Published : 06 Apr 2026, 02:20 PM
বছর ঘুরে পোশাকে আসে নতুন ট্রেন্ড, সাজসজ্জা ও অন্য ফ্যাশনও বাদ থাকে না। তবে এর বাইরে ঘরের সাজেও চলে প্রবণতার যোগ আর বিয়োগ। মানে ঘর সাজানোর ধরনও বদলে যায়।
কখনও গ্রামীণ আবহের অনুপ্রেরণা, কখনও পুরানো দিনের সাজ, আবার কখনও সরল ও আধুনিক মিশ্রণ— সব মিলিয়ে এক ধরনের গতিধারা তৈরি হতেই থাকে।
আর চলতি ধারার ভিড়ে নিজের পছন্দ ও প্রয়োজন ভুলে ঘরের সাজ হয়ে উঠছে অন্যের অনুকরণে।
অন্দরসজ্জাবিদ গুলশান নাসরিন বলেন, “ঘরের সাজে নিজের জীবনযাত্রা ও পছন্দকে অগ্রাধিকার দিলে তা দীর্ঘমেয়াদে সন্তুষ্টি দেয়, ট্রেন্ড বদলানোর পরেও।”
ট্রেন্ড কেন স্থায়ী নয়
ঘর সাজানোর ট্রেন্ড বা ধারা এখন খুব দ্রুত পরিবর্তিত হয়। এখন যেটা জনপ্রিয়, কয়েক মাস পর সেটিই পুরানো মনে হতে পারে।
এই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মেলাতে গেলে বারবার খরচ করতে হয়, যা অযৌক্তিকও বটে।
তাই শুধু চলতি ধারা দেখে সিদ্ধান্ত নিলে ঘরের সাজে স্থায়িত্ব আসে না।
বিনিয়োগের জায়গায় সচেতনতা
ঘর সাজানো শুধু সৌন্দর্যের বিষয় নয়, এটি বড় বিনিয়োগও। ঘরের বড় পরিবর্তন করতে গেলে সময়, শ্রম এবং অর্থ সবই প্রয়োজন হয়।
তাই সিদ্ধান্ত এমন হওয়া উচিত, যা দীর্ঘদিন ধরে ভালো লাগবে। শুধু জনপ্রিয়তা নয়, বরং নিজের স্বাচ্ছন্দ্য এবং ব্যবহারিক প্রয়োজনই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
নিজের ভেতরের রুচিকে বোঝা
ঘরকে নিজের মতো করে সাজাতে হলে প্রথমে নিজের পছন্দকে বুঝতে হবে। তাই ঘর সাজানোর সময় বাহ্যিক প্রভাব থেকে সরে গিয়ে ভাবতে হবে।
কোন জিনিসটি সত্যিই আনন্দ দেয়, কোনটি দীর্ঘদিন ভালো লাগবে তা ভাবতে হবে। এটি অনেকটা নিজের জন্য বেছে নেওয়ার মতো একটি প্রক্রিয়া।
যে জিনিসগুলো স্মৃতি, অনুভূতি বা ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার সঙ্গে যুক্ত, সেগুলোই ঘরকে আলাদা করে তোলে। এগুলো কখনও পুরানো হয় না, কারণ এগুলো ট্রেন্ড নয় বরং ব্যক্তিত্বের অংশ।
ব্যবহারিক দিক যে কারণে গুরুত্বপূর্ণ
ঘরের সৌন্দর্যের পাশাপাশি ব্যবহারিক দিকও সমানভাবে গুরুত্ব দেওয়া উচিত। প্রতিদিন যে জায়গাগুলো বেশি ব্যবহার হয়, সেখানে টেকসই এবং সহজে রক্ষণাবেক্ষণযোগ্য উপকরণ বেছে নেওয়া প্রয়োজন।
চকচকে বা আয়নার মতো উপরিভাগ দেখতে সুন্দর হলেও তা পরিষ্কার রাখা কঠিন হতে পারে, বিশেষ করে যদি ঘরে ছোট শিশু বা পোষা প্রাণী থাকে।
এই কারণে ঘরের মূল কাঠামো যেমন- আলমারি, মেঝে বা টেবিল— এসব ক্ষেত্রে ব্যবহারিকতা এবং স্থায়িত্বকে প্রথমে মূল্যায়ন করতে হবে।
অর্থবহ উপাদানে ঘরের সাজ
ঘর নিজের হয়ে ওঠে যদি সেখানে ব্যক্তিগত ছোঁয়া থাকে। প্রিয় কোনো ভ্রমণের স্মৃতি, প্রিয় রং বা পরিবারের পুরানো কোনো ঐতিহ্য ঘরে সাজে বাড়তি আবহ আনে।
এসব উপাদান ঘরে এক ধরনের আবেগ তৈরি করে, যা কোনো ভাবেই ট্রেন্ড দিয়ে পাওয়া সম্ভব নয়। এগুলোই ঘরকে আলাদা ও আনন্দময় করে।
কখন ট্রেন্ড অনুসরণ করা যেতে পারে
যদিও নিজের রুচিকে প্রাধান্য দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ, তবুও কিছু ক্ষেত্রে ট্রেন্ড বা চলতি ধারা অনুসরণ করাও যুক্তিযুক্ত হতে পারে।
সেক্ষেত্রে যদি ভবিষ্যতে ঘর বিক্রি বা ভাড়া দেওয়ার চিন্তা থাকে। তাহলে সাধারণভাবে গ্রহণযোগ্য রং বা সাজসজ্জা ব্যবহার করা ভালো। এতে ক্রেতা বা ভাড়াটিয়াদের কাছে ঘরটি বেশি আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে।
এছাড়া ছোটখাটো পরিবর্তন, যেমন- বালিশের কভার, বিছানার চাদর বা দেয়ালের রং— এসব ক্ষেত্রে ট্রেন্ড অনুসরণ করা সহজ। এগুলো পরিবর্তন করাও সহজ এবং খরচও কম।
সৃজনশীলতা থাকলে পরিবর্তন সহজ
নিজেরা ঘরের কাজ করতে ভালোবাসলে ট্রেন্ড নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা সহজ। কারণ অল্প খরচে এবং নিজের দক্ষতা ব্যবহার করে ঘরের সাজসজ্জায় নতুনত্ব আনা যায়।
আরও পড়ুন