Published : 16 Jul 2026, 05:28 PM
সংসারের জরুরি এবং ব্যস্ত গৃহস্থালি যন্ত্রগুলোর একটি হল রেফ্রিজারেইটর বা ফ্রিজ। বছরের ৩৬৫ দিনই এটি বিরতিহীনভাবে চলতে থাকে।
তবে সঠিক যত্ন আর নিয়মিত পরিষ্কার না করার কারণে অনেক সময়ই ফ্রিজ থেকে দুর্গন্ধ বের হয়, খাবার দ্রুত নষ্ট হয়ে যায় এবং কম্প্রেসরের ওপর চাপ পড়ে বিদ্যুৎ বিল আকাশচুম্বী হয়।
‘আমেরিকান ক্লিনিং ইনস্টিটিউট (এসিআই)’ এবং খাদ্য নিরাপত্তা-বিষয়ক বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক নিয়মে ফ্রিজ রক্ষণাবেক্ষণ করলে এর কার্যক্ষমতা প্রায় দ্বিগুণ বাড়ানো সম্ভব।
ফ্রিজ নতুনের মতো সচল রাখতে এবং খাবারের পুষ্টিগুণ বজায় রাখতে, তাদের দেওয়া ৮টি প্রয়োজনীয় পন্থা নিচে দেওয়া হল।
সঠিক তাপমাত্রা বজায় রাখা
ফ্রিজ ভালো রাখার প্রথম শর্ত হল, এর ভেতরের তাপমাত্রা ঠিক রাখা।
মার্কিন খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসনের (এফডিএ) নির্দেশিকা অনুযায়ী, ফ্রিজের ভেতরের তাপমাত্রা সব সময়, ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা ৪০ ডিগ্রি ফারেনহাইটের নিচে এবং ডিপ ফ্রিজের তাপমাত্রা শূন্য ডিগ্রি ফারেনহাইট (-১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস) হওয়া উচিত।
এই তাপমাত্রায় খাবারে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া জন্মাতে পারে না।
ফ্রিজ একদম খালি বা অতিরিক্ত ভর্তি না করা
ফ্রিজে অতিরিক্ত খাবার গাদাগাদি করে রাখলে ভেতরের ঠান্ডা বাতাস বা ‘এয়ার সার্কুলেশন’ বাধাগ্রস্ত হয়। ফলে খাবার সমানভাবে ঠান্ডা হয় না।
আবার ফ্রিজ একদম খালি রাখলেও তাপমাত্রা ধরে রাখতে কম্প্রেসরের ওপর বেশি চাপ পড়ে।
এসিআই’য়ের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, “ফ্রিজের ভেতরের অন্তত ২০ শতাংশ জায়গা খালি রাখা উচিত, যেন বাতাস সহজে চলাচল করতে পারে।”
কনডেন্সার কয়েল পরিষ্কার রাখা
ফ্রিজের পেছনে বা নিচের দিকে থাকা কনডেন্সার কয়েলটি ফ্রিজের ভেতরের তাপ বাইরে বের করে দিতে সাহায্য করে। দীর্ঘ সময় ধরে এতে ধুলোবালি জমে থাকলে ফ্রিজ ঠিকমতো ঠান্ডা হতে পারে না এবং বিদ্যুৎ খরচ বেড়ে যায়।
বছরে অন্তত দুবার একটি নরম ব্রাশ বা ভ্যাকুয়াম ক্লিনার দিয়ে এই কয়েলের ধুলা পরিষ্কার করা উচিত।
গরম খাবার সরাসরি ফ্রিজে না রাখা
যেকোনো গরম তরকারি বা খাবার রান্না করার পরপরই সরাসরি ফ্রিজে ঢুকিয়ে দেওয়া এক ভুল অভ্যাস। গরম খাবারের কারণে ফ্রিজের ভেতরের তাপমাত্রা হঠাৎ বেড়ে যায়, যা ফ্রিজে থাকা অন্যান্য খাবার নষ্ট করে দিতে পারে।
এছাড়া ফ্রিজকে ঠান্ডা করতে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ খরচ হয়। গরম খাবার, ঘরের স্বাভাবিক তাপমাত্রায় এনে তারপরই ফ্রিজে রাখতে হবে।
ডোর গ্যাসকেট বা রাবার পরীক্ষা করা
ফ্রিজের দরজার চারপাশের রাবার বা গ্যাসকেটের কারণে ভেতরের ঠান্ডা বাতাস বাইরে বের হতে পারে না। এই রাবার আলগা হয়ে গেলে বা ফেটে গেলে ঠান্ডা বাতাস বের হয়ে যায় এবং ফ্রিজ নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।
এটি পরীক্ষা করতে দরজার মাঝে একটি কাগজের নোট বা টাকা রেখে দরজা বন্ধ করতে হবে। যদি কাগজটি সহজেই টেনে বের করা যায়, তবে বুঝতে হবে রাবারটি আলগা হয়ে গেছে এবং এটি পরিবর্তন করা দরকার।
প্রাকৃতিকভাবে দুর্গন্ধ দূর করা
ফ্রিজে মাছ, মাংস বা মসলার তীব্র গন্ধ দূর করতে রাসায়নিক কোনো স্প্রে ব্যবহার করা যাবে না। এর বদলে একটি ছোট বাটিতে সামান্য বেইকিং সোডা অথবা কয়েক টুকরো কাঠকয়লা ফ্রিজের এক কোণায় রেখে দিলে, ফ্রিজের ভেতরের সব দুর্গন্ধ ও অতিরিক্ত আর্দ্রতা শুষে নেবে।
এছাড়া লেবুর রস দিয়ে ফ্রিজের ভেতরটা মুছলেও চমৎকার সুবাস ছড়ায়।
ফ্রিজ দেয়াল থেকে দূরে স্থাপন করা
ফ্রিজ রাখার সময় দেয়ালের সাথে একদম ঠেকিয়ে রাখা উচিত নয়। ফ্রিজের পেছন এবং দুই পাশে অন্তত ১ থেকে ২ ইঞ্চি জায়গা ফাঁকা রাখতে হবে।
এতে ফ্রিজের কম্প্রেসর থেকে তৈরি হওয়া গরম বাতাস সহজেই বাইরে বেরিয়ে যেতে পারে, যা ফ্রিজের আয়ু বাড়ায়।
নিয়মিত ডিফ্রোস্টিং ও পরিষ্কার করা
ফ্রিজটি যদি ‘নন-ফ্রস্ট’ না হয়, তবে বরফ যখন আধা ইঞ্চি পুরু হবে, তখনই ফ্রিজ বন্ধ করে ডিফ্রোস্ট বা বরফ গলিয়ে পরিষ্কার করতে হবে।
বরফ কাটার জন্য কখনোই ছুরি বা ধারালো কোনো বস্তু ব্যবহার করা যাবে না।
প্রতি মাসে অন্তত একবার ফ্রিজের প্লাগ খুলে ভেতরের সব তাক বের করে কুসুম গরম পানি ও বাসন ধোয়ার তরল সাবান দিয়ে পরিষ্কার করতে হবে।
আরও পড়ুন
রাতে ফোন চার্জে দিয়ে ঘুমাচ্ছেন? এজন্য হয়ত কমছে ব্যাটারির আয়ু