ্কার রাখার অভ্যাসও যুক্ত করা যায়।
বোনে লিয়া বলছেন, “আমি যখন বিছানা ছাড়ি, তখন পাঁচ মিনিট সময় নিয়ে মেঝে থেকে প্রথমে জিনিস তুলে ফেলি। আর রাতে বিছানায় যাওয়ার আগে আবার সেই একই কাজ করি।”
প্রতিদিনই মেঝে থেকে কাপড় বা অন্যান্য বস্তু তুলে ফেলার অভ্যাস করতে হবে। প্রতিটি জিনিস যেখানে রাখার সেখানেই রাখার বিষয়ে মনোযোগ বাড়াতে হবে। কখনও মেঝে বা পাপোশের ওপর কিছু ফেলে রাখা যাবে না। এতে করে সব সময়েই শয়ন ঘর পরিষ্কার থাকবে এবং কাপড় বা অন্য জিনিসপত্রের বড় বড় ‘গাদা’ জমবে না।
পরিষ্কার করার সময় নির্ধারণ
প্রতিদিন দ্রুত ছোট ছোট পরিষ্কার করে থাকলে তা ভালো অভ্যাস। তবে কখনও কখনও বড় আকারের পরিষ্কারের প্রয়োজনও হতে পারে।
বোনে লিয়া আরও বলেন, “যতটা সম্ভব প্রতিদিন কিছু না কিছু পরিষ্কার করার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। তবে, বড় কাজগুলোর জন্য সপ্তাহে একদিন সময় নির্ধারণ করতে হবে। সেদিন ড্রেসার বা কেবিনেট গুছায়ে রাখতে পারেন।”
তাই দিনের মধ্যে কোনো সময়টি পরিষ্কার করেন তা নির্দিষ্ট করতে হবে। এর ফলে বড় পরিষ্কারের কাজ সহজ হয়ে যাবে।
লক্ষ্য ভাগ করা
বড় কাজগুলো একসঙ্গে করতে চান অনেকেই। তবে বড় কাজ একসঙ্গে করা সবসময় সহজ নয়।
যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক মানসিক স্বাস্থ্য পরিষেবা প্রতিষ্ঠান ‘কাউন্সেলিং অ্যান্ড ওয়েলনেস সেন্টার অফ পিটসবার্গ’- এর প্রতিষ্ঠাতা ও মানসিক স্বাস্থ্য পরামর্শক স্টেফানি উইকস্ট্রোম একই প্রতিবেদনে বলেন, “যদি বড় একটি কাজ করতে চান, তবে সেটি ছোট ছোট ভাগে ভাগ করে নিতে হবে। এসএমএআরটি পদ্ধতি অনুসরণ করলে কাজটি আরও সহজ হবে। এসএমএআরটি হল নির্দিষ্ট, মাপযোগ্য, সাধ্য, প্রাসঙ্গিক এবং সময়সীমাবদ্ধ।"
এটি মানে হল- ক্লোজেট বা আলমারি যখন গুছাচ্ছেন তখন কাজ নিদিষ্ট করা, কাজের মাপ বুঝে করা, নিজের সাধ্য বোঝা, কতখানি প্রাসঙ্গক তা নির্ধারণ এবং সিডিউল বা সময় ভাগ করে গুছিয়ে রাখা।
যেহেতু কাজগুলোকে ছোট ছোট লক্ষ্য হিসেবে করা হবে, তাই ঘর গুছানোর কাজটি করতে আরও সহজ হবে।
মেঝেতে কাপড় না ফেলা
শোবার ঘরে মেঝেতে কাপড় ফেলা থাকলে ঘরকে অনেক বেশি বিশৃঙ্খল এবং অগোছালো করে তোলে।
এই অভ্যাস দূর করা সহজ যদি শুধু একটি নির্দিষ্ট জায়গায় কাপড় রাখার বিষয়ে খেয়াল বাড়ানো যায়।
যদি আলমারিতে কাপড় রাখা সম্ভব না হয় তবে একটি ভালো মানের হ্যাম্পার, বস্তা বা ঝুড়ি ব্যবহার করা যেতে পারে। যেখানে প্রতিদিনের ব্যবহার করা কাপড় রাখা হবে।
এই অভ্যাস যে শুধু সময় বাঁচায় তা নয়, ঘরের শোভাও বাড়ায়।
ঘরের মধ্যে চাইলে পরিষ্কার তবে পরিধানযোগ্য না এমন কাপড়ের জন্য আলাদা একটি হ্যাম্পার বা আলমারি রাখা যায়।
আরও পড়ুন