Published : 21 Jul 2026, 04:22 PM
যদিও এখনও সাদা, ধূসর বা সাদামাটা রংয়ের আধিপত্য আছে। তারপরও অনেকেই এমন রং বেছে নেন, ঘরে প্রবেশ করলেই মন ভালো করে দেয়। আর সেই তালিকার রয়েছে মাখন হলুদ।
খুব উজ্জ্বল নয়, আবার একেবারে ফ্যাকাসেও নয়। কোমল হলুদের ছায়া ঘরে অনেকটাই আলো, উষ্ণতা ও প্রশান্তির অনুভূতি তৈরি করে।
তাই দেয়াল থেকে শুরু করে আসবাব, পর্দা, কুশন কিংবা শিল্পকর্ম- সবখানেই এই রংয়ের ব্যবহার করা সম্ভব।
কোন ঘরে সবচেয়ে মানায়
“মাখনের হলুদ রংটি, যা প্রায় সব ঘরেই ব্যবহার করা যায়”, বলেন অন্দরসজ্জাবিদ গুলশান নাসরিন।
ফ্যাশন ও ইন্টেরিয়র ডিজাইন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, রেডিয়েন্ট ইনস্টিটিউট অব ডিজাইন-এর এই প্রতিষ্ঠাতা আরও বলেন, “তবে যেসব জায়গায় দীর্ঘ সময় কাটাতে ভালো লাগে, সেখানে এই রং বেশি কার্যকর। বই পড়ার কোণ, বসার ঘর বা অবসরের ছোট জায়গার জন্য মাখন হলুদ রং যথাযথ হতে পারে।”
এছাড়া খাবার ঘর বা রান্নাঘরেও এটি মানিয়ে যায়। কারণ হলুদ রংয়ে সঙ্গে খাবারের একটি স্বাভাবিক মানসিক সম্পর্ক রয়েছে।
“এটি ক্ষুধা বাড়ানোর পাশাপাশি জায়গাটিকে আরও কোমলভাব যোগ করে”, মন্তব্য করেন এই অন্দরসজ্জাবিদ।
ছোট আকারের ঘরেও মাখনের হলুদ ভালো কাজ করে। বিশেষ করে অতিথিদের ব্যবহারের ছোট গোসলঘর বা ছোট কোনো কক্ষে দেয়াল, ছাদ এবং কাঠের অংশ একই রংয়ে সাজালে ঘরটি অনেক বেশি আরামদায়ক মনে হয়।
ভারসাম্যপূর্ণ সাজসজ্জাই সুন্দর
অন্য কিছু না থাকলেও শুধু মাখনের হলুদ ব্যবহার যায়। আবার এর সঙ্গে অন্য রং ও উপকরণের সঠিক সমন্বয় করলে সৌন্দর্য বাড়ে।
তাই শোবার ঘর বা বসার ঘরে কোমল হলুদের ব্যবহার করা যেতে পারে। এরপর আসবাব, কুশন কিংবা কার্পেটের মাধ্যমে কিছুটা গাঢ় মাটির রং যোগ করলে তা একেবারেই চোখে লাগে না।
“অর্থাৎ হালকা একটি রংকে ভিত্তি হিসেবে রেখে, এর সঙ্গে অল্প পরিমাণে গাঢ় রং ব্যবহার করলে ভিন্নতাও আসে, আবার সেটি অতিরিক্ত ভারীও মনে হয় না”, পরামর্শ দেন গুলশান নাসরিন।
প্রাকৃতিক উপকরণের সঙ্গে মানানসই
“মাখনের হলুদের সঙ্গে প্রাকৃতিক উপকরণের মিল হয় ভালো। বাঁশ, বেত, হালকা কাঠ কিংবা বোনা কাপড়ের ব্যবহার এই রংয়ের সৌন্দর্য বাড়াতে পারে”, বলেন এই অন্দরসজ্জাবিদ।
একই সঙ্গে ডোরাকাটা বা হালকা নকশার কাপড় ব্যবহার করলে একঘেয়েমি চলে যায়। শুধু রং নয়, মসৃণ দেয়ালের সঙ্গে বোনা কাপড়, কাঠ কিংবা প্রাকৃতিক পাথরের ব্যবহারও মানিয়ে যাবে।
যেসব রংয়ের সঙ্গে ভালো মানায়
মাখনের হলুদের যথাযথ সঙ্গী হল, কোমল নীল। এই দুই রং একসঙ্গে ব্যবহার করলে ঘরে শান্ত ও প্রশান্ত পরিবেশ আসে বলে মত দেন- গুলশান নাসরিন।
বিশেষ করে বসার বা শোবার ঘরে এই সমন্বয় চোখে আরাম দেয়।
বাদামি বা মাটির রংও মাখন হলুদের সঙ্গে মানিয়ে যায়। আর ঘরের ভেতর ভারসাম্য তৈরি করে এবং কাঠের আসবাব থাকলে এই সমন্বয় আরও বাড়ে।
সবুজও ভালো হতে পারে। গাছপালা কিংবা সবুজ রংয়ের কুশন, পর্দা অথবা সাজসজ্জার উপকরণ ঘরে প্রকৃতির অনুভূতি আনতে পারে।
এছাড়া অল্প পরিমাণে বেগুনি বা লালের ব্যবহারও করা যায়। তবে এই গাঢ় রংগুলো যেন প্রধান না হয়ে ছোট ছোট অংশে সীমাবদ্ধ থাকে। তাহলে ঘর অতিরিক্ত ভারী লাগবে না।
আরও পড়ুন