২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪ আশ্বিন ১৪৩৩

এনসিটি ইজারা প্রক্রিয়া: এবার আন্দোলনে শ্রমিক দল ও বন্দর রক্ষা পরিষদ

অন্তর্বর্তী সরকার এনসিটি ইজারার প্রক্রিয়া স্থগিত করলেও বিএনপি সরকার ক্ষমতায় এসে আবার আলোচনার উদ্যোগ নিয়েছে।

এনসিটি ইজারা প্রক্রিয়া: এবার আন্দোলনে শ্রমিক দল ও বন্দর রক্ষা পরিষদ

চট্টগ্রাম বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল ও বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সংবাদ সম্মেলন।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 19 Sep 2026, 09:27 PM

Updated : 19 Sep 2026, 09:27 PM

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল-এনসিটি ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা দেওয়ার কার্যক্রম বন্ধ এবং আগের আন্দোলনের সময় বন্দর কর্মচারীদের বিরুদ্ধে করা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল ও বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ।

দাবি পূরণ না হলে মঙ্গলবার বিকালে নিমতলা বিশ্বরোড হতে ওয়ানস্টপ পর্যন্ত মানববন্ধন এবং ২৭ সেপ্টেম্বর বিকালে বিক্ষোভ মিছিলের ঘোষণা দিয়েছে তারা।

শনিবার আগ্রাবাদের এক রেস্তোরাঁয় সংবাদ সম্মেলন করে এ দুটিসহ মোট চারটি দাবি তুলে ধরেছে বন্দর শ্রমিক দল ও সংগ্রাম পরিষদ।

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) এবং সরকারি পর্যায়ে (জিটুজি) কাঠামোর অধীনে এনসিটি পরিচালনার কাজ ডিপি ওয়ার্ল্ডকে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে সেসময় ওই উদ্যোগ পরিণতি পায়নি।

২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট গণঅভ্যুত্থানের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এনসিটির দায়িত্ব বিদেশি অপরাটেরের হাতে দেওয়ার কার্যক্রম আবার শুরু করে।

অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ সময়ে এ বিষয়ে চুক্তির জোর আলোচনা শুরু হলে আন্দোলনে যায় বন্দরের শ্রমিক কর্মচারীরা।

অন্তর্বর্তী সরকার ৮ ফেব্রুয়ারি এনসিটি বিদেশি অপারেটরকে ইজারা দেওয়ার কার্যক্রম স্থগিত করে।

পরে বিএনপির নতুন সরকার গেল ৪ জুন দুবাইভিত্তিক ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যেতে বন্দর কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেয়।

সরকারের নির্দেশনার পর আলোচনা প্রক্রিয়ায় সহায়তা করার জন্য চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ১২ সদস্যের একটি সাপোর্ট টিমও গঠন করে।

এনসিটির ইজারা প্রক্রিয়া বন্ধের দাবিতে কয়েক মাস ধরে বন্দর রক্ষা কমিটি গণঅনশন, বিক্ষোভ মিছিলসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছে। এবার আন্দোলনে নামার ঘোষণা দিল বন্দর শ্রমিক দল ও বন্দর রক্ষা পরিষদ।

সংবাদ সম্মেলনে সরকারি দলে সমর্থক শ্রমিক সংগঠন ও বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ বলেছে, চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ডিপি ওয়ার্ল্ডের হাতে ইজারা দেওয়ার লক্ষ্যে চুক্তির সকল কার্যক্রম বন্ধ করতে হবে। বিগত আন্দোলনে চট্টগ্রাম বন্দরের নেতৃত্ববৃন্দসহ ১৫ কর্মচারীর বিরুদ্ধে করা মামলা তুলে নিতে হবে।

এছাড়া আওয়ামী লীগ সরকারের আমল থেকে এখনো পর্যন্ত বন্দরে কর্মরত যে সকল কর্মকর্তা এনসিটিকে ডিপি ওয়র্ল্ডের কাছে ইজারা দেওয়ার চুক্তি প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত তাদের অপসারণের দাবি জানিয়েছে সংগঠন দুটি।

দীর্ঘদিন ধরে জনবল নিয়োগ বন্ধ রেখে বন্দরের পরিচালনার চলমান কার্যক্রম স্থবির করে বেসরকারিকরণ প্রক্রিয়া থেকে বেরিয়ে আসার দাবিও তুলেছে তারা।

পাশাপাশি বন্দরের সকল শূন্যপদে জনবল নিয়োগ করে কার্যক্রম গতিশীল করার কথা বলেছেন সংগঠন দুটির নেতারা।

সংবাদ সম্মেলনে বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক হুমায়ুন কবির বলেন, “কোনো অবস্থাতেই চট্টগ্রাম বন্দরে একদিনের জন্যও অস্থিরতা হোক সেটা আমরা চাই না। তবে পরিস্থিতি যদি আমাদের বাধ্য করে আমাদের আসলে আর কিছু করার থাকবে না।”

পরিষদের আরেক সমন্বয়ক ইব্রাহিম খোকন বলেন, “চট্টগ্রাম বন্দর শুধুমাত্র বন্দরের শ্রমিক কর্মচারীদের স্বার্থ নয়। সারা বাংলাদেশের মানুষের অস্তিত্বও বটে। এটিকে যদি সুবিবেচনায় না নিয়ে সরকার যদি চুক্তি করার জন্য বা বিদেশি কোনো শক্তির চাপে যদি চুক্তি করতে যায় তাহলে বন্দর শ্রমিক-কর্মচারীরা নিশ্চয় প্রতিহত করার সর্বোচ্চ পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।”

চট্টগ্রাম বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক তসলিম হোসেন সেলিম বলেন, “বিদেশিদের দিলে চট্টগ্রাম বন্দর যেমন লোকসানের দিকে যাবে ও দক্ষ কর্মশক্তি হারাবে তেমনিভাবে ভূ-রাজনৈতিক ভাবেও বাংলাদেশ একটা বিপদের সম্মুখীন হওয়ার সমূহ আশঙ্কা অনেক বেশি।”

বহুজাতিক কোম্পানিকে ইজারা দিলে সরকার আয় থেকে বঞ্চিত হবে, দেশ থেকে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা পাচার হয়ে যাবে এবং ‘কনসেশন’ চুক্তির কারণে বিপজ্জনক পণ্য খালাসেরও আশঙ্কা রয়েছে বলে দাবি করেন এই নেতারা।