উচ্চতা বাড়াতে শিশুকে যেসব খাবার দিতে পারেন
দুধ, ডিম, মাছ, ডাল, সবজি, ফল: শিশুর বৃদ্ধিতে অপরিহার্য খাবারের তালিকা।
বাড়ন্ত শিশুর পুষ্টির চাহিদা মেটাতে অভিভাবকদের সচেতনতা ও যত্ন অত্যন্ত জরুরি।
একই বয়সি সব শিশু একই হারে বাড়ে না— এটি স্বাভাবিক। তবে উচ্চতা বৃদ্ধি নিয়ে উদ্বেগ থাকলে শিশুবিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক চিকিৎসক ডা. আফসানা হক নয়ন জানান- শিশুর উচ্চতা ও বৃদ্ধি নির্ভর করে তিনটি বিষয়ের ওপর— জিনগত বৈশিষ্ট্য, হরমোন এবং পুষ্টি।
জিনগত বৈশিষ্ট্য পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। তবে পুষ্টি ও হরমোনের দিক ঠিক রাখলে শিশু তার সর্বোচ্চ সম্ভাব্য উচ্চতা অর্জন করতে পারে।
শিশুর বৃদ্ধি ও বিকাশের জন্য প্রয়োজন সব ধরনের পুষ্টি উপাদানের সঠিক সমন্বয়। আমিষজাতীয় খাবার, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, পটাসিয়াম, লৌহ, ফসফরাস, ভিটামিন ডি ও ফলিক অ্যাসিড— এসবের ঘাটতি থাকলে উচ্চতা বৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হয়।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের শিশু বিভাগের কনসালট্যান্ট তাসনুভা খান বলেন, “পুষ্টিকর খাবারের পাশাপাশি পর্যাপ্ত শারীরিক কার্যকলাপ ও রোদে থাকাও উচ্চতা বাড়াতে সহায়ক।”
শিশুর উচ্চতা বাড়াতে যেসব খাবার দিতে পারেন-
দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার: দুধ, দই, পনির— ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি’র অন্যতম উৎস। দুধ পান না করতে চাইলে দই, পায়েস বা মিষ্টান্ন তৈরি করে দেওয়া যায়।
ডিম: প্রোটিনের চমৎকার উৎস। হাড় ও পেশির বিকাশে অত্যন্ত উপকারী।
মাছ ও মাংস: মাছে থাকে ওমেগা-থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিডস। মুরগির মাংসও প্রোটিন সরবরাহ করে।
ডাল ও শিমজাতীয় খাবার: ডাল, ছোলা, মটরশুঁটি— প্রোটিন ও আঁশে ভরপুর। ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক।
সবজি: পালংশাক, ব্রকলি, লাউ, ফুলকপি— ভিটামিন ও খনিজের ভালো উৎস। সবজি খেতে না চাইলে সবজি-নুডলস, পাকোড়া বা কাটলেট বানিয়ে দিন। সবজি সেদ্ধ করে পানি ফেলে না দিয়ে জ্যুস বানিয়ে পান করানো উপকারী।
ফলমূল: কলা, খেজুর, মৌসুমি ফল— ম্যাগনেসিয়াম, পটাসিয়াম ও ভিটামিনের উৎস। টক ফল খেলে সবজির লৌহ শোষণ ভালো হয়।
বাদাম ও বীজ: স্বাস্থ্যকর চর্বি ও খনিজ সমৃদ্ধ। পরিমিত পরিমাণে দিতে হবে।
খাবারের বাইরে যা করতে হবে
আরও পড়ুন
