৫ অক্টোবর দিনব্যাপী বন্দর ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি সফল করার লক্ষ্যে জাতীয় ফেডারেশন ও বেসিক ইউনিয়নগুলোর নেতাদের সঙ্গে রোববার মত বিনিময় সভা করে বন্দর রক্ষা কমিটি চট্টগ্রাম।
Published : 20 Sep 2026, 07:16 PM
ট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ও চট্টগ্রাম কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি) পরিচালনার ভার বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের হাতে দেওয়ার প্রক্রিয়া ৫ অক্টোবরের মধ্যে বন্ধ না হলে কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দিয়েছে বন্দর রক্ষা কমিটি, চট্টগ্রাম।
রোববার দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে জাতীয় ফেডারেশন ও বেসিক ইউনিয়নের নেতাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় এ বার্তা দেন আন্দোলনকারীরা।
৫ অক্টোবর বন্দর ভবনের সামনে দিনব্যাপী অবস্থান কর্মসূচি সফল করার লক্ষ্যে এ সভার আয়োজন করা হয়।
সভায় বন্দর রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক প্রকৌশলী দেলোয়ার মজুমদার বলেন, “বন্দরের চেয়ারম্যান সাহেব বললেন যে, আমাদের যন্ত্রপাতির সক্ষমতা কমে গেছে। অথচ এনসিটিতে গ্যান্ট্রি ক্রেন ও টায়ার-মাউন্টেড ক্রেন যা দরকার, তার চেয়ে বেশি অলরেডি আমরা ক্রয় করে রেখেছি।
“মানে দুর্যোগকালীন বা কোনো একটা নষ্ট হলে তার বিকল্পও আমাদের হাতে আছে। কোনো স্বল্পতা এখানে নেই।”
বন্দর রক্ষা কমিটির সদস্য সচিব ফজলুল কবির মিন্টু বলেন, “এনসিটি ইজারা দেওয়া হলে দেশের কী লাভ হবে, তা সরকারকে জনগণের কাছে স্পষ্ট করতে হবে। একইভাবে এনসিটি ইজারা দেওয়া হলে দেশের কী ধরনের ক্ষতি হতে পারে, সে বিষয়েও সরকারের সঙ্গে জাতীয় পর্যায়ে সংলাপের প্রয়োজন রয়েছে।
“এ বিষয়ে প্রয়োজনে সরকারের পক্ষ থেকে জাতীয় সংলাপ আয়োজনের আহ্বান জানাচ্ছি। হয় সরকার আমাদের বুঝিয়ে দিক, তা না হলে আমাদের কাছ থেকে বুঝে নিক। বন্দরের সঙ্গে জাতীয় অর্থনীতি ও বিপুলসংখ্যক শ্রমিকের স্বার্থ জড়িত। তাই বন্দরের ব্যবস্থাপনা ও ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনায় জাতীয় স্বার্থের পাশাপাশি শ্রমিকদের অধিকার ও স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।”
ফজলুল কবির মিন্টু বলেন, শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের মাধ্যমে তারা সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চান। তবে শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি ও আন্দোলনকে সরকার দুর্বলতা হিসেবে বিবেচনা করলে তা ভুল হবে।
“সে ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে দাবি আদায়ে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হতে পারে। প্রয়োজনে দেশবাসীকে সঙ্গে নিয়ে কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হব।”
সভায় জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক কাজী শেখ নুরুল্লাহ বাহার বলেন, “এই কর্মসূচি যদি আমরা সফলভাবে পালন করতে পারি, তাহলে সরকার এবং কর্তৃপক্ষের জন্য একটা সিগন্যাল হবে। যে তারা যদি চুক্তির সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়, তাহলে চট্টগ্রাম বন্দর যে কোনো সময় অচল হয়ে যেতে পারে। চট্টগ্রাম অচল হয়ে যেতে পারে।”
জাতীয়তাবাদী ডক শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক তসলিম হোসেন সেলিম বলেন, “ডিপি ওয়ার্ল্ড এলে যে আলাদিনের জাদুর চেরাগের মতো অলৌকিকভাবে এনসিটি-সিসিটির সক্ষমতাকে বৃদ্ধি করে ফেলবে, সে ধরনের কোনো সুযোগ এখানে নাই। কারণ বন্দরের যে বর্তমান অবস্থান, সেটাকে সম্প্রসারণ করে আরও পরিধি বৃদ্ধির সুযোগ এই মুহূর্তে নেই।”
চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি পরিচালনার বিষয়ে দুবাইভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে সরকারের আলোচনা চলছে। গত জুনে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষকে ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেয়। বন্দর চেয়ারম্যানও জুলাইয়ে জানিয়েছিলেন, এ বিষয়ে আলোচনায় দেশের স্বার্থে ‘কোনো ছাড় দেওয়া হবে না’।
এদিকে এনসিটি-সিসিটি পরিচালনার ভার বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের হাতে দেওয়ার প্রক্রিয়া বন্ধের দাবিতে ৫ অক্টোবর বন্দর ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বন্দর রক্ষা কমিটি। সেদিন সকাল ১১টায় এ কর্মসূচি শুরু হবে। চলবে সেদিন সন্ধ্যা পর্যন্ত।
বন্দর রক্ষা কমিটির নেতারা জানিয়েছেন, ওই সময়ের মধ্যে দাবি মেনে নেওয়া হলে তার আগেই অবস্থান কর্মসূচি শেষ করা হবে। দাবি না মানলে সন্ধ্যা পর্যন্ত কর্মসূচি পালন করে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের (টিইউসি) চট্টগ্রাম জেলা কমিটির সভাপতি তপন দত্ত, বাংলাদেশ শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি এস কে খোদা তোতন, জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক শ ম জামাল উদ্দিন, টিইউসি চট্টগ্রাম জেলা কমিটির যুগ্ম সম্পাদক ইফতেখার কামাল খান, জাতীয়তাবাদী ডক শ্রমিক দলের সভাপতি মো. হারুন, সাধারণ সম্পাদক তসলিম হোসেন সেলিম, জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটির সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক আব্দুল বাতেন, সহসম্পাদক ইব্রাহীম ফরাজি, বিএফটিইউসির সভাপতি আনোয়ারুল হক হুনি, বাংলাদেশ লেবার ফেডারেশন চট্টগ্রাম মহানগর কমিটির সাধারণ সম্পাদক আবু আহমেদ মিয়া, বন্দর উইঞ্চ ক্রেন অপারেটর সমিতির নেতা ইমাম হোসেন স্বপন, বেসরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি আব্দুর রহিমসহ বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতারা রোববারের সভায় আলোচনায় অংশ নেন।
সভা থেকে ৫ অক্টোবর বন্দর ভবনের সামনে দিনব্যাপী অবস্থান কর্মসূচিতে সর্বস্তরের শ্রমিক, জাতীয় ফেডারেশন, বেসিক ইউনিয়ন ও শ্রমিক সংগঠনের নেতাকর্মীদের অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
পুরনো খবর-
টার্মিনাল ইজারার উদ্যোগ: বন্দর ভবনের সামনে অবস্থান ৫ অক্টোবর
এনসিটি ইজারা প্রক্রিয়া: এবার আন্দোলনে শ্রমিক দল ও বন্দর রক্ষা পরিষদ